১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৯শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

সেই সিরিয়াল কিলার সম্রাটের আসল পরিচয় প্রকাশ, বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ২১, ২০২৬
সেই সিরিয়াল কিলার সম্রাটের আসল পরিচয় প্রকাশ, বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

Manual3 Ad Code

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার

সাভারে একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার সিরিয়াল কিলারের আসল নাম ‘মশিউর রহমান খান সম্রাট’ নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।সিরিয়াল কিলার আদালতে যে তথ্য দিয়েছে, সেগুলোর সত্যতা খতিয়ে দেখছে ‍পুলিশ।

Manual1 Ad Code

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ঢাকা জেলা পুলিশের সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সম্রাটের আসল নাম সবুজ শেখ। তার বাবার নাম পান্না শেখ। তিন ভাই ও চার বোনের এই পরিবারটির বড় বোন শারমিন। সবুজ দ্বিতীয় সন্তান। জন্মস্থান ও পৈতৃক বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার হলুদিয়া ইউনিয়নের মোসামান্দা গ্রামে। পরিবারের আত্মীয়দের একটি অংশ বরিশাল এলাকায় বসবাস করে।

পুলিশ বলছে, নাম ও পরিচয় গোপন রেখে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের ফাঁদ পেতে বিভিন্ন এলাকা থেকে ভবঘুরে নারীদের পরিত্যক্ত ও নির্জন ভবনে নিয়ে যেত ওই সিরিয়াল কিলার। সেসব নারীরা অন্য কারো সঙ্গে কিংবা অন্য কেউ তাদের সঙ্গে অনৈতিক কাজ করলে সে তাদের হত্যা করতো।

Manual7 Ad Code

এসব ঘটনায় তার দেয়া স্বীকারোক্তি যাচাই–বাছাই করে দেখছে পুলিশ।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আদালতে সবুজ যে তথ্য দিয়েছে, সেগুলোর সত্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সবশেষ ঘটনার ৩-৪ দিন আগে তানিয়া ওরফে সোনিয়া নামে এক ভবঘুরে তরুণীকে সে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনে এনে রাখে।

Manual2 Ad Code

ওই তরুণীর সঙ্গে আরেক ভবঘুরে যুবক অনৈতিক সম্পর্ক করলে প্রথমে তাকে কমিউনিটি সেন্টারের দোতলায় নিয়ে হত্যা করে সবুজ। এরপর ওই ভবঘুরে তরুণীকে নিচতলায় হত্যা করে মরদেহ কাঁধে করে নিয়ে দোতলার টয়লেটে ঢুকিয়ে দুজনকে একসঙ্গে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।

সাভার থানার সামনে থেকে রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে সবুজকে আটক করে পুলিশ। পরে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনের ভেতর থেকে এক কিশোরীসহ দুজনের পোড়া মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

সোমবার ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হলে জিজ্ঞাসাবাদে সে ৬টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলামের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে সবুজ শেখ ওরফে সম্রাটকে গত রাতেই কারাগারে পাঠান আদালত।

প্রাথমিক তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, সম্রাট ওরফে সবুজ প্রথম খুন করেন ২০২৫ সালের ৪ জুলাই। ওই দিন রাতে সাভার মডেল মসজিদের সামনে আসমা বেগম নামে এক বৃদ্ধাকে শ্বাস রোধ করে হত্যা করেন তিনি।

Manual3 Ad Code

পরবর্তীতে ওই বছর ২৯ আগস্ট সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনের ভেতরে এক যুবককে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দেন। এর প্রায় এক মাস পর ১১ অক্টোবর আরও এক নারীর মরদেহ উদ্ধার হয় কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে। তাকেও সবুজ হত্যা করেন বলে স্বীকার করেছেন।

গত বছর ১৯ ডিসেম্বর ওই কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরেই আরও এক যুবককে হত্যা করেন সবুজ। সর্বশেষ গত শনিবার রাতে এক কিশোরীসহ দুজনকে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দেন তিনি।