২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১২ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

৩৩ বছর ধরে হাতের নখ কাটেনি দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর অরুন এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

admin
প্রকাশিত আগস্ট ৮, ২০২৫
৩৩ বছর ধরে হাতের নখ কাটেনি দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর অরুন এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

Manual3 Ad Code

দিনাজপুর প্রতিনিধি

Manual6 Ad Code

মানুষ সখের বশে কতকিছুই না করে। কিন্তু এই সখ যদি হয় একটু ব্যাতিক্রম তবে কেমন হয়। এমন শখ থেকে ভালবাসা। আর সেই ভালবাসাকে চিরন্তন রূপ দিতে ৩৩ বছর ধরে বাম হাতের আঙ্গুলের নখ কাটেনি অরুন কুমার সরকার (৪০) নামে এক যুবক। দির্ঘদিন ধরে নখ না কেটে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন তিনি। কেবল নখের কারণে এলাকায় দর্শনীয় পুরুষে পরিণত হয়েছে সে। অরুন সরকারের নখগুলি দেখার জন্য প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা বয়সের মানুষ ভীড় জমায়। অরুন কুমার সরকার, দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা শহর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের উত্তর লক্ষীপুর গ্রামের রবীন্দ্রনাথ সরকারের ছেলে । ১৯৮৪ সালে সরকার বংশে জন্মগ্রহণ করেন অরুন। তার পিতা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। শুরুর দিকে বাবা-মা নখ রাখা নিয়ে আপত্তি করেছিলেন। ভাবতেন হয়তো শারীরিক সমস্যা হবে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারাও তা মেনে নিয়েছেন। জানাগেছে, ১৯৯৩ সালে অরুন যখন চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র তখন কয়েক সপ্তাহ নখ না কাটায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক তাকে নখ কাটার কথা বলেন। কিন্তু কৌতুহলবশত নখ আরো একটু বড় হলে কেমন লাগে, সেটা দেখার চিন্তা করে লুকিয়ে নখ রাখা শুরু করে অরুন। সামান্য বড় হতেই নখের প্রতি ভালবাসা (মায়া) জন্মায় তার। সেই ভালবাসাকে লালন করতে যেয়ে তিনি নখ কাটা বন্ধ করেই দেয়। আর সেখান থেকেই শুরু। তারপর দেখতে দেখতে ৩৩ বছরে নখগুলি গাছের ডালের মত আকা বাকা হয়ে বড় হয়েছে। বর্তমানে অরুনের বাম হাতের মধ্যমা আঙুলের নখ লম্বায় ১১ ইঞ্চি, অনামিকা ১৫ ইঞ্চি এবং কনিষ্ঠা ১৩ ইঞ্চি এবং বৃদ্ধাঙ্গুলি দেড় ইঞ্চি এবং তর্জনী ২ ইঞ্চি । লোকমুখে শুনে অরুনের এই নখ একনজর দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেকেই আসেন। স্থানীয় মাসুদ রানা,রেজাউল করিম,পার্থ মন্ডল জানান, অরুন আমাদের প্রতিবেশী সে দির্ঘদিন ধরে হাতে নখ রেখেছে। দেখতে বেশ ভালো লাগে। আসলে এটা করা সবার পক্ষে সম্ভব নয়। এটি একটি সাধনার বিষয়, তাছাড়া অনেক ধৈর্য্য থাকতে হবে। তার নখ গুলো দেখতে অনেকেই আসেন। অরুন বলেন, হাতে নখ রাখার ব্যাপারটা হঠাৎ করেই শখের বসে শুরু হয়। প্রথম প্রথম অরুনের বাবা মা ও আত্মীয় স্বজন তার নখ রাখার ব্যাপারে বাঁধা দিলেও পরে তারাও তা মেনে নেন। এ অবস্থায় অনেক বছর কেটে গেল, তার বামহাতে রাখা নখগুলো পর্যায়ক্রমে বড় হতে থাকে। একপর্যায়ে ২০০৩ সালে বিয়ে করার পর তার ঘরে এক কন্যা সন্তান ও এক ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। বর্তমানে লক্ষীপুর বাজারে তার ছেলের নামে ‘কান্না ডিজিট্যাল ফটো স্টুডিও’ নামে একটি দোকান করেছেন। সেখানে ফ্লেক্সিলোড,বিকাশ এজেন্সি রয়েছে তার। ছবি তোলা ও ডিস সাপ্লাইয়ের ব্যবসা করেই তিনি জীবিকা নির্বাহ করছেন। অরুন জানায়, বড় বড় নখ তার কাজের কোন ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে না। পেশায় ফটোগ্রাফার অরুনের বাজারে একটি স্টুড়িও দোকান রয়েছে। ছবি তোলা, কম্পিউটার চালানো কোন সমস্যা হয় না। তিনি আরও বলেন, প্রথমে একটু অসুবিধা হলেও এখন আর তার তেমন কোনো সমস্যা হয় না। নখগুলোর প্রতি তার অনেক ভালোবাসা জন্মেছে। সে কারণে তার নখগুলো আর কখনো কাটবেন না বলে জানান তিনি। যদি কোন কারণে এই নখের কোনো অংশ একটু ভেঙ্গে যায়, তাতেই তিনি খুব কষ্ট পান। অরুন বলেন, শখের নখগুলি এখন গৌরবের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নখ দেখতে বিভিন্ন জায়গা থেকে অনেকেই আসছেন। কোথাও বেড়াতে গেলে নখ গুলো দেখার জন্য মানুষ ভীড় জমায় এবং অনেকে অনেক কথা জানতে চান। তাতে আমার ভালোই লাগে। তবে শখের এই নখ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কিনা সেব্যাপারে কথা বললে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মশিউর বলেন, দীর্ঘদিন নখ রাখা ঠিক নয়, কারন নখের ভিতর ময়লা ঢুকে স্বাস্থ্যহানির কারণ হতে পারে। এছাড়া নখ উষ্ঠে গিয়ে আঙুলের ক্ষতি হতে পারে। তাই এই রকম শখ থেকে বিরত থাকাই ভালো।

Manual6 Ad Code