নারায়ণগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে প্রতারণা, স্বামী-স্ত্রী আটক।
শেখ স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টারঃ নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত ইশতেহারের দোহাই দিয়ে ভুয়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ছাপিয়ে প্রতারণার অভিযোগে স্বামী-স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ।নারায়ণগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে প্রতারণা,স্বামী-স্ত্রী আটক। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে বিপুল পরিমাণ ছাপানো অবৈধ ফ্যামিলি কার্ডসহ তাদের আটক করা হয়।
আটকরা হলেন: রাসেল ওরফে জিলানী এবং তার স্ত্রী হাসিনা। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।এর আগে সোমবার সকালে ফতুল্লার কাশিপুর ইউনিয়নের নরসিংপুর এলাকায় ভুক্তভোগীদের বিক্ষোভের মুখে এই প্রতারণার ঘটনা প্রকাশ্যে আসে।
ভুক্তভোগীরা জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরের দিনই রাসেল ও তার স্ত্রী কাশিপুর ইউনিয়নের নরসিংপুর, বকুলতলা, চর কাশিপুর ও মধ্য নরসিংপুর এলাকায় প্রচার শুরু করেন। তারা নিজেকে বিএনপি কর্মী পরিচয় দিয়ে ‘জিসান ট্রেডার্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে সহজ-সরল নারীদের কাছে টাকার বিনিময়ে এই ভুয়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিক্রি করেন। আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে তারা কমপক্ষে ৩০০ পরিবারের কাছে ৫০ টাকা দরে একেকটি কার্ড বিক্রি করেছেন।
প্রতারক চক্রটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, এই কার্ড দেখালে প্রতি মাসে ১ হাজার ২৮৫ টাকায় চাল, ডাল, তেল, মাংসসহ বিভিন্ন পণ্য কেনা যাবে। স্থানীয়রা জানান, কার্ড ক্রেতাদের অধিকাংশই স্বল্পশিক্ষিত নারী।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সোমবার সকালে তাদের ফ্যামিলি কার্ডের বিনিময়ে প্রথম কিস্তির পণ্য দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু সকাল পেরিয়ে দুপুর হলেও কার্ড ক্রেতারা পণ্য পাননি। একপর্যায়ে তারা বুঝতে পারেন যে তারা প্রতারণার ফাঁদে পড়েছেন। পরে ভুক্তভোগী নারীরা একত্রিত হয়ে অভিযুক্ত জিলানীর বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
জুলেখা বেগম নামে এক ফ্যামিলি কার্ড ক্রেতা বলেন, ‘আমাদের বলা হয়েছিল সরকারিভাবে কোম্পানি থেকে এসব কার্ড দেয়া হচ্ছে। আমরা সকাল ১০টা থেকে অপেক্ষা করছি। কার্ড দেবে বলে বসিয়ে রাখা হয়েছে। এখন ফোনও ধরছে না।’
এ বিষয়ে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটু সময় সংবাদকে বলেন, ‘রাসেল ওরফে জিলানি নামে কাউকে আমি চিনি না। সে আমাদের দলের কেউ না। যে এই ফ্যামিলি কার্ড বিক্রি করছে, নিঃসন্দেহে সে একজন প্রতারক। তাকে আইনের হাতে তুলে দেয়া উচিত। আমরা দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হতে দেব না।’
ঘটনার বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন প্রথমে অভিযুক্তকে সতর্ক করলেও পরে কঠোর পদক্ষেপ নেন। তিনি জানান, বিষয়টি জানার পর তিনি অভিযুক্তের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন এবং কার্ডগুলো থানায় জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে সোমবার রাতে তিনি নিশ্চিত করেন, অভিযুক্ত রাসেল ওরফে জিলানী এবং তার স্ত্রী হাসিনাকে আটক করা হয়েছে। ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ বিপুল পরিমাণ ছাপানো অবৈধ ফ্যামিলি কার্ডসহ তাদের আটক করে। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।