১৪ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৬শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

রোমে বাংলাদেশ চ্যান্সেরি ভবন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

admin
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২০
রোমে বাংলাদেশ চ্যান্সেরি ভবন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

Manual8 Ad Code
চ্যান্সেরি ভবনের উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ● বাসস

 

Manual3 Ad Code

অভিযোগ ডেস্ক : বাংলাদেশ দূতাবাসের নতুন চ্যান্সেরি ভবন উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 

বুধবার ( ৫ ফেব্রুয়ারি) রোমে স্থানীয় সময় সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে ইতালির রাজধানীর ভিয়া ডেল’ অ্যান্ট্রাটাইড এলাকায় ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে ২৩ দশমিক ৯ কাঠা জমির ওপর নির্মিত পাঁচ তলা চ্যান্সেরি ভবনটির উদ্বোধন করেন। এ সময় দেশ ও জাতির অব্যাহত শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

 

প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

 

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, রোমে নিযুক্ত বাংলাদেশী রাষ্ট্রদূত আবদুস সোবহান সিকদার, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহ্সানুল করিম ও দূতাবাসের সিনিয়র কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

Manual5 Ad Code

প্রধানমন্ত্রী চ্যান্সেরি ভবনের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি দর্শনার্থী বইয়েও সই করেন।

 

দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, তার সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর যেসব দেশে বেশি বাংলাদেশি বসবাস করছে সেসব দেশে নিজস্ব চ্যান্সেরি ভবন এবং দূতাবাস নির্মাণের পদক্ষেপ নিয়েছে। এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যেসব দেশে অনেক বেশি বাংলাদেশী বসবাস করছেন সেখানে বাংলাদেশের নিজস্ব চ্যান্সেরি ভবন নির্মাণ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

 

তিনি বলেন, আমি আজ খুব আনন্দিত, ইটালিতে আমাদের নিজস্ব চ্যান্সেরি ভবন খুলতে পেরেছি। ইউরোপে ব্রিটেনের পরে এখানেই সর্বাধিক সংখ্যক বাংলাদেশী বসবাস করছেন।

 

রোমে চ্যান্সেরি ভবন নির্মাণের মাধ্যমে বাংলাদেশ নিজস্ব বিল্ডিং এবং পরিচিতি পেয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি দূতাবাস বিদেশের মাটিতে একটি দেশের প্রতিনিধিত্ব করে এবং দেশটির ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার পাশাপাশি প্রবাসীদের সেবা প্রদান করে থাকে।

 

তিনি বলেন, এর মাধ্যমে আমরা আমাদের আর্থ-সামাজিক বিকাশে অনেক বেশি অবদান রাখতে পারি।

 

Manual8 Ad Code

শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান পৃথিবীতে বিশ্ব একটি গ্রামে পরিণত হয়েছে, যেখানে কেউ একা একা চলতে পারে না।

 

তিনি বলেন, আমরা বিভিন্ন দেশে আমাদের নিজস্ব চ্যান্সেরি ভবন এবং দূতাবাস ভবন নির্মাণ করছি। এটি আমাদের জন্য গর্বের বিষয়, কারণ সেখানে আমাদের পতাকা উড়বে এবং সেসব দেশের মানুষ বাংলাদেশ সম্পর্কে আরও জানতে পারবে।

 

প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, জাতির পিতা যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠনের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের নিজস্ব দূতাবাস ভবন নির্মাণের পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।

Manual2 Ad Code

 

শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার বঙ্গবন্ধু প্রবর্তিত পররাষ্ট্রনীতি- ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’- অনুসরণ করছে।

 

বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে চ্যান্সেরি ভবনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবহিত করেন। প্রধানমন্ত্রী চ্যান্সেরি ভবনে পৌঁছে প্রথমে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে দূতাবাস প্রাঙ্গণে স্থাপন করা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি চ্যান্সেরি ভবনের অভ্যন্তরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ৩১ টি দেশে বাংলাদেশের নিজস্ব চ্যান্সেরি এবং দূতাবাস ভবন নির্মিত হবে।

 

শেখ হাসিনা ইতালির প্রধানমন্ত্রী জিউসেপ কোঁতের আমন্ত্রণে মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চার দিনের এক সরকারি সফরে ইতালি পৌঁছান।