৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২১শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

৯৪ টি ইট ভাটা অবৈধ, আইন আছে কিন্তুু প্রয়োগ নেই

Editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬
৯৪ টি ইট ভাটা অবৈধ, আইন আছে কিন্তুু প্রয়োগ নেই

Manual8 Ad Code

৯৪ টি ইট ভাটা অবৈধ, আইন আছে কিন্তুু প্রয়োগ নেই।

বিশেষ প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধা জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গোটা জেলা জুড়ে ১১০ টি ইট ভাটার মধ্যে ৯৪ টি ইট ভাটাই অবৈধ। মাত্র ১৬টির রয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তরের বৈধ ছাড়পত্র, বাকি ইটভাটাগুলো অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

এইদিকে ইট প্রস্তুুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ত্রন আইন-২০১৩ সংশোধিতো-২০১৯ সালের ৪ ধারায় বলা হয়েছে, ইটভাটা টি যে জেলায় অবস্থিত, সেই জেলার জেলা প্রশাসকের কাছে থেকে লাইসেন্স ছাড়া ইটভাটা স্থাপন ও ইট প্রস্তুুত করতে পারবে না।

Manual7 Ad Code

৫ (১) উপধারায় বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তি ইট তৈরি করার জন্য কৃষি জমি বা পাহাড় বা টিলা থেকে মাটি কেটে বা সংগ্রহ করে ইটের কাঁচামাল হিসাবে তা ব্যবহার করতে পারবে না।

৬ ধারায় বলা হয়েছে, ইটভাটায় ইট পোড়ানোর কাজে জ্বালানি হিসাবে কোন জ্বালানি কাঠ ব্যবহার করতে পারবে না।

৮(১)এর উপধারায় বলা হয়েছে, আবাসিক এলাকা, সংরক্ষিত বা বানিজ্যিক এলাকা, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা সদর উপজেলা, কৃষি জমি, পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায়, কোন ব্যক্তি ইটভাটা স্থাপন করতে পারবে না।

অথচো গাইবান্ধা জেলার অবৈধ ইটভাটা গুলো দিব্যি চলছে। এসব ইটভাটার অধিকাংশই, লোকালয়, কৃষি জমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে গড়ে ওঠেছে। পাশাপাশি কাজ করানো হচ্ছে শিশুদের দিয়ে। টিলা ও কৃষি জমির উপরিভাগের মাটি কেটে পাচার হচ্ছে এসব ইটভাটায়। ফলে উর্বর শক্তি হারাচ্ছে জমি। এ ছাড়া মাটি কাটার ফলে ওই জমি কৃষি কিংবা জলাশয়ের কাজেই আসছে না।

পরিবেশবিদরা জানান, প্রত্যেক ভাটায় কমবেশি ৯৫ শতাংশ কাঠ পুড়ানো হয়। তাতে আমাদের দেশে বছরে ইটভাটায় ২৫০ লাখ মেট্রিক টন কাঠ পুড়ানো হয়। পাশাপাশি নির্মল বায়ু দূষিত হচ্ছে। ধোঁয়ার সঙ্গে ক্ষার ছড়াচ্ছে। মানুষের নিঃশ্বাসের ভেতরে ঢুকে ক্ষতি করছে। গাছের বেঁচে থাকার শক্তি নষ্ট হচ্ছে। এতে পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়তেছে। সুতরাং ইটভাটায় ব্লক ইট তৈরি এখন সময়ের দাবি।

Manual3 Ad Code

স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিবেশ অধিদফতর, বন বিভাগ ও জেলা প্রশাসন এসব অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফলে এসব ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে বনের কাঠ। এতে উজাড় হচ্ছে বন। হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র্য।

সচেতন নাগরিকরা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, প্রশাসন প্রতিবছর লোক দেখানো কয়েকটি ইট ভাটায় অভিযান চালালেও নানা অজুহাতে তাদের পক্ষ থেকে পরে আর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। লিখিত রাষ্ট্রীয় আইন রয়েছে কিন্তুু তার কোনো প্রয়োগ নেই।

অপরদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভাটা মালিক জানান, ভাটা গুলো অবৈধ হলেও মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই চলছে এসব ইট ভাটা।

Manual2 Ad Code

জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অতিদ্রুত জেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে এসব অবৈধ ইট ভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনেক বিশ্লেষকের অভিমত, বাংলাদেশে ইট ভাটা শিল্প একটি বিশাল শ্রমনির্ভর খাত। দেশে প্রায় ৫,০০০টির বেশি ইটভাটা রয়েছে। এ গুলোতে বছরে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ইট উৎপাদন হয়, যা দেশের মোট জিডিপির প্রায় ১% এর সমান। এই শিল্পে আনুমানিক ১০ লক্ষ শ্রমিক কাজ করে থাকে, যারা মূলত মৌসুমি ও অস্থায়ী শ্রমিক হিসেবে নিয়োজিত। অধিকাংশ শ্রমিক গ্রামীণ দরিদ্র পরিবার থেকে আসে।

Manual6 Ad Code

ইট ভাটা গুলো একযোগে বন্ধ করে দিলে বেকারত্বের সংখ্যা অত্যাধিক বেড়ে যাবে। ফলে সমাজে বেড়ে যাবে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতির মতো জঘন্যতম অপরাধ। এসব শ্রমিকদের বিকল্প কাজের ব্যবস্থা করে ইটভাটা গুলো ধীরে ধীরে বন্ধ করার তাগিদ দেন। সেই সাথে নতুন কোন ইট ভাটা স্থাপন করতে না পারে সেই দিকে ও নজর দেবার জোর দাবি জানান।