১০ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

মনপুরার মেঘনায় শেষ সময়েও দেখা মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ, হতাশায় জেলেরা

admin
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৫
মনপুরার মেঘনায় শেষ সময়েও দেখা মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ, হতাশায় জেলেরা

Manual5 Ad Code

মো কামরুল হোসেন সুমন,মনপুরা:

দ্বীপ জেলা ভোলার মনপুরা উপজেলার মেঘনায় প্রতিবছর জৈষ্ঠ্য ও আষাঢ় মাসকে ইলিশের ভরা মৌসুম ধরা হয়। সে হিসেবে এখন জাল ভরে উঠে আসার কথা রূপালী সেই ইলিশ। কিন্তু মনপুরার মেঘনা পাড়ের জেলেরা জানালেন এর ভিন্ন কথা।

নদীতে গিয়ে সামান্য কিছু ইলিশ শিকার করেই ঘরে ফিরতে হচ্ছে জেলেদের। আবার কেউ কেউ ফিরছেন খালি হাতেও। এমন পরিস্থিতিতে আর্থিক সংকটে পড়েছে মনপুরার শত শত জেলে পরিবার। আড়ৎদারের দাদনের চাপ, এনজিওর কিস্তির জ্বালা, সংসারের খরচ এবং ছেলেমেয়েদের লেখা-পড়ার খরচ যোগাতে অনেকেরই পিট ঠেকেছে এখন দেয়ালে।সব মিলিয়ে সংকটে রয়েছে এই এলাকার প্রায় জেলেরা।

আড়ৎদারের দাদনে আবদ্ধ থাকায় চাইলেও করার সুযোগ নেই অন্য পথে উপার্জন।এসব সমস্যার সমাধান হিসেবে নদীতে পর্যাপ্ত ইলিশ‍‍`ই যেন জেলেদের আশার আলো হয়ে দাড়িয়েছে।

Manual6 Ad Code

লতাখালি, আলমপুর, ও জনতা বাজার মৎস্য ঘাটের জেলেরা বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এই বছর নদীতে ইলিশের পরিমাণ অনেক কম। এত কম মাছে তেলের টাকা যোগানো কষ্টসাধ্য হয়ে উঠছে। নদীতে ইলিশ মাছ না বাড়লে বউ সংসার,দাদনের টাকা,কিস্তির টাকা, সব মিলিয়ে সংকটে জীবন যাপন করতে হবে তাদের।

Manual2 Ad Code

ইলিশের আড়ৎদারগন জানান, বিগত  দিনের তুলনায় এবার ইলিশ কেনা-বেচা অনেক কম। কোটি টাকা চালান খাটিয়ে ইলিশের অপেক্ষায় বসে থাকতে হয়। নদীতে পর্যাপ্ত ইলিশ না হলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কষ্টকর হয়ে যাবে।ইলিশ ধরা নিষিদ্ধের এখন আগ মহুর্ত, আর অল্প কিছু দিন পরে এই অভিযান, পড়বে সরকারি নিষেধাজ্ঞা কিন্তু এখনো তেমন ইলিশ পাওয়া যায় না মনপুরার মেঘনায়।

Manual5 Ad Code

এবিষয়ে অনেক জেলে নেতারা জানান তারা ধারনা করেন, নদীতে পানির পরিমাণ বাড়লে, পর্যাপ্ত পরিমাণে বৃষ্টি হলে মেঘনায় ইলিশের পরিমাণ বাড়তে পারে।

Manual5 Ad Code

তারা আরো জানান, ডোবা চরের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় এবং অবৈধ জাল (বেহুন্দি,কারেন্ট, চর ঘেরাও, খুরশি) দিয়ে জাটকা মাছ ধরাও ইলিশ না বৃদ্ধির অন্যতম কারন হতে পারে।

এসব অবৈধ জাল দিয়ে জাটকা মাছ বা চাপলি যা ইলিশের বাচ্চা বলা হয় সেগুলো ধরা বন্ধ না করলে ইলিশের পরিমাণ নদীতে আরো কমে যেতে পারে।এবং সামনে হয় তো আরো এই নদীতে ইলিশ সংকট দেখা দিতে পারে বলে জানান এখানকার স্হানীয় জেলেরা।