১৩ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৩০শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

তারুণ্যদীপ্ত ক্ষণজন্মা এক স্টাইলিস্ট নায়ক সালমান শাহ

admin
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৫
তারুণ্যদীপ্ত ক্ষণজন্মা এক স্টাইলিস্ট নায়ক সালমান শাহ

Manual4 Ad Code

শেখ আসাদুজ্জামান আহমেদ টিটু, বিশেষ প্রতিনিধি।

তারুণ্যদীপ্ত ক্ষণজন্মা এক স্টাইলিস্ট নায়ক সালমান শাহ। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে নায়ক হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তা ছিল আকাশচুম্বী। দর্শকপ্রিয় এই নায়ক ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর আত্মহত্যা করেন।

Manual4 Ad Code

যদিও এ মৃত্যু রহস্যময়। মাত্র ২৫ বছরের টগবগে যুবক, তরুণ-তরুণীদের স্বপ্নের নায়ক হারিয়ে গেছেন অজানা এক দেশে। তাঁর পুরো নাম শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন। জন্ম ১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেট শহরের দাড়িয়াপাড়ায়। পিতা কমর উদ্দিন চৌধুরী একজন বিচারক, মাতা নীলা চৌধুরী অভিনেত্রি, কন্ঠশিল্পী ও রাজনীতিবিদ।

Manual7 Ad Code

সালমান শাহ পড়াশোনা শুরু করেন খুলনার বয়রা মডেল হাইস্কুলে। ১৯৮৭ সালে তিনি ঢাকার ধানমন্ডি আরব মিশন স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন। আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট ও ধানমন্ডির মালেকা সায়েন্স কলেজ (বর্তমান ডক্টর মালিকা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ) থেকে বিকম পাস করেন। বলতে গেলে সাংস্কৃতিক পরিবারেই তাঁর জন্ম।

মাতামহ কামরুজ্জামান ছিলেন এদেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’ এর অভিনেতা। মায়ের পদাঙ্ক অনুসরণ করে সালমান শাহ গান শিখেন ‘ছায়ানট’ থেকে। কিন্তু গায়ক না হয়ে হয়ে যান নায়ক। মাতামহের পদাঙ্ক অনুসরণ করে হন অভিনেতা।

Manual7 Ad Code

১৯৮৩ সালে একটি চা’য়ের বিজ্ঞাপনে অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর ছোট পর্দায় অভিষেক ঘটে। ১৯৮৫ সালে তাঁর অভিনীত প্রথম নাটক ‘আকাশ ছোঁয়া’ বিটিভিতে প্রচারিত হয়। সালমান শাহ আরো অভিনয় করেন- দেয়াল, সব পাখি ঘরে ফিরে, সৈকতে সারস, নয়ন, পাথর সময় ও ইতিকথা নাটকে।

Manual2 Ad Code

১৯৯৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত, সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবিতে নায়ক হয়ে চলচ্চিত্রে আসেন তিনি।

তাঁর অভিনীত অন্যান্য ছবিগুলো হলো- তুমি আমার, রঙ্গীন সুজন সখি, অন্তরে অন্তরে, স্নেহ, প্রেমযুদ্ধ, কন্যাদান, দেনমোহর, বিক্ষোভ, স্বপ্নের ঠিকানা, আঞ্জুমান, মহামিলন, আশা ভালবাসা, বিচার হবে, এই ঘর এই সংসার, প্রিয়জন, তোমাকে চাই, স্বপ্নের পৃথিবী, সত্যের মৃত্যু নাই, জীবন সংসার, মায়ের অধিকার, চাওয়া থেকে পাওয়া, প্রেম পিয়াসী, স্বপ্নের নায়ক, শুধু তুমি, আনন্দ অশ্রু, বুকের ভিতর আগুন।

সালমান শাহ, তারুণ্যদিপ্ত এক স্টাইলিস্ট চিত্রনায়ক। বাংলা চলচ্চিত্রের এই ক্ষণজন্মা নায়ক ধুমকেতুর মতো এসেছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের মোড় ঘুরিয়ে দেয়ার জন্য। চলচ্চিত্র ব্যবসায় সুবাতাস বয়ে দেয়ার জন্য। সুপার ডুপার হিট ছবি চলচ্চিত্রশিল্পকে উপহার দেয়ার জন্য। লক্ষ কোটি সিনেমাদর্শকদের মন জয় করার জন্য।

তরুণ-তরুণীদের হৃদয় হরণ করার জন্য। তাঁর অভিনয় দক্ষতায়, চলনে বলনে, পোশাকে ছিল নতুনত্ব আর আধুনিকতার ছোঁয়া। তরুণ সিনেমা দর্শকদের ‘স্টাইল আইকন’ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। সালমান শাহ’ই ছিলেন একমাত্র চিত্রনায়ক, যিনি সর্বমহলে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে পেরেছিলেন। সত্যিকার অর্থে তারকা নায়ক বলতে যা বুঝায় তিনি ছিলেন তাই।

তাঁর প্রায় প্রতিটি ছবিই ছিল ব্যবসাসফল, সুপার ডুপার হিট। চলচ্চিত্র জগতে এসে সালমান শাহ পেয়েছিলেন খ্যাতি অর্থ যশ আর কোটি ভক্তের হৃদয় নিংড়ানো ভালবাসা। মৃত্যুর পর তাঁর ভক্ত অনুরাগী কয়েকজন নিজেরাই আত্মহননের পথ বেছে নেন। দর্শক-ভক্তদের এমন পাগল করা ভালবাসা পাওয়া সত্যিই বিরল।

দর্শককুলের এতো ভালবাসার নায়কটি কি এক অজানা কারনে এই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন, আত্মহননের পথ বেছে নেন তা আজও রহস্যাবৃত রয়ে গেছে। দর্শকনন্দিত প্রয়াত সালমান শাহ বেঁচে থাকবেন তাঁর কর্মের মাঝে লক্ষ কোটি দর্শক ভক্তদের হৃদয়ে।