বাকি না দেওয়ায় দোকান বন্ধ করে দেয়ার হুমকি এনসিপি নেতার!
শেখ স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টারঃ নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় দোকানের পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে এনসিপি কর্মী ও যুবদল নেতার অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের উপক্রম ও এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সদর উপজেলার ফতুল্লা থানাধীন মধ্য রসুলপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।বাকি না দেওয়ায় দোকান বন্ধ করে দেয়ার হুমকি এনসিপি নেতার!
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার শুরু গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টায়। কুতুবপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মাসুম রাজের চাচা হানিফ মিয়ার মুদি দোকান থেকে ‘মোজো’ কিনে টাকা পরে দেয়ার কথা বলেন এনসিপি কর্মী সোহাগ। দোকানদার হানিফ মিয়া বাকি দিতে অস্বীকার করলে সোহাগ তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং দোকান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। ওই সময় স্থানীয়রা সোহাগকে সরিয়ে দিলেও এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার সকালে দোকানদার হানিফ মিয়া বিষয়টি তার ভাতিজা যুবদল নেতা মাসুম রাজকে জানান। দুপুরে মাসুম রাজের লোকজন সোহাগকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে তাদের দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে যায়। সেখানে সোহাগকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
এই খবর ছড়িয়ে পড়লে এনসিপি, যুবশক্তি ও ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হন। পাল্টা অবস্থানে নেন যুবদল নেতাকর্মীরাও। দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দু-পক্ষকে শান্ত করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, উত্তেজনা চলাকালীন সোহাগ তার মায়ের উপস্থিতিতেই পুলিশের সাথে তর্কে লিপ্ত হন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবশক্তির সদস্য সচিব নাসিম আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, ‘মাসুম রাজ জুলাই আন্দোলনের পর এলাকায় চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত। তুচ্ছ ঘটনায় আমাদের কর্মী সোহাগকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে ক্লাবে আটকে মারধর করা হয়েছে। আমরা শান্তি বজায় রাখতে চাই এবং অবিলম্বে মাসুমের গ্রেফতার দাবি করছি।’
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে কুতুবপুর ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি মাসুম রাজ বলেন, ‘সোহাগ কোনো দলের কর্মী নয়, সে এলাকায় বখাটে ও মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। সে দোকানদারদের হেনস্তা করে আসছিল। আজ তাকে ও তার মাকে কার্যালয়ে ডেকে এনে বিষয়টি মীমাংসা করা হচ্ছিল। উল্টো সোহাগের মা নিজেই তাকে চড়-থাপ্পড় দিয়ে দোকানদারের কাছে মাফ চাইয়েছেন। কিন্তু এনসিপি নেতা নাসিম দলবল নিয়ে এসে অহেতুক ঝগড়া বাধানোর চেষ্টা করেছেন।’
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নন্দন চন্দ্র সরকার বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে সোহাগ নামের ছেলেটি অপরাধ করেছে। তার মা নিজেই তাকে চড়-থাপ্পড় দিয়ে অপরাধ স্বীকার করে মাফ চেয়ে বিষয়টি মীমাংসা করেছেন। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে।’