বিশেষ প্রতিনিধি।
আলো বা অন্ধকার, ভালো বা মন্দ এসব নিয়েই আমাদের আজকের মনুষ্য সমাজ পরিচালিত। মন্দ না থাকলে ভালোর যে ভালো কদর রয়েছে সেটা বোঝা যেতো না। তবে আজকাল ভাল কাজের প্রশংসা খুব একটা না ছড়ালেও খারাপ কাজের অপবাদ বা অপকর্মের তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বদৌলতে মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এমন অপবাদ থেকে অন্যান্য ভালো মনের মানুষের মত তিনিও বাদ পড়েননি। কেউ তার বা কারো ভালো কাজের প্রশংসা কেউ করুক বা না করুক নিজেকে ভালোর দিকের ভালো অংশটি এলাকার ভুক্তভোগী মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠার শীলালিপিতে লিপিবদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছেন। শুধু গণ প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার নয় সমাজের মানুষের মাঝেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এমন একজন ব্যক্তির নাম মোঃ শরিফুল ইসলাম সেলিম। তাই গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়ন ভুমি অফিসের তহশীলদার মোঃ শরিফুল ইসলাম সেলিমের নিরলস সেবা এলাকার মানুষের মাঝে বেশ প্রশংসিত হয়েছে। এই শরিফুল ইসলাম সেলিম মন্দ মানুষে ভরা সমাজে তাদের মন্দত্বকে ওভারটেক করে প্রজাতন্ত্রের একজন দায়িত্বশীল কর্মচারী হিসেবে ইতিমধ্যে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভুমি কর্মকর্তা এই শরিফুল ইসলাম সেলিম ২০০৪ সালে চাকরিতে যোগদান করেন। তিনি ছোটবেলা থেকেই একদম তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের সেবা দিতে নিজেকে বেশি সাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন বলেই ভুমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই ইউনিয়ন ভুমি অফিসে চাকরি নিয়েছেন। এমন একজন ভালো মনের মানুষ শরিফুল ইসলাম সেলিম গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার কামালের পাড়া ইউনিয়ন ভুমি অফিস থেকে গত ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর তারিখে গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়ন ভুমি অফিসে বদলি হয়ে আসেন। শুরুতেই মৌচাকে ঢিল ছুড়ে মারার মত দালালের হাট বসা এই বল্লমঝাড় ইউনিয়ন ভুমি অফিসটিকে দালাল মুক্ত করেন। সম্প্রতি তার সাথে কথা হয়, তিনি শুরুতেই ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বলেন, আমি বদলী হয়ে এসে দেখি- বল্লমঝাড় ইউনিয়ন ভুমি অফিসটিতে দালালের হাট বসতো। আমি এই ভুমি অফিসটি দালাল মুক্ত করতে গিয়ে অনেকের চক্ষুশূল হয়ে পড়েছি। লোকমুখে শুনতে পাই- অনেকেই আমার বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক সহ বিভিন্ন ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করছে। তিনি আরো বলেন, আমাদের গাইবান্ধা সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভুমি) স্যার জনাব মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বাবু নিজেও গাইবান্ধা সদর উপজেলা ভুমি অফিসটির সেবা এলাকার মানুষের কাছে হয়রানি মুক্ত করেছেন। তার নির্দেশনা মোতাবেক শুধু আমার বল্লমঝাড় ইউনিয়ন ভুমি অফিস নয়, গাইবান্ধা সদরের প্রতিটি ইউনিয়ন ভুমি অফিস এখন দালাল মুক্ত। নামজারিসহ বিভিন্ন কার্যক্রম অনলাইন হওয়ায় প্রতিটা কাজে স্বচ্ছতা ফিরে এসেছে। এই শরিফুল ইসলাম সেলিম দুই সন্তানের জনক। এক ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়েটি বড়। সে গাইবান্ধা আহমেদ উদ্দিন শাহ শিশু নিকেতনে এইচএসসিতে পড়ে এবং ছেলেটি ছোট। সে এবার এসকেএস স্কুল থেকে কৃতিত্বের সাথে এসএসসি পাস করেছে। তার বাড়ি গাইবান্ধা সদর উপজেলার উত্তর ঘাঘোয়ায়। তিনি আরো বলেন ইউনিয়ন ভুমি অফিসের মুল কাজ গ্রাম পর্যায়ে থেকেই মানুষের সেবা প্রদান। সরকারের উন্নয়নের সহযোগী হিসেবে ভুমি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এই সেবা প্রদান করা হয়। আমি চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই বরাবরের মতো এবার ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরেও ভুমি উন্নয়ন কর শতভাগ আদায় করেছি। বল্লমঝাড় তহশীল অফিসে এ বছর খাজনা আদায়ের সাধারণ দাবি ছিল ২০ লক্ষ ৩১ হাজার টাকা, আদায় করেছি ২০ লক্ষ ৫১ হাজার টাকা। বিভিন্ন সংস্থার খাজনা আদায়ের দাবি ছিল ৩ লক্ষ ২৮ হাজার টাকা, আদায় করা হয়েছে ১ লক্ষ ৭২ হাজার টাকা। তবে সংস্থার খাজনা আদায়ের ব্যাপারে বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।