৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২১শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

কুষ্টিয়ায় প্রতিমা ভাঙচুর: ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার দায় কার? প্রশ্ন সাংবাদিকের

admin
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৫
কুষ্টিয়ায় প্রতিমা ভাঙচুর: ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার দায় কার? প্রশ্ন সাংবাদিকের

Manual5 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি:

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় একটি মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাংবাদিক নয়ন রায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের সমালোচনা করেন এবং প্রতিটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নিজ নিজ উপাসনালয় ও সম্পদ রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

Manual2 Ad Code

রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার পোড়াদহ ইউনিয়নের স্বরূপদহ পালপাড়ায় রক্ষাকালী মন্দিরে দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়ে কার্তিক ও সরস্বতী প্রতিমার মাথা ও হাত ভাঙচুর করে। এ সময় মন্দিরে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরাও নিয়ে যায় তারা। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিক নয়ন রায় এক বিবৃতিতে তাঁর উদ্বেগের কথা জানান।

নয়ন রায় তাঁর মন্তব্যে বলেন, “রাজনৈতিকভাবে হামলা হবে এটা স্বাভাবিক, প্রত্যেকটি ধর্ম এখন রাজনীতির কবলে। কেও অন্য ধর্মকে গালি দিও না।” তিনি আরও বলেন, “কিছু নির্দিষ্ট লোক আছে যারা সব ধর্মের মধ্যেই থাকে, তারাই এই সব ঘটায়। তাই, নিজেদের ধর্মীয় সম্পদ রক্ষা করার দায়িত্ব নিজেদেরই। এখানে সরকার বা প্রশাসনের দায় না, তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বা সাহায্যের জন্য ডাকলে অবশ্যই আসবে।।
ঘটনার আগে ৫ই সেপ্টেম্বর দুর্গা পূজার বেপারে জানতে চাইলে গোবিন্দ চন্দ্র পরামানিক(জাতীয় হিন্দু মহাজট) এর বক্তব্যও একই নির্দেশনা দিয়েছিলেন বলে নিশ্চিত করেন”

Manual2 Ad Code

তাঁর এই বক্তব্যে ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের পেছনে রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি এবং প্রতিটি ধর্মের অভ্যন্তরে থাকা অপশক্তিকে দায়ী করা হয়েছে। তিনি কোনো একক সম্প্রদায়কে দোষারোপ না করে, সকল ধর্মাবলম্বীকে নিজ নিজ পবিত্র স্থান রক্ষায় সক্রিয় ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তার মতে, প্রশাসন বা সরকারের ভূমিকার জন্য অপেক্ষা না করে, সম্প্রদায়ের নিজস্ব দায়বদ্ধতা থেকেই ধর্মীয় সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।

Manual5 Ad Code

এদিকে, মন্দিরে হামলার খবর পেয়ে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার ও র‍্যাব-১২ এর কর্মকর্তাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য তদন্ত চলছে। মন্দির কমিটির সদস্যরা জানান, দুর্গাপূজার প্রস্তুতি চলমান থাকাকালীন এই ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

Manual7 Ad Code

সাংবাদিক নয়ন রায়ের মন্তব্যটি এই পরিস্থিতিতে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি প্রশাসনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা এবং প্রতিটি সম্প্রদায়ের আত্মরক্ষার দায়িত্ববোধকে বড় করে দেখছেন, যা একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে অপরিহার্য বলে মনে করছেন অনেকে। তিনি এই কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত শাস্তির দাবি করেন।