১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৯শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

ঠাকুরগাঁওয়ে স্কুলশিক্ষার্থীর মরদেহ নিয়ে সড়ক অবরোধ

admin
প্রকাশিত নভেম্বর ১৯, ২০২৫
ঠাকুরগাঁওয়ে স্কুলশিক্ষার্থীর মরদেহ নিয়ে সড়ক অবরোধ

Manual7 Ad Code

ঠাকুরগাঁওয়ে স্কুলশিক্ষার্থীর মরদেহ নিয়ে সড়ক অবরোধ

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার; ঠাকুরগাঁওয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় রাকেশ রায় (১৪) নামে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সহপাঠীরা সড়ক অবরোধ করে দোষীদের গ্রেফতার ও নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে।
ঠাকুরগাঁওয়ে স্কুলশিক্ষার্থীর মরদেহ নিয়ে সড়ক অবরোধ

মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ৬দফা দাবি নিয়ে গড়েয়া-ঠাকুরগাঁও সড়ক অবরোধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা। পরে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের আশ্বাসে রাত ১১টার দিকে অবরোধ তুলে নেয়।

Manual1 Ad Code

এর আগে দুপুরে স্কুল ছুটি শেষে বাড়ি ফেরার পথে নসিমনের ধাক্কায় সাইকেলসহ সড়কে ছিটকে পড়ে রাকেশ। পরে সহপাঠীরা উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর শিক্ষার্থীরা ৬ দফা দাবিয়ে নিয়ে সড়ক অবরোধ করে।

শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘যেহেতু রাকেশ কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে। আমরা দায়ী করছে সম্পন্ন স্কুলকে। কারণ স্কুলের কার্যক্রম নিয়ে অনেকদিন ধরে অভিযোগ করে আসছি আমরা। আমরা আর রাকেশের মতো বন্ধু হারাতে চাই না। প্রতিদিনই ভয় নিয়ে স্কুলে আসি। সড়কে নিয়ন্ত্রণ নেই, কেউ দেখার নেই। রাকেশের পরিবার কত কষ্টে তাকে এখান পর্যন্ত এনেছে, জানেন? তার বাবা মারা গেছে, মা দিনমজুর। সে কষ্ট করে পড়ালেখা করত। আজ সে নেই। আমরা পরীক্ষা চাই, ক্লাস চাই কিন্তু তার আগে নিরাপদ সড়ক চাই।’

তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- এ দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে সঠিক বিচার নিশ্চিত করতে হবে, নিহত শিক্ষার্থীর ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে সৎকারসহ তার পরিবারকে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, কাজের প্রতি অবহেলা করার জন্য স্কুলের গেটম্যানকে তার চাকুরী থেকে বহিস্কার করতে হবে এবং রাকেশের পরিবারের একজনকে চাকরি দিতে হবে, স্কুলের সামনে স্পিডব্রেকার ও জেব্রা ক্রসিং দিতে হবে, স্কুল প্রশাসনকে ক্ষমা চাইতে হবে, স্কুলের ম্যানেজিং কমিটিকে বাতিল করতে হবে ও চালককে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

Manual7 Ad Code

নিহত রাকেশের মা জুথী রাণী বলেন, রাকেশ ছিল আমার ভরসা, তার বাবাকে হারানোর পর রাকেশ আমাকে ধরে রেখেছিল। বলত মা কাদিস না, আমি বড় হব, তোমার সব দুঃখ দূর করব। আজ সেই ছেলেটাই নেই। আমি দিনমজুরের কাজ করি। কত কষ্ট করে ওদের মানুষ করছি। স্কুল থেকে ফিরে বই নিয়ে বসে থাকত। কত স্বপ্ন ছিল আমার। ছেলেটা একদিন বড় অফিসার হবে, আমাকে আর কষ্ট করতে দেবে না। সেই স্বপ্নটাও আজ শেষ হয়ে গেল।

Manual2 Ad Code

তিনি আরও বলেন, ‘ওকে আমি সকালে স্কুলে পাঠাই, সন্ধ্যায় লাশ হয়ে ফিরে আসল। আমার ছেলেটার কী দোষ ছিল? আমি ন্যায়বিচার চাই, যেন আর কোনো মা এভাবে সন্তান হারিয়ে পথে না বসে।’

ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সরোয়ারে আলম খান জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক একটি ঘটনা। শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে উত্তেজিত ছিল। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছি। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করলে তারা অবরোধ তুলে নেয়।

তিনি আরও বলেন, জড়িত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। সড়কে যাতে এ ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে আমরা ট্রাফিক বিভাগকে নিয়ে যৌথভাবে নজরদারি বাড়াচ্ছি। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

Manual2 Ad Code