১৪ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৩শে জমাদিউস সানি, ১৪৪৭ হিজরি

দুই স্বামীর এক স্ত্রী!

admin
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৯
দুই স্বামীর এক স্ত্রী!

Manual5 Ad Code

সিরাজুল হক রাজু, বরিশাল থেকে :

Manual6 Ad Code

পঁচিশ বছর দাম্পত্য জীবন কাটানো নিজের স্ত্রী’কে নিয়ে অন্য আরেকজন অবৈধভাবে সংসার করায় স্ত্রী’কে ফিরে পেতে প্রশাসনের কাছে স্বামীর লিখিত অভিযোগ দায়ের।

ঘটনাটি ঘটেছে আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের যবসেন গ্রামের এনায়েত পাইকের দাম্পত্য জীবনে।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও থানা প্রশাসনে কাছে বিচারের দাবি জানিয়ে স্ত্রী’কে ফিরে পেতে ভুক্তভোগী এনায়েত পাইকের (৭০) এর দায়ের করা লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত বিশ বছর আগে পাশ্ববর্তি কোটালীপাড়া উপজেলার বান্ধাবাড়ি গ্রামের সোমেদ শেখ এর মেয়ে মেনোকার সাথে তার বিয়ে হয়।

এনায়েত পাইক জানান, তার প্রথম স্ত্রী মারা যাবার দুই বছর পর স্বামী পরিত্যাক্তা মেনোকাকে বিয়ে করেন। দাম্পত্য জীবনে তাদের এক মেয়ে, এক ছেলে রয়েছে। মেয়ে বিয়ে দেয়ার পরে ৮/১০ বছরের ছেলে নিয়ে তাকে কিছু না বলে গত তিন বছর আগে তার স্ত্রী মেনোকা একই উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের নগরবাড়ি গ্রামের মৃত তালেব খানের ছেলে বেকারী ব্যবসায়ি হাকিম খান (৫৫)এর সাথে অবৈধভাবে বসবাস করে আসছে।

Manual2 Ad Code

এনায়েত পাইক অভিযোগে আরও বলেন, তার স্ত্রী মেনোকা তাকে কোন রকম ডিভোর্স না দিয়ে অন্যজনের সাথে অবৈধভাবে বসবাস করে দেশের প্রচলিত আইন ও শরিয়া আইন বিরোধী কাজ করছে। হাকিম খানের সাথে বসবাস করলেও বাকাল ইউনিয়ন পরিষদের ভিজিডি চাল গ্রহনের সুবিধাভোগীর তালিকায়ও মেনোকার স্বামীর নাম এনায়েত পাইক লেখা নাম রয়েছে।

এনায়েত পাইক অভিযোগের কপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, বাকাল ইউপি চেয়ারম্যোন, গৈলা ইউপি চেয়ারম্যানকেও প্রদান করেছেন।

নগড়বাড়ি গ্রামের মুরুব্বী শাহনুর হাওলাদার ধলা, স্থানীয় মেম্বর মশিউর সরদারের উপস্থিতিতে অভিযোগের ব্যাপারে হাকিম খান ও মেনোকা নিজেদের স্বামী স্ত্রী পরিচয় প্রদান করে জানান, ২০১৬ সালের ২ জুন মেনোকার বাবার বাড়ি কোটালীপাড়া উপজেলার বান্ধাবাড়ি ইউনিয়নের বিবাহ রেজিষ্ট্রার কাজী আব্দুস সামাদ খান মেনোকার বাবা ছোমেদ শেখ এর উপস্থিতিতে দুই লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করা কাবিনের রেজিষ্ট্রারের সত্যায়িত কপি প্রদর্শন করেন। এসময় হাকিম খানকে বিয়ের আগে একই বছর ১৫ ফেব্রুয়ারি পূর্বের স্বামী এনায়েত পাইককে ম্যানোকা তালাক দিয়েছেন বলে জানান।

