১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৯শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

রংপুরে বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে বিভাগীয় ইজতেমা

admin
প্রকাশিত ডিসেম্বর ১০, ২০২৫
রংপুরে বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে বিভাগীয় ইজতেমা

Manual8 Ad Code

ডেস্ক নিউজ, রংপুর

রংপুরের শীতভোরে, আমাশু কুকরুলের বিশাল মাঠ যেন নিঃশব্দে অপেক্ষা করছে এক অজস্র পদচারণার জন্য।

Manual2 Ad Code

বৃহস্পতিবার ফজরের নামাজের পর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হবে এবারের বিভাগীয় ইজতেমা—এক আধ্যাত্মিক সমাবেশ, যা বহু মানুষের জীবনে সাময়িক হলেও গভীর এক পরিবর্তনের আবেশ তৈরি করে।

শামিয়ানা ইতিমধ্যেই আকাশ ঢেকেছে; বাতাসে কাপড়ের দোলানি। সাইকেল গ্যারেজ থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ-সংযোগের লাইন পর্যন্ত—সবকিছু নীরব অথচ দ্রুততার সঙ্গে সাজিয়েছেন আয়োজকেরা।

Manual3 Ad Code

যেন শহরের ভেতরে আরেকটি শহর তৈরি হয়েছে, যার মুদ্রা—বিশ্বাস; আর বিধি—শান্তি।

আয়োজকদের ভাষ্য, রংপুর বিভাগের আট জেলার সাথিরা ছাড়াও ভারত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া থেকে মুসল্লিরা ইতোমধ্যে রংপুরে এসে জড়ো হয়েছেন। তাদের আগমন যেন দূর আকাশে ওঠা নামার মতো—অদৃশ্য, অথচ নিশ্চিত।

আয়োজক কমিটির সদস্য খালেকুজ্জামান রাজা জানান, প্রায় ২০০ বিদেশি অতিথি এই ইজতেমায় অংশ নেবেন বলে আশা করছেন তারা।

জেলা ইজতেমার পরিবর্তে এবার হচ্ছে বিভাগীয় আয়োজন। ফলে মানুষের ঢল হবে আরও উজাড়, আরও বহমান। মাঠের ধারণক্ষমতা পাঁচ লাখ হলেও এবার অন্তত ১০ লাখ মানুষের সমাগম হবে—এমন প্রত্যাশা শুধু অনুমান নয়, বরং প্রস্তুতির গভীরতা থেকেই স্পষ্ট।

তাবলিগ জামাতের স্থানীয় সংগঠক শামীমুজ্জামান শামীম বললেন, ‘মাঠকে আলোকিত রাখতে শতাধিক জেনারেটর প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ওজু ও গোসলের জায়গায় একসঙ্গে পাঁচ হাজার মানুষ ওজু করতে পারবেন।’ পাশাপাশি রয়েছে অর্ধশতাধিক মেডিকেল টিম—অচেনা মুখদের পরিচিত সেবাদাতা হিসেবে।

Manual5 Ad Code

নিরাপত্তা বলয়ও প্রস্তুত। সাদা পোশাকে পুলিশি নজরদারি, কন্ট্রোল রুম, ট্রাফিক ব্যবস্থার নতুন বুনন—সবই এক অতি বড় সমাবেশকে শান্তিপূর্ণভাবে ধারণ করার প্রচেষ্টা। রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী জানালেন, জেলা প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে ইজতেমাকে নির্বিঘ্ন করতে সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

Manual6 Ad Code

এমন আয়োজনে অদৃশ্য উপস্থিতি থাকে স্রষ্টার প্রতি নিজেকে সমর্পনে। কোথাও যেন প্রশ্ন জাগে—এত বিপুল সমাগমের ভেতর ব্যক্তিগত প্রার্থনা, নীরব আত্মসমর্পণ কি চাপা পড়ে যায়?

নাকি বৃহৎ ভিড়ই মানুষকে নিজের নিঃসঙ্গতাকে খুঁজে নিতে সাহায্য করে? আধ্যাত্মিকতার এই উন্মুক্ত ময়দানে প্রতিটি যাত্রাই ব্যক্তিগত, কিন্তু প্রতিটি পা একত্রে মিলিয়ে তৈরি করে এক সামাজিক ছন্দ।

যেভাবে শুরু—নীরবতার ভেতর ধীরে ওঠা মানুষের ঢল, সেভাবেই শেষ হবে শনিবার দুপুরে। আলো, শব্দ, দোয়া আর ধূলার ভাঁজে—একটি শহর সাময়িকভাবে পরিবর্তিত হবে, আবার ফিরে যাবে তার স্বাভাবিক ছন্দে।

কিন্তু এই ইজতেমা স্থানীয় স্মৃতিতে আরেকটি নতুন রেখা টেনে দেবে—ভোরের আকাশের মতোই বিস্তৃত এবং স্থায়ী।