২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১২ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

প্রতি রাতে খালি পেটে ঘুমাতে যায় বিশ্বের প্রায় ৭৩ কোটি মানুষ!

Editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬
প্রতি রাতে খালি পেটে ঘুমাতে যায় বিশ্বের প্রায় ৭৩ কোটি মানুষ!

Manual2 Ad Code

প্রতি রাতে খালি পেটে ঘুমাতে যায় বিশ্বের প্রায় ৭৩ কোটি মানুষ!

শেখ স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টারঃ ২০২৬ সালেও বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭৩ কোটি মানুষ ক্ষুধার্ত, যা সভ্যতার চরম ব্যর্থতা। সংঘাত ও জলবায়ুর প্রভাবে ২০৩০ সালের ‘জিরো হাঙ্গার’ লক্ষ্যমাত্রা এখন অনিশ্চিত। সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান মাঝারি হলেও ভারত ও পাকিস্তানের পরিস্থিতি গুরুতর। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নয়, খাদ্য অপচয় রোধ ও সুষম বণ্টনই পারে ক্ষুধামুক্ত পৃথিবী গড়তে।

২০২৬ সালের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আমরা যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আর মহাকাশ জয়ের গল্প বলছি, তখনও বিশ্বের এক বিশাল জনগোষ্ঠী প্রতি রাতে খালি পেটে ঘুমাতে যায়। সবশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ক্ষুধার অবসান ঘটানোর গতি ২০১৬ সালের পর থেকে কার্যত থমকে দাঁড়িয়েছে।
সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতার ত্রিমুখী চাপে বিশ্বের অন্তত ৪২টি দেশে ক্ষুধা পরিস্থিতি এখন গুরুতর বা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।

Manual2 Ad Code

২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘের ‘জিরো হাঙ্গার’ বা শূন্য ক্ষুধার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের কথা থাকলেও, বর্তমান বাস্তবতায় তা এক সুদূরপরাহত স্বপ্ন। গবেষকরা সতর্ক করছেন যে, শূন্য ক্ষুধার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার যে গতিতে কমছে, তাতে পুরোপুরি ক্ষুধামুক্ত পৃথিবী গড়তে আমাদের হয়তো ২১৩৭ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। বিশেষ করে আফ্রিকান সাহারা অঞ্চল এবং দক্ষিণ এশিয়ায় ক্ষুধার এই থাবা সবচাইতে বেশি বিস্তৃত।

Manual4 Ad Code

২০২৫-২৬ সালের সূচকে ১২৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৫তম। ১৯.২ স্কোর নিয়ে বাংলাদেশ ‘মাঝারি’ বা ‘Moderate’ ক্ষুধার তালিকায় অবস্থান করছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং বিশ্ববাজারের অস্থিতিশীলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ তার খাদ্য উৎপাদন ও শিশু মৃত্যুর হার কমানোর ক্ষেত্রে প্রতিবেশী অনেক দেশের তুলনায় ধারাবাহিক সাফল্য দেখিয়েছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, চাল ও নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য নিম্নবিত্তের থালায় পুষ্টিকর খাবারের জোগান দেয়াকে দিন দিন কঠিন করে তুলছে।

Manual6 Ad Code

অন্যদিকে, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ ভারতের চিত্র বেশ ভিন্ন এবং কিছুটা হতাশাজনক। গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্সে ভারতের বর্তমান অবস্থান ১০২, যা ‘Serious’ বা ‘গুরুতর’ ক্ষুধার পর্যায়ভুক্ত। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আর ক্ষুধার এই বৈপরীত্য প্রমাণ করে, কেবল জিডিপি বাড়লেই সাধারণ মানুষের পুষ্টি নিশ্চিত হয় না।

Manual6 Ad Code

অনেকে যখন অতিরিক্ত খাবারটুকু ডাস্টবিনে ফেলছেন, ঠিক সেই মুহূর্তে বিশ্বের ৭৩ কোটি মানুষ ক্ষুধার জ্বালায় ছটফট করছে। প্রতি ১০ জনে একজন মানুষ প্রতি রাতে খালি পেটে ঘুমায়­– এটি কোনো সংখ্যা নয়, বরং বর্তমান সভ্যতার এক চরম ব্যর্থতা।