১৫ বছর পর মৃত্যুদণ্ড থেকে মুক্তি, নাতি-নাতনিদের কাছে ফিরলেন বৃদ্ধা
শেখ স্বপ্না শিমুঃ মালয়েশিয়ায় মাদকপাচারের অভিযোগে দীর্ঘ ১৫ বছর মৃত্যুদণ্ড মাথায় নিয়ে বন্দি থাকার পর অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন ৬৬ বছর বয়সি ইন্দোনেশীয় বৃদ্ধা আনি আংগ্রায়েনি। মৃত্যু পরোয়ানা রদ এবং রাজকীয় ক্ষমার পর বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে কুয়ালালামপুর থেকে জাকার্তায় নিজ বাড়িতে পৌঁছান তিনি।
মৃত্যুদণ্ড থেকে মুক্তি পাওয়ার পর জাকার্তায় নাতি-নাতদিনের সঙ্গে আনি আংগ্রায়েনি।
চার নাতি-নাতনির দাদি আনি প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সবকিছু স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে। আমি কৃতজ্ঞ এজন্য যে শেষ পর্যন্ত পরিবারের কাছে ফিরতে পেরেছি।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১১ সালে। ওই সময় কেয়ারগিভারের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে আনিকে মালয়েশিয়ায় আনা হয়। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, পাচারকারীরা তাকে কৌশলে ভিয়েতনামে পাঠিয়ে একটি সুটকেস সংগ্রহ করে মালয়েশিয়ার পেনাংয়ে নিয়ে যেতে বলে। পেনাং বিমানবন্দরে অবতরণের পর তার ব্যাগ থেকে ৩ দশমিক ৮৭ কেজি মেথামফিটামিন উদ্ধার করা হয় এবং দেশটির কঠোর মাদক আইনে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।
২০২৪ সালের শুরুতে কুয়ালালামপুর ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘হায়াত’-এর কর্মীরা কারাগারে আনির সঙ্গে দেখা করলে তার মামলাটি নতুন মোড় নেয়। তখন জানা যায় আনি ‘এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সারে’ আক্রান্ত হতে পারেন। তার অসুস্থতা এবং বয়স বিবেচনা করে আইনজীবীরা নিরলসভাবে আইনি লড়াই চালিয়ে যান। এরই ধারাবাহিকতায় গত মে মাসে তার মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয় এবং সর্বশেষ গত ১৯ মার্চ ঈদুল ফিতরের প্রাক্কালে পেনাংয়ের গভর্নর তাকে পূর্ণ ক্ষমা প্রদান করেন।
আনির এই মুক্তি মালয়েশিয়ার মৃত্যুদণ্ড সংক্রান্ত আইন সংস্কারের এক বড় উদাহরণ। দেশটিতে ২০২৩ সালে বাধ্যতামূলক মৃত্যুদণ্ড প্রথা বিলুপ্ত করা হয়েছে, যার ফলে বিচারকরা এখন অপরাধের ধরণ বুঝে সাজা পরিবর্তনের ক্ষমতা রাখেন।
সরকারি তথ্যানুসারে, এই আইনি সংস্কারের ফলে ২০২৪ সালে মাদক মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৭০৫ বন্দির সংখ্যা ২০২৫ সালের জানুয়ারি নাগাদ মাত্র ৪০ জনে নেমে এসেছে।
এদিকে, মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, আনির ঘটনাটি মূলত দরিদ্র প্রবাসী নারীদের মাদক পাচারে শোষণের একটি ধ্রুপদী উদাহরণ। মিথ্যা পরিচয়ে ভ্রমণ নথি তৈরি এবং চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাদের মাদক বহনকারী হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
সংস্থাগুলো আরও জানিয়েছে, বর্তমানে অন্তত আটজন ইন্দোনেশীয় নারী একই পরিস্থিতিতে মালয়েশিয়ার কারাগারে বন্দি রয়েছেন, যাদের জন্য একই ধরনের আইনি ও মানবিক সহায়তার প্রয়োজন।