১৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৩০শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

দুই একর লিজে ৪ একরের মার্কেট!

admin
প্রকাশিত জুলাই ২৩, ২০১৯
দুই একর লিজে ৪ একরের মার্কেট!

Manual7 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্টঃরেলওয়ের কাছ থেকে লিজ নেওয়া হয়েছিল ২ দশমিক ০৩ একর জমি। তবে প্রভাবশালী তিন লিজগ্রহীতার মন ভরেনি তাতে। লিজের বরাদ্দের সঙ্গে আশপাশের আরো ১ দশমিক ৬৮ একর জমি দখলে নিয়ে তারা গড়ে তুলেছেন মার্কেট!

Manual3 Ad Code

আলোচিত এই দখলকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে নগরের আইস ফ্যাক্টরী রোডে। স্থানীয় তিন প্রভাবশালী বৈধ লিজের সঙ্গে অবৈধভাবে দখলকৃত জমি মিলিয়ে গড়ে তুলেছেন শাহ আমানত রেলওয়ে সুপার মার্কেট। বর্তমানে মার্কেটটির দোকান বিক্রি চলছে চড়া দামে।

Manual7 Ad Code

জানা যায়, রেলওয়ের মালিকানাধীন জায়গাটি একসময় ছিল নগরের প্রধান মাদক স্পট। বরিশাল কলোনী নামের এ জায়গাটিতে রাত-দিন চলত মাদকের বেচাকেনা। তবে ২০১৮ সালে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে উচ্ছেদ করা হয় মাদকের সব আস্তানা। পরে জায়গাটি রেলওয়ে বুঝে পায়।

২০১৮ সালের শেষ দিকে রেলওয়ে থেকে ওই জায়গাটির ২ দশমিক ০৩ একর লিজ নেন কয়েকজন ব্যক্তি। তারাই সেখানে গড়ে তোলেন শাহ আমানত রেলওয়ে সুপার মার্কেট। তবে রেলওয়ের হিসাবমতে সেখানে মোট জায়গা আছে ৩ দশমিক ৭১ একর। পুরো জায়গা জুড়েই মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে। অর্থাৎ ১ দশমিক ৬৮ একর জায়গা অবৈধভাবে দখলে নিয়েছে মার্কেট নির্মাণকারীরা।

Manual5 Ad Code

রেলওয়ে সূত্র জানায়, মার্কেটের ইজারাদাররা প্রতি বর্গফুট জায়গা ৪০ টাকা করে লিজ নিয়েছেন এক বছরের জন্য। প্রতি বছর এ লিজ নবায়ন করতে হবে। তবে প্রতি বর্গফুটের জন্য ৪০ টাকা দরে ইজারাদাররা রেলওয়েকে ২ দশমিক ০৩ একর জায়গার টাকা দেবে। অথচ ব্যবহার করবে ৩ দশমিক ৭১ একর জায়গা। রেল পূর্বাঞ্চলের কর্মকর্তারা বিষয়টি জানার পরও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেননি। ধারণা করা হচ্ছে, রেলের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা এ ঘটনার নেপথ্যে জড়িত আছেন।

Manual3 Ad Code

অভিযোগ এর অনুসন্ধানে জানা যায়, কাগজে-কলমে রেলওয়ে থেকে জায়গাটি লিজ নিয়েছে আইস ফ্যাক্টরি রোড দোকান মালিক ও ব্যবসায়ী সমিতি। তবে নেপথ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের উপ অর্থ বিষয়ক সম্পাদক হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর, আইস ফ্যাক্টরি রোড ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি নেতা শাহ আলম এবং সাবেক কাউন্সিলর ও আইস ফ্যাক্টরি রোড দোকান মালিক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জহির আহমদ চৌধুরী। তাদের নিয়ন্ত্রণেই চলছে পুরো মার্কেটের দোকান বরাদ্দ এবং সেলামি আদায়ের কাজ।