৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৬ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

পলাশবাড়ী হানাদারমুক্ত দিবস আজ‌‌

admin
প্রকাশিত ডিসেম্বর ৯, ২০২৫
পলাশবাড়ী হানাদারমুক্ত দিবস আজ‌‌

Manual8 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি।

Manual2 Ad Code

ঐতিহাসিক ৮ ডিসেম্বর—পলাশবাড়ীর হানাদারমুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে বীরমুক্তিযোদ্ধাদের অবিশ্বাস্য সাহস ও ত্যাগের বিনিময়ে মুক্ত হয় গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা। সেদিন পাকবাহিনীর পতনের সঙ্গে সঙ্গে জনপদজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে উল্লাস, আনন্দ আর বিজয়ের আবেগ।

মুক্তিযোদ্ধা সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালের মার্চজুড়ে পলাশবাড়ী ছিল তুমুল উত্তাল। পাকবাহিনী ও দোসররা এ সময় নারী-পুরুষ ও শিশুসহ ৫ শতাধিক মানুষকে হত্যা করে। স্বাধীনতার ঘোষণার পর ২৬ মার্চ শুরু হয় সম্মুখ যুদ্ধ—বাঙালি সুবেদার আলতাফ হোসেনের নেতৃত্বে ইপিআর বাহিনীর সঙ্গে পাকবাহিনীর রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে শহিদ হন লে. রফিক, আ. মান্নানসহ ২১ জন বীর।

Manual7 Ad Code

২৮ মার্চ পাক হানাদাররা শুরু করে জ্বালাও-পোড়াও অভিযান। গৃধারীপুর, নুনিয়াগাড়ী, মহেশপুর, নিশ্চিন্তপুর, উদয়সাগর, বৈরীহরিনমারী ও ঐতিহ্যবাহী কালীবাড়ী বাজার পুড়িয়ে দেয়। নারীসহ বহু মানুষ ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হন। কাশিয়াবাড়ী ও রামচন্দ্রপুর এলাকায় সেদিন প্রায় ৩০০ মানুষকে সারিবদ্ধ করে হত্যা করা হয়—যার বর্ণনা প্রচারিত হয় স্বাধীন বাংলার বেতারেও।

Manual5 Ad Code

থানার ৬৫ জন বীর সন্তান সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেন। সম্মুখ যুদ্ধে গোলাম রব্বানী, আনজু মণ্ডল, আবুল কাসেম, নুরুন্নবী মাস্টারসহ বহু মুক্তিযোদ্ধা অবদান রাখেন; ২৬ জন ইপিআর ও বেঙ্গল রেজিমেন্টের যোদ্ধা এবং মুজাহিদ বাহিনীর কয়েকজন শহিদ হন।

Manual8 Ad Code

৮ ডিসেম্বর পলাশবাড়ী শত্রুমুক্ত হলে হাজারো মানুষ বিজয়োৎসব উদযাপন করেন—যদিও অনেকেই আর ফিরে আসেননি। তাঁদের রক্তের বিনিময়ে মুক্ত হয় আজকের পলাশবাড়ী।

মহান মুক্তিযুদ্ধের সেই বীর শহিদদের প্রতি গর্ব, কৃতজ্ঞতা ও গভীর শ্রদ্ধা।