২১শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২রা শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ।

admin
প্রকাশিত ডিসেম্বর ২৭, ২০২৫
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ।

Manual4 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তমের নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ।

শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর ২০২৫) দলটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ২৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বর্ধিত সভায় দীর্ঘ আলোচনা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

Manual5 Ad Code

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৯৯৯ সালের সখীপুর-বাসাইল উপনির্বাচনের মধ্য দিয়ে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের জন্ম। দলটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে গণতান্ত্রিক ও জনস্বার্থ রক্ষার রাজনীতিতে বিশ্বাসী। তাই অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন ছাড়া ক্ষমতায় যাওয়া তাদের লক্ষ্য নয়। দলটির দাবি, গত দুই-তিন দশকে জাতীয় নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি হয়নি, বরং সময়ের সাথে সাথে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পরিস্থিতি আরো গভীর হয়েছে। দেশের মানুষ নির্বাচন নিয়ে আস্থা হারাচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে দেশে নির্বাচনপূর্ব রাজনৈতিক পরিবেশ অনুকূল নয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, জনগণের জানমালের নিরাপত্তাহীনতা, প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকার ঘাটতি এবং নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থাহীনতা নির্বাচনকে যথাযথ রূপে দাঁড়াতে দিচ্ছে না।

Manual4 Ad Code

বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, হারানো অস্ত্র উদ্ধারের পরিবর্তে নতুন অস্ত্রের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে, যা নির্বাচনকে অস্থিতিশীলতা ও সহিংসতায় ঠেলে দিতে পারে। পাশাপাশি দলটি মনে করে, জনগণের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে উৎসাহ নেই, মাঠেও নেই স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশ।

Manual7 Ad Code

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নির্বাচনের আগে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি নানা দাবি ও উদ্বেগ জানানো হলেও কোন ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক, প্রতিযোগিতামূলক ও গ্রহণযোগ্য হবে বলে বিশ্বাসের সুযোগ নেই।

Manual8 Ad Code

তাই দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ এই তথাকথিত নির্বাচনে অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং জনগণের কল্যাণ ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে এই অবস্থানকে যৌক্তিক বলে দাবি করেছে।

শেষাংশে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্তমান শর্তে জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে দূরে থাকা ছাড়া বিকল্প নেই। গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হলে এবং জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত হলে ভবিষ্যতে পুনর্বিবেচনার সুযোগ থাকবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।