৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২১শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

আ.লীগের ‘লকডাউন’-এর প্রভাব নেই রংপুরে, স্বাভাবিক জনজীবন।

admin
প্রকাশিত নভেম্বর ১৩, ২০২৫

Manual1 Ad Code

আ.লীগের ‘লকডাউন’-এর প্রভাব নেই রংপুরে, স্বাভাবিক জনজীবন।

লোকমান ফারুক: রংপুর।

রংপুরের সকালটা আজও ছিল তার চিরচেনা ভঙ্গিতে। সিটি বাজারের ভিড়, পায়রা চত্বরের কোলাহল, জাহাজ কোম্পানি মোড়ের যানজট—সবকিছু যেন এক অদৃশ্য ছন্দে বাজছিল। অথচ এই দিনেই আওয়ামী লীগ ঘোষণা করেছিল ‘লকডাউন’। কিন্তু শহর তা যেন আমলে নেয়নি। মানুষের মুখে নেই আতঙ্কের ছায়া, রাস্তায় নেই শূন্যতার কোন চিহ্ন—বরং জনজীবন স্বাভাবিক ও স্বস্তিময়।

Manual8 Ad Code

দুপুরে নগরীর ব্যস্ত সড়ক ঘুরে দেখা যায়, যান চলাচল একটুও কমেনি। রিকশা, অটোরিকশা, বাস, ট্রাক—সব চলছে নিজের গতিতে। দোকানপাট খোলা, বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়ও যথারীতি। কোথাও আওয়ামী লীগের কোনো অঙ্গসংগঠনের কর্মসূচি বা মিছিলের দেখা মেলেনি।

Manual7 Ad Code

অটোচালক মনির হোসেনের মুখে ছিল নিশ্চিন্ত হাসি। তিনি বললেন, ‘লকডাউন কই? আমি সকাল থেকেই রাস্তায় আছি। সব আগের মতোই চলছে। ভয়ভীতি কিছুই নাই।’

কাপড় ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলামও একই সুরে বলেন,
‘রংপুরে লকডাউন টেরই পাইনি। আওয়ামী লীগ এখন এমন কর্মসূচি দেয় কীভাবে—তাদের আগে নিজেদের বিচার হওয়া উচিত।’

তবে শহরের অন্য প্রান্তে অন্য এক দৃশ্য—রাজপথে ব্যানার হাতে নেমেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, রেভিটা বাংলাদেশ, সম্মিলিত ছাত্রজনতার প্ল্যাটফর্ম, শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাইযোদ্ধারা। আওয়ামী লীগের ‘লকডাউন’ ঘোষণার প্রতিবাদে তারা স্লোগানে মুখর করেন নগরীর বাতাস। দুপুরে কারমাইকেল কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে তারা বলেন, ‘রংপুর শান্তির শহর, এখানে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারবে না।’

Manual3 Ad Code

অন্যদিকে বুধবার বিকেলে আওয়ামী লীগের কর্মসূচির প্রতিবাদে নগরীতে মিছিল ও সমাবেশ করেছে মহানগর ছাত্রশিবির। সেই সমাবেশে হাসিনার বিচার দাবির পাশাপাশি তারা ঘোষণা দেয়, ‘রংপুরের রাজপথ কারও একার নয়, আমরা থাকব জনগণের পাশে।’

রাত ঘনিয়ে আসতেই নগরীর পথে দেখা মেলে যুবদলের মোটরসাইকেল শোডাউন। তারা একই বার্তা দেয়—লকডাউনের নামে জনজীবনে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা সফল হবে না।

Manual2 Ad Code

রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ ও গোয়েন্দা টিম সবসময় মাঠে আছে।’
শান্ত শহর রংপুর তাই আজও নিজের ছন্দে বেঁচে আছে—রাজনীতির ঘোষণায় নয়, মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিরাম গতিতে।