৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২১শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

গণভোটের ব্যালটে কী ধরনের প্রশ্ন থাকবে, সম্ভাব্য খসড়া প্রকাশ

admin
প্রকাশিত নভেম্বর ১৮, ২০২৫
গণভোটের ব্যালটে কী ধরনের প্রশ্ন থাকবে, সম্ভাব্য খসড়া প্রকাশ

Manual7 Ad Code

গণভোটের ব্যালটে কী ধরনের প্রশ্ন থাকবে, সম্ভাব্য খসড়া প্রকাশ

Manual2 Ad Code

লোকমান ফারুক, বিশেষ প্রতিনিধি
দেশজুড়ে যখন সংবিধান সংস্কার নিয়ে আলোচনা দানা বাঁধছে, ঠিক সেই সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট—দুই ভোট একসঙ্গে আয়োজনের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ব্যালটে কী ধরনের প্রশ্ন থাকবে, তার একটি সম্ভাব্য খসড়া প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

Manual4 Ad Code

মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত পোস্টে গণভোটের জন্য প্রস্তুত করা প্রশ্নটি তুলে ধরা হয়। এতে নাগরিকদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে—
আপনি কি ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) আদেশ ২০২৫’ এবং সনদে প্রস্তাবিত সংবিধান সংস্কারের প্রতি সম্মতি প্রদান করছেন?

এই একটিমাত্র প্রশ্নের নিচে ব্যালটে উল্লেখ থাকবে চারটি মূল প্রস্তাব, যেগুলো সংবিধান সংস্কারের রূপরেখাকে নির্ধারণ করে:

ক. নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা
নির্বাচনকালীন সময়ে একটি ‘ব্যবস্থাপক সরকার’ গঠন করা হবে—যা নির্বাচন এবং সমস্ত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে জুলাই জাতীয় সনদের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালনা করবে।

Manual7 Ad Code

খ. দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ
আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষের।
নিম্নকক্ষ—বর্তমান জাতীয় সংসদ।
উচ্চকক্ষ—দলগুলোর প্রাপ্ত মোট ভোটের ভিত্তিতে প্রতিনিধিত্বশীল সদস্যদের নিয়ে গঠিত হবে।
এ ছাড়া সংবিধান সংশোধনের জন্য উচ্চকক্ষে কমপক্ষে ১০০ সদস্যের সমর্থন বাধ্যতামূলক হবে।

গ. সংসদীয় ও সাংবিধানিক সংস্কার
জুলাই সনদে বর্ণিত ৩০ দফার মধ্যে রয়েছে—
নারী সদস্যের সংখ্যা বৃদ্ধি,
স্পিকার নির্বাচনে দলীয় ঐক্যমত,
সংসদের ক্ষমতা বিস্তার,
সংসদীয় কমিটির শক্তিশালীকরণ,
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং
স্থানীয় সরকারের ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দফা।
রাজনৈতিক দলগুলো সম্মিলিতভাবে এসব সংস্কারের খসড়ায় একমত হয়েছে।

ঘ. বৃহত্তর সংস্কার প্রতিশ্রুতি
গণভোট-পরবর্তী সময়ের জন্য বৃহত্তর রাজনৈতিক সংস্কারের অঙ্গীকারও এখানে রাখা হয়েছে—যা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দলগুলোকে অনুসরণ করতে হবে।

Manual2 Ad Code

একটি প্রশ্ন, দুই পথ

ব্যালটে ভোটারদের জন্য থাকবে শুধু ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’—এই চারটি প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন বা অসমর্থন জানানোর মাধ্যম। একটি মাত্র চিহ্নেই নাগরিকরা জানিয়ে দেবেন, তাঁরা নতুন সাংবিধানিক কাঠামোর দিকে এগোতে চান, নাকি বর্তমান অবস্থানেই থাকতে চান।

গণভোটের এই খসড়া এখন জনমতের দরজায় কড়া নাড়ছে—দেশ কোন পথে হাঁটবে, তার সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত ভোটারদের হাতেই।