২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১২ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

স্মরণ – অধ্যাপক পান্না কায়সার।

admin
প্রকাশিত আগস্ট ৫, ২০২৫
স্মরণ –  অধ্যাপক পান্না কায়সার।

Manual4 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি,

Manual4 Ad Code

শেখ আসাদুজ্জামান আহমেদ টিটু।

Manual7 Ad Code

পান্না কায়সার বিশিষ্ট লেখক, অধ্যাপক, গবেষক, শিশু সংগঠক, উদীচীর সাবেক সভাপতি এবং সাবেক সাংসদ। পান্না কায়সারের জন্ম ২৫ মে ১৯৫০ সালে। তাঁর আরেক নাম সাইফুন্নাহার চৌধুরী। স্বামী শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার এদেশের একজন বিশিষ্ট সাংবাদিক, লেখক ও রাজনীতিক। পান্না কায়সার ঢাকায় এসেছিলেন প্রথম স্বামীকে ডিভোর্স দেয়ার পরে নিজের মত করে জীবন গুছিয়ে নিতে। তিনি ভর্তি হয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে। শিক্ষক হিসেবে তিনি পেয়েছিলেন মুনির চৌধুরী, মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরীর মতো শিক্ষকদের। ১৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ সালে শহীদুল্লাহ কায়সার এর সাথে তাঁর বিয়ে হয়। সেদিন ঢাকা শহরে কারফিউ ছিল। পুরো দেশ তখন গণআন্দোলনে উত্তাল। শহীদুল্লাহ কায়সারের হাত ধরে তাঁর পরিচয় ঘটে আধুনিক সাহিত্যের সাথে, রাজনীতির সাথে। তাঁর সংসার জীবন স্থায়ী হয় মাত্র দুই বছর দশ মাসের মতো। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় আলবদর বাহিনীর কয়েকজন সদস্য শহীদুল্লাহ কায়সারকে তাঁর ২৯, বি কে গাঙ্গুলি লেনের বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায়। তারপর তিনি আর ফেরেন নি। এরপর পান্না কায়সার একা হাতে মানুষ করেছেন তাঁর দুই সন্তান শমী কায়সার এবং অমিতাভ কায়সারকে। তিনি শুধু সংসার জীবনেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। তিনি শিশু কিশোর সংগঠন ‘খেলাঘর’ এর প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন সেই ১৯৭৩ সাল থেকে। ১৯৯০ তে তিনি এই সংগঠনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। লেখালেখিও করেছেন বিস্তর। তাঁর অনেক প্রবন্ধ ও মূল্যবান রচনাসমুহ প্রকাশিত হয়েছে। পান্না কায়সার ১৯৯৬-২০০১ সালের জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের একজন সাংসদ ছিলেন। মেয়ে শমী কায়সার টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের অভিনেত্রি হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন। পান্না কায়সার বাংলা একাডেমি পুরস্কার ২০২১ এ ভূষিত হয়েছেন। ৪ আগস্ট ২০২৩ এ তিনি মৃত্যু বরণকরেন। শ্রদ্ধাঞ্জলি।