৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৮ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

ই-পাসপোর্ট ‘মুজিববর্ষের’ উপহার : প্রধানমন্ত্রী

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ২২, ২০২০
ই-পাসপোর্ট ‘মুজিববর্ষের’ উপহার : প্রধানমন্ত্রী

Manual1 Ad Code

ইলেকট্রনিকস পাসপোর্ট (ই-পাসপোর্ট) হাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা – ছবি : টিভি থেকে নেয়া

 

অভিযোগ ডেস্ক : ই-পাসপোর্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিববর্ষের’ উপহার। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ আরো একধাপ এগিয়ে গেল। দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশেই প্রথম ই-পাসপোর্ট চালু করতে সক্ষম হয়েছে।

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার (২২ জানুয়ারি) সকালে ইলেকট্রনিকস পাসপোর্ট (ই-পাসপোর্ট) কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী স্বয়ংক্রিয় বর্ডার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনারও উদ্বোধন করেন।

 

Manual5 Ad Code

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৯৭৩ সালে পূর্ণাঙ্গ ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তখন হাতে লিখে পাসপোর্ট দেয়া হত। ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে আগামী ১০ বছরের জন্য আমরা এখন ই-পাসপোর্ট প্রদানের পদক্ষেপ নিয়েছি। এটা বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট এমবেডেড ইলেক্ট্রনিক মাইক্রো প্রসেসর চিপ থাকবে। এতে পাসপোর্টধারীর বায়োগ্রাফি ও বায়োমেট্রিক অর্থাৎ তার ছবি, ফিঙ্গারপ্রিন্ট, চোখের কর্নিয়া থাকবে।

 

তিনি বলেন, অতীতে একটা সমস্যা ছিল পাসপোর্ট নিয়ে। একসময় গলাকাটা পাসপোর্টও প্রচলিত ছিল আমাদের দেশে। সেটা আর কখনও হবে না। এখন আর মানুষ ধোকায় পড়বে না। এখন স্বচ্ছতার সঙ্গে চলবে। এখন ‘ই গেট’ থাকবে যেখানে সরাসরি খুব সহজেই ইমিগ্রেশন দ্রুত করতে পারবে।

Manual5 Ad Code

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সৌভাগ্য ২০২০ আমার জাতির পিতার জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন করছি। এরইমধ্যে কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। মুজিববর্ষে ই-পাসপোর্ট মানুষ পাবে, সেজন্য জনগণকে আমি আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। জাতির পিতার জন্মবার্ষিকীর উদযাপনের এই বিশেষ বছরে আমরা জনগণের হাতে ই-পাসপোর্ট তুলে দিতে পারছি যা নিঃসন্দেহে ডিজিটাল জগতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে আরো উজ্জ্বল করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

 

Manual6 Ad Code

এসময় প্রধানমন্ত্রীর হাতে তার ই-পাসপোর্ট তুলে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

Manual4 Ad Code

 

এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল অধিকতর নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সম্বলিত ই-পাসপোর্টের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত পিটার ফারেনহোল্টজসহ বিদেশে বাংলাদেশ মিশনের প্রতিনিধিবৃন্দ।

 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের আওতাধীন ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় জার্মান কোম্পানি ভেরিডোস জিএমবিএইচ কর্তৃক ই-পাসপোর্ট ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। ই-পাসপোর্টের মেয়াদ হবে ৫ থেকে ১০ বছর।

 

৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ৩৫০০ টাকা, জরুরি ফি ৫৫০০ টাকা ও অতীব জরুরি ফি ৭৫০০ টাকা এবং ১০ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ৫০০০ টাকা, জরুরি ফি ৭০০০ টাকা ও অতীব জরুরি ফি ৯০০০ টাকা।

 

নতুন পাসপোর্টের ক্ষেত্রে অতীব জরুরিতে ৩ দিনে, জরুরিতে ৭ দিনে ও সাধারণ পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে ২১ দিনের পাসপোর্ট পাওয়া যাবে। তবে পুরনো অথবা মেয়দোত্তীর্ণ পাসপোর্ট রি-ইস্যু করার ক্ষেত্রে অতীব জরুরি পাসপোর্ট ২ দিনে, জরুরি পাসপোর্ট ৩ দিনে ও সাধারণ পাসপোর্ট ৭ দিনের মধ্যে দেয়া হবে।

 

আলাদা আলাদা ই-পাসপোর্ট ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য ৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ১০০ মার্কিন ডলার ও জরুরি ফি ১৫০ মার্কিন ডলার। ১০ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ১২৫ মার্কিন ডলার ও জরুরি ফি ১৭৫ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

ই-পাসপোর্টের আবেদনপত্র জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা জন্মনিবন্ধন সনদ (বিআরসি) অনুযায়ী পূরণ করতে হবে। অপ্রাপ্ত বয়স্ক (১৮ বছরের কম) আবেদনকারী, যার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নেই, তার পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে। সূত্র : বাসস