৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৮ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

আল-আকসায় ঈদের নামাজ পড়তে বাধা, মুসল্লিদের ওপর হামলা

Editor
প্রকাশিত মার্চ ২০, ২০২৬
আল-আকসায় ঈদের নামাজ পড়তে বাধা, মুসল্লিদের ওপর হামলা

Manual3 Ad Code

আল-আকসায় ঈদের নামাজ পড়তে বাধা, মুসল্লিদের ওপর হামলা

শেখ স্বপ্না শিমুঃ মুসলিমদের প্রথম কিবলা ফিলিস্তিনের আল-আকসা মসজিদে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ পড়তে বাধা দিয়েছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। মুসল্লিরা প্রবেশের চেষ্টা করলেও তাদের ওপর স্টান গ্রেনেড ও টিয়ার গ্যাস হামলা করা হয়েছে। ইসরাইল বলছে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।আল-আকসা মসজিদের বাইরে রাস্তায় ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করছেন ফিলিস্তিনি মুসলিমরা।

এ অবস্থায় পুরান শহরের (ওল্ড সিটি) ভেতরে ঢুকতে না পারলেও যতটা সম্ভব কাছাকাছি জায়গায় জড়ো হয়ে ঈদের নামাজ আদায় করতে মুসল্লিদের আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।

Manual4 Ad Code

আগেও দেখা গেছে, রমজান মাসে আল-আকসায় প্রবেশে বাধা দিলে অনেক ফিলিস্তিনি বাইরে নামাজ পড়েন। তখন ইসরাইলি পুলিশ লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে।এবার ঈদের সময় পূর্ব জেরুসালেমের পরিবেশ বেশ নিরব। সাধারণত ঈদের আগে যে ভিড় থাকে, এবার তা দেখা যায়নি—পুরো এলাকা প্রায় জনশূন্য ছিল।

ইসরাইল জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে মানুষের যাতায়াত সীমিত করে। পাশাপাশি ফিলিস্তিনি দোকানপাটও বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হয়। শুধু ওষুধের দোকান ও জরুরি খাদ্যের দোকান খোলা ছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক ফিলিস্তিনি ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, এই বাধার কারণে তারা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

আল-আকসা মসজিদ গত ২১ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। পবিত্র রমজান মাসের শুরুর দিকে ফিলিস্তিনিদের জন্য বন্ধ করে দেয় ইসরাইল। আজ শুক্রবার (২০ মার্চ) ফিলিস্তিনে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। কিন্তু ঈদুল ফিতরের নামাজ পড়তে ফিলিস্তিনিদের মসজিদ প্রাঙ্গণে ঢুকতে দেয়নি ইসরাইলি বাহিনী।

মসজিদটি বন্ধ থাকায় শত শত মানুষ আশপাশের রাস্তায় নামাজ আদায় করতে বাধ্য হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাব আল-সাহিরা এলাকার কাছে স্টান গ্রেনেড ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করা হয়। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে অন্তত একজনকে আটকও করা হয়েছে।

Manual1 Ad Code

তবে এসব বাধা সত্ত্বেও অনেক মুসল্লি কাছাকাছি জায়গায় জড়ো হয়ে নামাজ পড়েন এবং ঈদের তাকবির পাঠ করেন। জেরুসালেম কর্তৃপক্ষ এই পরিস্থিতিকে গুরুতর উত্তেজনা বৃদ্ধি ও ধর্মীয় স্বাধীনতার লঙ্ঘন হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে। তারা দ্রুত আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপেরও আহ্বান জানিয়েছে।

আজ শুক্রবার সকালে ইসরাইলি বাহিনী আল-জিব চেকপয়েন্ট বন্ধ করে দেয়। এটি জেরুসালেম-এর উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ চেকপোস্ট। এর ফলে শত শত ফিলিস্তিনি কাছাকাছি মসজিদে গিয়ে ঈদুল ফিতরের নামাজ পড়তে পারেননি। জুমার নামাজও পারবেন না তারা।জেরুজালেম গভর্নরেট জানায়, চেকপোস্টটি সব সময় খোলা থাকলেও এবার সেটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে মানুষের চলাচল আটকে যায়।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে গাজা যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে প্রথম দফায় ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তির পর থেকেই অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বাহিনী নিরাপত্তার নামে কড়াকড়ি বাড়িয়েছে। বিভিন্ন শহর ও অঞ্চলকে আলাদা করে ফেলতে তারা সামরিক গেট, ব্যারিয়ার ও কংক্রিট ব্লক ব্যবহার করছে।

Manual2 Ad Code

বর্তমানে পুরো পশ্চিম তীরজুড়ে প্রায় ৯১৭টি স্থায়ী ও অস্থায়ী চেকপোস্ট ও গেট রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর নতুন করে ২৪৪টি বসানো হয়েছে। এছাড়া শুধু অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের (সেটেলার) জন্য আলাদা সড়ক, ২০০টির বেশি সামরিক ঘাঁটি এবং নানা ধরনের বাধা রয়েছে, যা ফিলিস্তিনিদের চলাচল কঠিন করে তুলেছে।

একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি বসতকারীদের হামলাও বাড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব হামলার উদ্দেশ্য ফিলিস্তিনিদের ভয় দেখিয়ে তাদের জমি থেকে সরিয়ে দেয়া, যাতে সেখানে নতুন বসতি গড়ে তোলা যায়।

এইসব পদক্ষেপকে অনেকেই নিরাপত্তার অজুহাতে দীর্ঘদিনের দখলদারিত্ব আরও শক্ত করার অংশ হিসেবে দেখছেন। এতে ফিলিস্তিনিদের ওপর নিয়মিত চাপ ও সহিংসতা বাড়ছে।

Manual7 Ad Code