২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১২ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

ওই কালো ছুঁড়িডা হামাক পাগলা করিছে, ওই কালো ছুঁড়িডা হামাক দেওয়ানা করিছে ।

admin
প্রকাশিত আগস্ট ১, ২০২৫
ওই কালো ছুঁড়িডা হামাক পাগলা করিছে, ওই কালো ছুঁড়িডা হামাক দেওয়ানা করিছে ।

Manual8 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি।

Manual5 Ad Code

শুভ জন্মদিন বগুড়া ইয়ুথ কয়্যার এর টিপু ভাই। তাঁর পুরো নাম তৌফিকুল আলম টিপু। বগুড়ার নবাববাড়ি রোডের ‘সাপ্তাহিক কাঁকন’ অফিসের পাশে ছোট্ট একটি ঘরে অনেক কষ্টে, অনেক পরিশ্রমে, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে তিল তিল করে গড়ে তোলা সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘বগুড়া ইয়ুথ কয়্যার’ এর প্রতিষ্ঠাতা তিনি। ১৯৭৬ সালে বাঙালির শেকড়ের, সংস্কৃতি ও আদর্শের বাহক হয়ে জন্ম নিয়েছে বগুড়া ইয়ুথ কয়্যার। শুরুর দিকে জলেশ্বরীতলায় নিজ বাড়ির ছোট্ট একটি কামরায় কয়েকজন সহকর্মী নিয়ে শুরু হয় তাঁর পথচলা। বগুড়ার আঞ্চলিক ভাষায় তাঁর নিজের রচিত গান দিয়ে সেসময় ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন তিনি। বাংলাদেশ টেলিভিশনেও ৫৫/৬০টি অনুষ্ঠান প্রচারিত হয়েছিল সংগঠনটির। সত্তর দশকের মধ্যভাগে পপসঙ্গীত দারুণ প্রভাব ফেলেছিল তারুণ্যের মাঝে। সে সময় বগুড়ার আঞ্চলিক ভাষার গান দিয়ে সারা দেশের দর্শকদের মন জয় করার চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে নেমেছিল প্রতিষ্ঠানটি। গানের পাশাপাশি তিনি গীতিনাট্যের ধারায় নকশা উপস্থাপনা শুরু করেন। তাঁর আঞ্চলিক ভাষার গীতিনাট্য ‘দেবদাস’ তুমুল জনপ্রিয়তা লাভ করে আশির দশকে। শুরুটা ছিল এরকম – দেবদাস কেতাদুরস্ত হয়ে কলকাতা রওনা হয়েছে – পার্বতী এসে বলে ‘ও দেব দা, তুমি বলে আজ কলকাতাত্ যাচ্চ? একথা বলে পাঞ্জাবি টেনে ধরে পার্বতী। দেবদাস উত্তর দেয় – পাঞ্জাবি ট্যান্যা ধরো না লক্ষ্মীটি, ইস্ত্রীর কিরিচ নষ্ট হয়্যা যাবি। তাঁর প্রতিটি গান প্রতিটি গীতি নকশার মাঝে একটি সামাজিক বার্তা থাকতো। আঞ্চলিক ভাষায় রচিত তাঁর আরেকটি বিখ্যাত গান ছিল ‘ওই কালো ছুঁড়িডা হামাক পাগলা করিছে, ওই কালো ছুঁড়িডা হামাক দেওয়ানা করিছে’ – কালো মেয়ের দুঃখ ভোলানো এই গান আশির দশকে তুমুল জনপ্রিয় ছিল। বগুড়ার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ছোট বড় সবার কাছে এক ডাকে তিনি ‘টিপু ভাই’ নামে পরিচিত। আজ ১ আগস্ট তাঁর ৭৮তম জন্মদিন। ১৯৪৮ সালের এই দিনে তিনি পৃথিবীর আলো দেখেছেন। পড়াশোনা করেছেন বগুড়া জিলা স্কুলে। ষাটের দশকে ছাত্র ইউনিয়ন করতেন। মুক্তিযুদ্ধের পর উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর হয়ে গ্রামে গ্রামে গণসঙ্গীত গাইতেন। সে সময় জাগরণের গান করত কলকাতা ইয়ুথ কয়্যার। তাঁদের গানে অনুপ্রাণিত হয়ে আঞ্চলিক গানের মাধ্যমে গ্রামের যুব সমাজকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার মানসে সৃষ্টি করেন বগুড়া ইয়ুথ কয়্যার নামের সংগঠনটি। বয়স হলেও বার্ধক্য তাঁকে ছুঁতে পারেনি মোটেও। গানের কথা লেখা ও সুর দেওয়াতে তিনি এখনো নিয়োজিত। বর্তমানে সংগঠনের কোরিওগ্রাফি নির্দেশনা দিচ্ছেন তাঁর একমাত্র মেয়ে জয়নব তাবাসসুম। সোনালী নামে বগুড়ার সবাই তাঁকে চেনে। তাঁর নেতৃত্বে সংগঠনটিতে বর্তমানে রয়েছে ৫০/৬০ জন তরুণ-তরুণী। সেখানে এখনো চলছে নিয়মিত মহড়া। শ্রদ্ধেয় টিপু ভাই ১৯৭৬ থেকে ২০২৫ ৪৯ বছরের সুদীর্ঘ পথপরিক্রমায় যে সংগ্রাম নিষ্ঠা আর মেধায় সংগঠনটিকে দাঁড় করিয়েছেন তা যুগ যুগ ধরে বেঁচে থাক। ক্ষয়িষ্ণু সমাজের যুব সম্প্রদায় উদ্বুদ্ধ হোক দেশপ্রেমের অনুপ্রেরনায়। আপনার ৭৯তম জন্মজয়ন্তীতে এটাই আন্তরিক প্রত্যাশা।

Manual4 Ad Code