ভারতে নামাজরত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় ঢাল হয়ে দাঁড়ালো হিন্দু সহপাঠীরা।
শেখ স্বপ্না শিমুঃ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির চমৎকার নজির স্থাপন করলো ভারতের উত্তর প্রদেশের লখনৌ বিশ্ববিদ্যালয়ের হিন্দু শিক্ষার্থীরা। মুসলিম শিক্ষার্থীরা নামাজ আদায় করছেন, আর তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মানববন্ধন করে ঘিরে রেখেছেন হিন্দু শিক্ষার্থীরা। এ দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
দ্য টাইমস অব ইন্ডিায়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে অবস্থিত প্রায় ২০০ বছরের পুরনো লাল বড়দারি মসজিদ কমপ্লেক্সকে ঘিরে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মসজিদটিতে তালা লাগিয়ে দেয়।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, লাল বড়দারি ভবনটি আগে একটি ব্যাংক ও ক্যানটিন হিসেবে ব্যবহৃত হলেও অবকাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ায় ২০১৭–১৮ সাল থেকে এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা ভবনটিতে যাতায়াত করছিলেন বলে জানা যায়। গেট তালাবদ্ধ করে ব্যারিকেড দেয়া হয়েছে। ভবনের ভেতরের মসজিদটি আরও বেশি জরাজীর্ণ ও আংশিক নির্মাণাধীন হওয়ায় সেখানে প্রবেশ নিরাপদ নয় বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।
তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই রমজান মাসে মসজিদ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ফলে মুসলিম শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ে মসজিদে প্রবেশ করে নামাজ পড়তে পারেন না।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া (এনএসইউআই) ও সমাজবাদী ছাত্রসভা একটি প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেয়। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বাইরে বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভ চলাকালে নামাজের সময় হলে মুসলিম শিক্ষার্থীরা মসজিদের বাইরে নামাজ আদায় করেন।
এ সময় পুলিশ উপস্থিত থাকায় নামাজে বাধা আসতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে হিন্দু শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করে মুসলিম সহপাঠীদের চারপাশে অবস্থান নেন।এনএসইউআইয়ের জাতীয় সমন্বয়ক বিশাল সিং ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, ‘যে গেট দিয়ে আমাদের মুসলিম ভাইয়েরা লাল বড়দারিতে নামাজ পড়তে যেতেন, সেটি তালা মেরে সিলগালা করা হয়েছে।’
তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ পদক্ষেপকে নিরাপত্তাজনিত সতর্কতা বলে দাবি করেছে। তাদের দাবি, লাল বড়দারি ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় দুর্ঘটনা এড়াতেই এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভাবনা মিশ্রা বলেন, ‘আমরা প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ (এএসআই) ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। ভবনটিকে ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে সংরক্ষণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।