৯ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড দেখতে পাচ্ছি না: নাহিদ ইসলাম

admin
প্রকাশিত নভেম্বর ২৩, ২০২৫
নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড দেখতে পাচ্ছি না: নাহিদ ইসলাম

Manual2 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি

ভোরবেলার শহর তখনও পুরোটা জেগে ওঠেনি। রাজধানীর রাস্তায় কুয়াশার মতো ঝুলে ছিল রাজনীতির অনিশ্চয়তা। ঠিক সেই সময়টায়, শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন হলে ঢুকতেই মনে হলো—এক ধরনের অদৃশ্য টানাপোড়েন, কেউ যেন শ্বাস চেপে ধরে আছে।

Manual5 Ad Code

মঞ্চে বসা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম কথা শুরু করার আগেই যেন ঘরে উপস্থিত সাংবাদিকদের মুখে প্রশ্নের ছায়া নেমে এসেছে: এবার কি সত্যিই সমান প্রতিযোগিতার নির্বাচন হতে চলেছে? মাইক্রোফোনে প্রথম শব্দ উঠতেই টান টান উত্তেজনা ভাঙল।

Manual5 Ad Code

নাহিদ ইসলামের কণ্ঠে দৃঢ়তা ছিল, তবু কোথাও একটুখানি শঙ্কা—’নির্বাচনের জন্য যেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকার কথা, সেই ধরনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আমরা দেখতে পাচ্ছি না।’ তার কথায় যেন দেশের রাজনীতির দীর্ঘদিনের অসুখ হেঁটে বেরিয়ে এল। ক্ষমতার চাপে প্রশাসনের নড়াচড়া, টাকার গোপন প্রবাহ, আর বহু নির্বাচনে দেখা জবরদখলের কালো ইতিহাস—সবকিছুর ভার তিনি নামিয়ে দিলেন এক নিঃশ্বাসে।

বললেন, “বাংলাদেশের নির্বাচনী সংস্কৃতিতে জবরদখল, প্রশাসনের অপব্যবহার, টাকার প্রভাব—এসব বহু বছর ধরে দেখে আসছি।’ ফ্যাসিবাদী সময়ে তো মানুষ ভোট দিতেও পারেনি। এবার অন্তত স্বচ্ছ একটা নির্বাচন হবে—এটাই আশা।’

Manual4 Ad Code

তার কথা শোনার সময়, কনফারেন্স হলের কোনায় দাঁড়িয়ে থাকা প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা—যাদের চোখ-মুখে ভ্রু কুঁচকে থাকা উপলব্ধি করছিল সাংবাদিকরা—আরো কঠিন করে দিলেন পরিবেশটাকে। যেন এই বক্তব্য তাঁদের কানে গিয়ে ঝনঝন করে উঠছে। নাহিদ ইসলাম বললেন, ‘নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন, সরকার এবং প্রশাসনের যে দৃঢ়তা দরকার, সেটা আমরা দেখতে পাচ্ছি না। বরং বিভিন্ন দলের নেতারা প্রকাশ্যে বলে বেড়াচ্ছে—কীভাবে প্রশাসন তাদের কথায় উঠবে-বসবে।’

বক্তব্যের আড়ালে যেন প্রশ্ন উঠে এলো—এই নির্বাচন কাদের হাতে? তিনি থামলেন। চারপাশে যেন নীরবতার ডানায় কিছুক্ষণ উড়ল এক অজানা সন্দেহ। তারপর আবার শুরু করলেন আরেক স্তরের অভিযোগ—রাজনীতির ভেতরের গোপন দরকষাকষি, ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে অন্তঃকলহ, পুরনো মিত্রদের নতুন চক্রান্ত, এবং সমঝোতার নির্বাচনের গন্ধ।

‘যারা একসময় বন্ধু ছিল, তারাই এখন চক্রান্তে ব্যস্ত,’ বললেন তিনি। ‘এই নির্বাচনকে ভাগাভাগির নির্বাচনে রূপ দিতে চাইছে কিছু পক্ষ। এটা হলে দেশের গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ এ যেন শুধু একটি দলের অভিযোগ নয়—বরং দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার এক কঠিন প্রতিচ্ছবি।

সাংবাদিকেরা নোট নিচ্ছেন, কিন্তু যেন মানসিক দূরত্ব নেই—উপস্থিত সবাই বুঝতে পারছেন, এই কথাগুলো কেবল আগামী এক দিনের নির্বাচন নয়, আগামী এক দশকের শাসন কাঠামোকেও ছুঁয়ে যেতে পারে। মনে হলো—ঘরের ভেতর এক অদৃশ্য রণভূমি তৈরি হয়েছে। সামনে মঞ্চে একজন নেতার বক্তৃতা, আর উল্টো পাশে ভবিষ্যতের গণতন্ত্র দাঁড়িয়ে নীরবে তাকিয়ে আছে।

Manual1 Ad Code

প্রশ্নগুলো তখন বাতাসে ভাসছিল—এই নির্বাচন কেমন হবে? সত্যিই কি মাঠ সমান? সংবাদ সম্মেলন শেষে লোকজন বেরিয়ে আসার সময় করিডোরে এক সাংবাদিক চুপচাপ বললেন, ‘দেশের রাজনীতির গল্পটা আজও বদলাতে পারল ন।রাজনৈতিক কুয়াশা এখনো ঘন, আর দেশের মানুষ অপেক্ষায় আছে সূর্য ওঠার। শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি একই থাকে—এই নির্বাচনে কি সত্যিই সমান মাঠ তৈরি হবে, নাকি ইতিহাস আবারও তার পুরনো পথেই হাঁটবে?