১১ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৩শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

শহীদ অধ্যাপক ডা:শামসুদ্দীন আহমেদ, মুক্তিযুদ্ধের এক অমর প্রাণ।

Editor
প্রকাশিত এপ্রিল ১১, ২০২৬
শহীদ অধ্যাপক ডা:শামসুদ্দীন আহমেদ, মুক্তিযুদ্ধের এক অমর প্রাণ।

Manual2 Ad Code

শহীদ অধ্যাপক ডা:শামসুদ্দীন আহমেদ, মুক্তিযুদ্ধের এক অমর প্রাণ।

বিশেষ প্রতিনিধিঃ সিলেট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (বর্তমানে শহীদ ডা. শামসুদ্দীন আহমদ সদর হাসপাতাল) শল্য বিভাগের প্রধান ছিলেন ডা. শামসুদ্দীন আহমদ। সুদর্শন, নীতিপরায়ণ, মিষ্টভাষী হলেও কিছুটা গম্ভীর প্রকৃতির ছিলেন। প্রখর ব্যক্তিত্বের অধিকারী, পেশায় অসম্ভব সৎ, আন্তরিক, কর্তব্যে ছিলেন কঠোর ও একনিষ্ঠ।

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে নিরাপত্তা নেই বলে মেডিকেল কলেজের অনেক অধ্যাপক, ছাত্র হোস্টেল ও হাসপাতাল ছেড়ে পালিয়ে যেতে থাকেন। এ সময় বয়োকনিষ্ঠ চিকিৎসক, নার্স ও প্যারামেডিকেল কর্মীদের তিনি অনুরোধ করেন আহত ব্যক্তিদের সেবা করতে। যাঁরা চলে যান, তাঁদের প্রায় সবার হাতে ওষুধ ও চিকিৎসার সরঞ্জাম তুলে দিয়ে বলেছিলেন, ‘বাইরে গিয়ে মানবতার সেবা করো।’

Manual4 Ad Code

চারপাশে হত্যা ও ধ্বংস দেখেও শুধু পেশার প্রতি অঙ্গীকার ও মানবতার কারণে কর্মস্থল ছেড়ে যাননি শামসুদ্দীন আহমদ। তাঁকে অনেকেই বলেছিলেন হাসপাতাল থেকে চলে যেতে। কিন্তু তাঁর এক কথা—চলে গেলে রোগীকে কে দেখবে?

৮ এপ্রিল ইতালীয় সাংবাদিক ও সাহায্যকর্মী সমন্বয়ে গঠিত একটি দল ভারত থেকে তামাবিল দিয়ে সিলেট শহরে আসে। শামসুদ্দীন আহমদ তাঁদের গোটা হাসপাতাল ঘুরিয়ে নিরীহ নাগরিকের ওপর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নগ্ন হামলার প্রত্যক্ষ প্রমাণ তুলে ধরেন। এই ঘৃণ্য আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বক্তব্যও দেন। তাঁর বক্তব্য দলটি রেকর্ড করে (যা পরে ইতালিতে প্রচারিত হয়)।

পরদিন ৯ এপ্রিল মেডিকেল কলেজের পাশে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সঙ্গে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর যুদ্ধ হয়। হাসপাতালের অদূরবর্তী টিলা থেকে প্রতিরোধ যোদ্ধারা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি কনভয়ে আক্রমণ করে। এতে কনভয়ের সামনের জিপ উল্টে যায় এবং তিনজন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়। এর পরই পাকিস্তান সেনাবাহিনী হাসপাতাল এলাকা ঘিরে ফেলে। কিছুক্ষণ পর মেজর রিয়াজের নেতৃত্বে একদল পাকিস্তানি সেনা হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করে।

Manual7 Ad Code

আন্তর্জাতিক আইনে চিকিৎসক ও নার্স হত্যা অমার্জনীয় অপরাধ। কিন্তু এই আইন গ্রাহ্য করেনি পাকিস্তান সেনাবাহিনী। হাসপাতালে কোনো প্রতিরোধ যোদ্ধার সন্ধান না পেয়ে তারা যাঁকেই সামনে পায়, তাঁকেই বাইরে এনে দাঁড় করাতে থাকে।

Manual1 Ad Code

শামসুদ্দীন আহমদ ও তাঁর সহকারী ডা. শ্যামল কান্তি লালাকেও তারা টেনেহিঁচড়ে সীমানাপ্রাচীরের কাছে দাঁড় করায়। এ সময় শামসুদ্দীন আহমদ নিজের পরিচয় দিয়ে তাদের ভুল ভাঙানোর চেষ্টা করেন। পাকিস্তানি সেনারা প্রথমেই তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করে। তিনটি গুলি লাগে তাঁর শরীরে। একটি বাঁ ঊরুতে, দ্বিতীয়টি পেটে ও তৃতীয়টি বুকে।

Manual1 Ad Code

১৩ এপ্রিল কিছুক্ষণের জন্য কারফিউ শিথিল হলে কয়েকজন নিকটাত্মীয় এসে তাঁর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ছোট গর্ত করে দ্রুততার সঙ্গে সমাহিত করেন। অন্যদের মরদেহও পাশে সমাহিত করা হয়। স্বাধীনতার স্মৃতিসৌধ সেখানে নির্মিত হয়েছে।

শামসুদ্দীন আহমদের জন্ম ১৯২০ সালের ১ সেপ্টেম্বর ভারতের আসাম প্রদেশের করিমগঞ্জ শহরের বৃন্দাশীল গ্রামে। স্থায়ী ঠিকানা ৬৯ হাউজিং এস্টেট, আম্বরখানা, সিলেট। বাবা ইমাম উদ্দিন আহমদ, মা রাশেদা বেগম। তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি তৃতীয়।