১৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৩রা সফর, ১৪৪৮ হিজরি

যারা নৌকার বিরোধিতা করেছেন, তারা আগামীতে মনোনয়ন পাবেন না

admin
প্রকাশিত জুলাই ১১, ২০১৯
যারা নৌকার বিরোধিতা করেছেন, তারা আগামীতে মনোনয়ন পাবেন না

Manual5 Ad Code

 

Manual6 Ad Code

অভিযোগ ডেস্কঃ দলীয় কোন্দলে জড়িত মন্ত্রী-সংসদ সদস্যদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, নৌকা মার্কা নিয়ে নির্বাচন করে যারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নৌকার বিরোধিতা করেছেন, তারা আগামীতে মনোনয়ন পাবেন না। তাদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি দলের সভাকক্ষে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের একাধিক সংসদ সদস্যের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, বৈঠকে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকা এবং সংসদে পরিপূর্ণ শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সংসদ সদস্যদের প্রতি তাগিদ দিয়ে সংসদনেতা বলেন, যার যার এলাকায় যান, দলীয় কর্মকাণ্ডে মনোযোগী হন, নেতাকর্মীসহ জনগণের পাশে থাকুন, তাদের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হয়ে কাজ করুন।

প্রত্যেক জেলা-উপজেলায় নিজস্ব দলের কার্যালয় স্থাপনের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, যেসব জেলা বা উপজেলায় নিজস্ব দলীয় কার্যালয় নেই, দ্রুত সেখানে কার্যালয় নির্মাণ করতে হবে। এ ব্যাপারে তিনি পরিপূর্ণ রিপোর্ট দেয়ার জন্য বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকদের নির্দেশ দেন।

সূত্র জানায়, বৈঠকে দলের মধ্যে কোনো ধরনের কোন্দল-দ্বন্দ্বে জড়িত না হওয়ার জন্য সংসদ সদস্যদের নির্দেশ দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, কোনোভাবেই কোন্দল বা দ্বন্দ্ব জড়িত হবেন না।

এ সময় সাবেক এক মন্ত্রীর নাম উল্লেখ না করে তাকে তীব্র ভর্ৎসনা করে শেখ হাসিনা বলেন, উপজেলা নির্বাচনে দলের মনোনীত নৌকার প্রার্থীর বিরোধিতা করেছেন। বিরোধিতা করতে গিয়ে সংঘর্ষে একজন কর্মীর প্রাণ গেছে। এসব কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।

Manual7 Ad Code

যে যত বড় নেতাই হোন না কেন, দলের বিরোধিতা কিংবা শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে কাউকেই ছাড়া হবে না। অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবার সংসদে দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বাজেট দেয়া হয়েছে। বাজেট বাস্তবায়নকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে।

তাই নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ যেন দ্রুত সম্পন্ন হয় সেদিকে নজর রাখবেন। উন্নয়নের কাজকে ত্বরান্বিত করুন। মনে রাখবেন, দেশের জনগণ আমাদের ওপর পূর্ণ আস্থা-বিশ্বাস রেখে ভোট দিয়েছে।

জনগণের সেই ভোটের মর্যাদা আমাদের রক্ষা করতে হবে। বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে আরও ত্বরাম্বিত করতে হবে।

নির্বাচনের এতদিন পরও সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের ন্যাম ভবন ও সরকারি বাড়ি না ছাড়ার সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, এগুলো দ্রুত ছেড়ে দিতে হবে। নতুন যারা মন্ত্রী-এমপি হয়েছেন তাদের থাকার ব্যবস্থা করে দিতে হবে।

Manual3 Ad Code

অনেকে মন্ত্রী হয়ে সরকারি বাড়ি বরাদ্দ পাওয়ার পরও ন্যাম ভবনের ফ্লাট দখল করে রেখেছেন। তাদের পিওন, ড্রাইভার, গানম্যানরা এসব ফ্লাটে থাকছেন। ন্যাম ফ্লাট পিওন-ড্রাইভারদের জন্য নয়। ন্যাম ভবনের প্রতি যদি মন্ত্রীদের এতই দরদ থাকে, তবে মন্ত্রীর বাসভবন ছেড়ে এখানে চলে আসুন।

আর যারা সাবেক মন্ত্রী-এমপিরা এখনও বাসা ছাড়েননি, দ্রুত তা ছেড়ে দিতে হবে।সভায় সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যরা তাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর দাবি জানালে তা বিবেচনার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।

সূত্র জানায়, বৈঠকে আওয়ামী লীগের সংসদীয় সম্পাদক নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের দলের ফান্ডে বার্ষিক চাঁদা বাকি থাকার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী দ্রুত যেসব সংসদ সদস্যের দলের বার্ষিক চাঁদা বাকি রয়েছে তা দ্রুত পরিশোধের নির্দেশ দেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভাপতি শেখ হাসিনা।

বক্তব্য রাখেন সাবেক মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ান, হুইপ আতিউর রহমান আতিক, ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, এ কে এম শামীম ওসমান, মমতাজ বেগম প্রমুখ।

Manual4 Ad Code