১০ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২২শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

কুষ্টিয়া জেলার অহংকার সালাহউদ্দিন লাভলু বাংলাদেশের জনপ্রিয় নির্মাতা।

admin
প্রকাশিত আগস্ট ২২, ২০২৫
কুষ্টিয়া জেলার অহংকার সালাহউদ্দিন লাভলু বাংলাদেশের জনপ্রিয় নির্মাতা।

Manual3 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি।

দেশের টেলিভিশন নাটক ও টেলিছবির জগতে এক অনন্য নাম সালাহউদ্দিন লাভলু।

Manual1 Ad Code

তিনি একইসাথে অভিনেতা, চিত্রনাট্যকার এবং পরিচালক—যিনি আধুনিক বাংলা নাটকের দর্শন ও রুচিকে নতুন আঙ্গিকে রূপ দিয়েছেন। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি অভিনয়, লেখা ও পরিচালনার মাধ্যমে দর্শক হৃদয়ে বিশেষ আসন গড়ে তুলেছেন। শৈশব ও বেড়ে ওঠা ১৯৬০ সালের ২৪ জানুয়ারি কুষ্টিয়া জেলার জুগিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সালাহউদ্দিন লাভলু। ছোটবেলা থেকেই শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ তাঁকে নাটকের জগতে টেনে আনে।

থিয়েটার জীবন ১৯৭৯ সালে তিনি ঢাকায় এসে যোগ দেন দেশের অন্যতম প্রখ্যাত নাট্যদল আরণ্যক নাট্যদলে। ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত সক্রিয়ভাবে মঞ্চে অভিনয় করে তিনি অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করেন। যদিও শুরুতে অভিনয়ই ছিল তাঁর প্রধান লক্ষ্য, পরে তিনি চিত্রগ্রাহক হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং ধীরে ধীরে পরিচালনায় মনোনিবেশ করেন। পরিচালক হিসেবে উত্থান চিত্রগ্রাহক হিসেবে ছয় বছরের অভিজ্ঞতা শেষে ১৯৯৭ সালে লাভলু টেলিভিশন চলচ্চিত্র পরিচালনায় নামেন।

প্রথম দিককার কাজ দ্বিচক্রযান (১৯৯৭), গহরগাছি (১৯৯৭), একজন আয়নাল লস্কর (১৯৯৯), আধুলী (২০০২) ও ঘর (২০০২)—এসব কাজই সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ায়। তাঁর ভিন্নধর্মী উপস্থাপনা, গল্প বলার অভিনব কৌশল এবং বাস্তবধর্মী চরিত্র নির্মাণ দর্শককে টেলিভিশনের পর্দায় দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রাখত। ধ

Manual8 Ad Code

রাবাহিক নাটক নির্মাণ ২০০৪ সালে তিনি নির্মাণ করেন জনপ্রিয় ধারাবাহিক রঙের মানুষ। এটি ব্যাপক সাফল্য লাভ করে এবং লাভলুকে পরিচিত করে তোলে জনপ্রিয় ধারাবাহিক নির্মাতা হিসেবে।

এরপর তিনি একে একে নির্মাণ করেন— • ভবের হাট (২০০৭) • ঘর কুটুম (২০০৮) • আলতা সুন্দরী (২০০৯) • সাকিন সারিসুরি (২০০৯) • হাড় কিপ্টে (২০০৮) এসব নাটকে অভিনয় করেছেন দেশের জনপ্রিয় শিল্পীরা—চঞ্চল চৌধুরী, মোশাররফ করিমসহ আরও অনেকে। তাঁর নাটকে গ্রামীণ জীবন, মানবিক টানাপোড়েন এবং কৌতুক মিশ্রিত সামাজিক বাস্তবতা দর্শকের কাছে আলাদা আবেদন সৃষ্টি করে। জনপ্রিয় টেলিফিল্ম সালাহউদ্দিন লাভলুর উল্লেখযোগ্য টেলিফিল্মগুলোর মধ্যে রয়েছে— • ব্যস্ত ডাক্তার (২০০৪) • গরুচোর (২০০৭) • পত্র মিতালী (২০০৭) • স্বপ্নের বিলাত (২০০৭) • ঢোলের বাদ্য (২০০৮) • পাত্রী চাই (২০০৯) • ওয়ারেন (২০০৯) এসব নাটকই দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করে এবং তাঁকে টেলিভিশন অঙ্গনের শীর্ষ নির্মাতাদের কাতারে দাঁড় করায়।

Manual7 Ad Code

পুরস্কার ও স্বীকৃতি তাঁর কর্মজীবনে তিনি অর্জন করেছেন— • চারবার বাচসাস পুরস্কার • মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার • সিজেএফবি পারফরম্যান্স অ্যাওয়ার্ড এছাড়াও অসংখ্য সম্মাননা তাঁর ঝুলিতে যুক্ত হয়েছে। অবদান সালাহউদ্দিন লাভলু বাংলাদেশের টেলিভিশন নাটকে এক যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছেন।

Manual8 Ad Code

তিনি গ্রামীণ জীবনের গল্প, মাটির গন্ধ, সাধারণ মানুষের হাসি-কান্না ও সংগ্রামকে নাটকে প্রাণবন্তভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। একইসাথে আধুনিক ধারাবাহিক নাটকের ধারা গড়ে তুলতে তাঁর অবদান অপরিসীম।