স্থানীয়রা জানান, হাকিম পাইকের এটা চতুর্থ ও মেনোকার তৃতীয় বিয়ে। এনায়েত পাইক কোন তালাকনামা পাননি বলে জানান।

বান্ধাবাড়ি ইউনিয়ন নিকাহ রেজিষ্ট্রার আ. ছামাদ শেখ এর বাড়ি গেলে তার অনুপস্থিতিতে তার ছেলে বর্তমানে ওই ইউনিয়নের নিকাহ রেজিষ্ট্রার মো. নাছির উদ্দিন খান তার বাবার মাধ্যমে তালাকনামা ও নিকাহর কাবিননামার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তার বাবা ২০১৬ সালে অবসরে যাওয়ায় ২০১৭ সালের সভেম্বর মাসে তিনি সরকারীভাবে বিয়ে রেজিষ্ট্রারের দায়িত্বে নিযুক্ত হন। উল্লেখিত তারিখে তার বাবার সঙ্গে তিনিও উপস্থিত থেকে উল্লেখিত হাকিম খান ও মেনোকার বিবাহ সম্পন্ন করান। নিকাহ রেজিস্ট্রার দেখতে চাইলে নাসির খান জানান, তার বাবার আমলের সকল ভলিউম গোপালগঞ্জ জেলা রেজিষ্ট্রারের কার্যালয়ে রক্ষিত আছে।

গোপালগঞ্জ জেলা রেজিষ্ট্রার কার্যালয়ের রেকর্ড কিপার নাজমা বেগম ইত্তেফাককে জানান, উল্লেখিত তারিখে মেনোকা ও হাকিম খানের বিয়ের কোন রেকর্ড রেজিষ্ট্রার বহিতে নেই।

বান্ধাবাড়ি ইউনিয়নের সাবেক কাজী ছামাদ শেখের ছেলে বর্তমান কাজী নাসির উদ্দিনকে জেলা রেজিষ্ট্রারের রেকর্ড কিপার নাজমা বেগমের বক্তব্য “ভলিউমে বিয়ের রেকর্ড না” থাকার কথা জানালে নাসির সময় চেয়ে বলেন, তিনি ভলিউম দেখে কাবিনের কপি পরে দেখাবেন !

উল্লেখ্য, আগৈলঝাড়া উপজেলায় নিকাহ রেজিষ্ট্রারেরা এলাকায় বাল্য বিয়ে পড়াতে অস্বীকৃতি জানালে ওই বাল্য বিয়ের বর-কনের অভিভাবকেরা পাশ্ববর্তি কোটালীপাড়ার বান্ধাবাড়ি এলাকার নিকাহ রেজিষ্ট্রার দিয়ে বাল্য বিয়ে সম্পন্ন করানোর বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাত অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি প্রথমে সামাজিকভাবে দেখার দায়িত্ব দেয়া হবে। সমাধান হলে ভাল না হয় আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপুল চন্দ্র দাস বলেন, অভিযোগের কপি তিনি হাতে পান নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান তিনি।

Manual3 Ad Code

থানা অফিসার ইন চার্জ মো. আফজাল হোসেন বলেন, এরকম একটি অভিযোগ পেয়ে এসআই জামাল হোসেনকে তদন্তর জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

Manual7 Ad Code

এসআই জামাল হোসেন জানান, উভয় পক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছে। তাদের কথা শুনে, কাগজপত্র দেখে পরবর্তি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাকাল ইউপি চেয়ারম্যান বিপুল দাস জানান, তিনি মেনোকাকে ভিজিডি কার্ড দেন নি। পূর্ববর্তি ইউএনওর শুপারিশে এনায়েত পাইকের স্ত্রী হিসেবে মেনোকা ভিজিডি কার্ড উত্তোলন করছে। চাল উত্তোলন করে এনায়েতকে অর্ধেক দেয়া হয় আর অর্ধেক মেনোকা নেয়।