১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৯শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

স্মরণ – ভাষা সংগ্রামী নাদেরা বেগম।

admin
প্রকাশিত আগস্ট ৩, ২০২৫
স্মরণ –   ভাষা সংগ্রামী নাদেরা বেগম।

Manual2 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি,

Manual3 Ad Code

শেখ আসাদুজ্জামান আহমেদ টিটু

। নাদেরা বেগম মহান বাংলা ভাষা আন্দোলনের একজন অন্যতম সংগঠক এবং কর্মী ছিলেন। ছিলেন বাংলাদেশে মুসলিম মহিলাদের বাম ধারার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করার অন্যতম পথিকৃৎ। জন্ম ১৯২৯ সালের ২ আগস্ট এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে। পিতা খান বাহাদুর আবদুল হালিম চৌধুরী এবং মা আফিয়া বেগম। বাবা-মায়ের ১৪ সন্তানের মধ্যে তিনি তৃতীয়। প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ ও জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরী তাঁর বড় ভাই এবং শহীদ বুদ্ধিজীবী মুনীর চৌধুরী তাঁর মেজো ভাই। কিংবদন্তি নাট্য অভিনেত্রি ফেরদৌসী মজুমদার তাঁর ছোট বোন। বরিশাল সদর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৪৪ সালে তিনি মুসলিম মেয়েদের মধ্যে প্রথম বিভাগে প্রথম হয়ে ম্যাট্রিক পাস করেন। ১৯৪৮ সালে লেডি ব্রাবোর্ন কলেজ থেকে বিএ পাস করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এমএ ডিগ্রি নেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। সাবেক অর্থসচিব ও মহা হিসাব নিরীক্ষক গোলাম কিবরিয়ার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর তিনি গোলাম কিবরিয়ার চাকরি সূত্রে করাচি, মস্কোসহ বিভিন্ন স্থানে বসবাস করেন। পরবর্তীতে দেশে ফিরে আবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে অধ্যাপনা শুরু করেন। অত্যন্ত রক্ষণশীল পরিবারে বেড়ে উঠেও বড় ভাইদের সহায়তায় পড়াশোনা শেষ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমএ করার সময়েই তিনি জড়িয়ে পড়েন বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে। মুনীর চৌধুরী’র অনুপ্রেরণায় কমিউনিস্ট ছাত্রী সংস্থা গঠনের কাজ শুরু করেন। ১৯৪৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের বেতন ভাতা বৃদ্ধির আন্দোলনে তিনি অংশগ্রহন করেন। বিশ্যবিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তখন সরকারের নির্দেশে ২৭ জন ছাত্র-ছাত্রীকে বহিস্কার ঘোষণা করে। যাদের মধ্যে একমাত্র মেয়ে হিসেবে নাদেরা বেগমের নাম ছিলো। পুলিশ তাঁর নামে হুলিয়া জারি করলে আত্মগোপনে চলে যান তিনি। এ অবস্থায় তিনি পালিয়ে পিকেটিং মিটিং মিছিলে নেতৃত্ব দিয়েছেন। পরবর্তীতে গ্রেফতার হলে ১৯৪৯ সাল থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত ঢাকা আর রংপুর জেলে দুই বছর কারাভোগ করেন। তিনি ছিলেন ভাষা আন্দোলনের সূচনালগ্নের অন্যতম সংগঠক। ১৯৪৮ সালের ১৬ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেলতলায় বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবীতে অনুষ্ঠিত সভাতে তিনি অংশগ্রহন করেন। উক্ত সভায় পুলিশি অ্যাকশনে তিনি আহত হন। পাকিস্তান সরকার বাংলা ভাষাকে আরবি, রোমান ইত্যাদি বিভিন্ন হরফে লেখার সিদ্ধান্ত নিতে চাইলে বিভিন্ন কর্মসূচীতে অংশগ্রহন করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানান তিনি। ভাষা আন্দোলনের সূচনালগ্নে তাঁর প্রচেষ্টায় কামরুন্নেসা স্কুল, বাংলাবাজার স্কুল, ইডেন মহিলা কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেয়ে তিনি নারীদেরকে উদ্বুদ্ধ করতেন। পরবর্তীতে এসব নারীরা ভাষা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখে। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের সময় তিনি আন্ডার গ্রাউন্ডে থেকে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। পরবর্তীতে অন্যান্য ভাষা সংগ্রামীদের স্মৃতি-চারণায় সেগুলো উঠে আসে। ২০১৩ সালের ১২ এপ্রিল ভাষা সৈনিক নাদের বেগম মৃত্যুবরণ করেন। শ্রদ্ধাঞ্জলি।

Manual1 Ad Code