২৫শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১০ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

কারমাইকেল কলেজে দীপাবলীর নান্দনিক উৎসব

admin
প্রকাশিত অক্টোবর ২১, ২০২৫
কারমাইকেল কলেজে দীপাবলীর নান্দনিক উৎসব

Manual1 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট, রংপুর।

সন্ধ্যা নেমেছে কারমাইকেল কলেজের আকাশে। পুরোনো মন্দির প্রাঙ্গণ যেন আলোয় ভাসছে—দীর্ঘ দোলায়িত ছায়ার মধ্যে জ্বলে উঠছে একের পর এক প্রদীপ। বাতাসে ভাসছে তিলের তেলের গন্ধ, আর সলতের ছোট্ট আগুনে যেন ফুটে উঠছে অনন্ত আলোর প্রতিশ্রুতি।

Manual8 Ad Code

সোমবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় রংপুরের ঐতিহ্যবাহী কারমাইকেল কলেজ মন্দিরে শুরু হয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দীপাবলীর উৎসব। মাটির প্রদীপ হাতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পূজারী—সকলেই মেতে ওঠেন এক আলোকোৎসবে। ম

ন্দির প্রাঙ্গণের কলার গাছে প্রথম প্রদীপ জ্বালিয়ে উদ্বোধন করেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমান। তাঁর হাতের আগুনের শিখা ছুঁয়ে যায় প্রাঙ্গণের প্রতিটি মুখে, প্রতিটি হাসিতে। তারপরেই যেন জেগে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। একে একে আলোকিত হয় মন্দিরের ধাপ।

কলেজের প্রশাসনিক ভবন, চারপাশের গাছের ডাল। বাতাসে ভেসে ওঠে ঘণ্টাধ্বনি, গঙ্গাজল ছিটানোর শব্দ। সেই মুহূর্তে মনে হয়—অন্ধকার আর আলোর মধ্যে যেন এক অদৃশ্য সংলাপ শুরু হয়েছে।

Manual8 Ad Code

পূজারী দীপিকা বালা প্রদীপ সাজাতে সাজাতে বললেন,’দীপাবলীর আসল বার্তা হলো, অন্ধকার থেকে আলোর পথে যাত্রা।

আজ আমরা সবাই সেই আলোরই প্রার্থনা করেছি।’ আয়োজক কমিটির প্রধান প্রফেসর উজ্জ্বল সাহা জানালেন, “এই দীপাবলীতে জ্বালানো হয়েছে প্রায় ৫ হাজার প্রদীপ, আকাশে উড়েছে শতাধিক আলোর ফানুস।’

আমাদের একটাই বার্তা—সমাজ আর রাষ্ট্র থেকে দূর হয়ে যাক সব অন্ধকার,’—বললেন তিনি। উৎসবের পুরো আয়োজনজুড়ে অংশ নেন শত শত নারী-পুরুষ পূজারী, শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা। কলেজ প্রাঙ্গণ যেন পরিণত হয় ক্ষুদ্র এক আলোকনগরে—যেখানে ধর্ম নয়, আলোই হয়ে ওঠে একমাত্র পরিচয়।

Manual3 Ad Code

কারমাইকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর হাবিবুর রহমান বলেন, ‘দীপাবলি কেবল হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উৎসব নয়—এটি আলোর বিজয়ের প্রতীক। সমাজের সব অন্ধকার দূর করতে এই আলোর প্রজ্জ্বলনই মূল বার্তা।’

আর অনুষ্ঠানের উদ্বোধক অধ্যক্ষ প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমান বললেন, ‘সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, ধর্ম, বর্ণ—সব অন্ধকারের বিপরীতে দীপাবলি আমাদের শেখায়, আলোই শেষ সত্য। সেই আলো জ্বালানোই মানবতার প্রথম শপথ।’ রাত গভীর হলে আকাশে উড়ে যায় শেষ ফানুস। প্রদীপের আলো তখনও দুলছে বাতাসে।

মন্দির প্রাঙ্গণের মাটিতে প্রতিফলিত সেই আলো যেন বলে যায়—অন্ধকার যত গভীরই হোক, এক প্রদীপই যথেষ্ট আলোর পথে যাত্রা শুরু করার জন্য। তারিখ: ২০ অক্টোবর ২০২৫

Manual4 Ad Code