২৫শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১০ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

তিস্তার তলদেশে নেমেছে যন্ত্র, অপেক্ষায় কৃষক

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ৭, ২০২৬
তিস্তার তলদেশে নেমেছে যন্ত্র, অপেক্ষায় কৃষক

Manual3 Ad Code

লোকমান ফারুক, রংপুর

Manual6 Ad Code

ভোরের কুয়াশা ভেদ করে তিস্তা ব্যারেজের বাইশপুকুর সিল্ট ট্র্যাপ এলাকায় যখন ভারী যন্ত্রের শব্দ ভেসে আসে, তখন বোঝা যায়—এটা কেবল মাটি কাটার কাজ নয়। তিস্তার তলদেশে জমে থাকা পলি সরানোর এই কর্মযজ্ঞের সঙ্গে জড়িয়ে আছে উত্তরবঙ্গের হাজারো কৃষকের আগামী মৌসুমের ভাগ্য।

দেশের কৃষি অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সেচ প্রকল্পকে সচল রাখতে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বাস্তবায়ন করছে ৪ কোটি ৪২ লাখ ২০ হাজার ৮২৯ টাকার একটি বড় খনন প্রকল্প। লক্ষ্য একটাই বোরো মৌসুমের আগে পানির পথ পরিষ্কার করা। প্রায় ৪৫ হেক্টর এলাকাজুড়ে ২ লাখ ৮৫ হাজার ঘনমিটার পলি অপসারণের কাজ চলছে নিরবিচ্ছিন্নভাবে। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে খনন। পাউবো নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী আগামী ১৬ জানুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যেই কাজ শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে।

Manual3 Ad Code

সাধারণ খনন নয় এখানে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘সিক্স সিলিন্ডার’ ড্রেজিং মেশিন। গভীর তলদেশে জমে থাকা পলি দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে তুলে আনছে এই যন্ত্র। কর্মকর্তাদের দাবি, এতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত হবে এবং ভবিষ্যতে ক্যানালে পলি জমার ঝুঁকি কমবে।
পুরো প্রকল্পটি দুইটি প্যাকেজে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম প্যাকেজে রংপুরের ইউনাইটেড ব্রাদার্স অপসারণ করছে ১ লাখ ৭০ হাজার ঘনমিটার মাটি। দ্বিতীয় প্যাকেজে সিরাজগঞ্জের ঠিকাদার এম. ডি. শামীমুর রহমানের দায়িত্বে রয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার ঘনমিটার পলি অপসারণ।

কেন এই তাড়াহুড়া? উত্তরটা মাঠে দাঁড়ালেই স্পষ্ট। সামনে বোরো ধানের আবাদ। সেচের পানিতে সামান্য বিঘ্ন মানেই উৎপাদনে বড় ধাক্কা। সেই বাস্তবতা মাথায় রেখেই পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এই খনন কাজকে ‘জরুরি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

Manual8 Ad Code

ডালিয়া পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ঠিকাদারদের কঠোরভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে সার্বক্ষণিক তদারকির দায়িত্বে রয়েছেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাইদুল ইসলাম ও নুরুন্নবী।

তিনি বলেন, “পরিপত্র অনুযায়ী দ্রুততম সময়ে কাজ শেষ করাই আমাদের লক্ষ্য। সেচ মৌসুমে যেন কৃষক নির্বিঘ্নে পানি পান এই বিষয়টি আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।

তিস্তার এই তলদেশ খননের কাজ শেষ হলে সেচ ক্যানালগুলোর পানি ধারণক্ষমতা ও প্রবাহ গতি বাড়বে—এমনটাই আশা পাউবো কর্মকর্তাদের। তবে প্রকল্পের সাফল্য শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে একটাই প্রশ্নের ওপর সময়মতো কাজ শেষ হলো কি না, আর সেই পানি ঠিকমতো পৌঁছাল কি না মাঠের ফসলের গোড়ায়।

তিস্তার বুকে তখনো যন্ত্রের শব্দ থামে না। পলির নিচে লুকিয়ে থাকা পানির পথ খুলে দিতে ব্যস্ত মানুষ আর যন্ত্র। ওপরে, অপেক্ষায় কৃষক নিরব, কিন্তু চোখে অদৃশ্য এক প্রত্যাশা।

Manual1 Ad Code