১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১লা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

মানুষ দেখলেই বড় চোখে তাকিয়ে থাকেন শিকলবন্দি সাইফুল

admin
প্রকাশিত জুলাই ১৯, ২০২৫
মানুষ দেখলেই বড় চোখে তাকিয়ে থাকেন শিকলবন্দি সাইফুল

Manual3 Ad Code

 

Manual4 Ad Code

সহকারী বার্তা সম্পাদক :

মো: সিয়াম হোসেন

Manual2 Ad Code

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে বিরল রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৩০ বছর ধরে শিকলবন্দি জীবনযাপন করছেন সাইফুল ইসলাম নামে এক যুবক। সুস্থতার কোনো লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না। তাই অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে সাইফুলের মা স্বামীহারা রহিমা বেগম জমিজমা হারিয়ে পথেঘাটে ভিক্ষা করে জীবনযাপন করছেন। প্রতিদিন সাইফুলকে দেখতে ভিড় করছেন স্থানীয়রা। সাইফুলের মা সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন। স্থানীয়রাও সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

জানা যায়, ১৯৮৮ সালের ২৯ মার্চ মাসে সাইফুল জন্মগ্রহণ করেন। জন্মের পর থেকেই সাইফুল ঠিকমতো কথা বলতে পারতো না। ৭ বছর বয়স থেকে থেকে অন্য মানুষ দেখলেই চোখ বড় বড় করে চেয়ে থাকতো। মানুষ দেখলে তাদের খামচি ও কামড় দেওয়ার চেষ্টা করতো। এসব থেকে সাইফুলকে ফেরানো চেষ্টা করানো হয়। একসময় এলাকাবাসী তার আচরণে ভয় পেতে শুরু করে। এলাকাবাসী ও নিজেদের রক্ষার্থে বাধ্য হয়ে ৮ বছর বয়সে ১৯৯৫ সালে সাইফুলের পায়ে লোহার শিকল পড়িয়ে দেওয়া হয়। তখন থেকে শিকল বাধা অবস্থায় চলছে জীবনযাপন। শিকল খুলে দিলেই বড় বড় চোখ করে মানুষের দিকে এগিয়ে যায়।

সাইফুলের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানায়, প্রায় ২০ বছর আগে সাইফুলের বাবা বহর আলীর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর সাইফুলের পুরো দায়িত্ব মা রহিমা বেগমের উপরে পড়ে। ছোটবেলা থেকে বিভিন্ন ডাক্তার-কবিরাজের পেছনে ঘুরে ঘুরেও রহিমা বেগম ছেলে সাইফুলকে সুস্থ করতে পারেননি। ডাক্তার কবিরাজ রোগ ধরতে ব্যর্থ হওয়ায় পাবনা মানসিক হাসপাতালে পাঠানোর চিন্তা করেছিলেন। সেখানে কীভাবে বা কে নিয়ে যাবে সেই সিদ্ধান্তে শেষ পর্যন্ত নেওয়া হয়নি।

জানা যায়, সরকার থেকে সাইফুলের নামে ২৫০০ এবং তার মায়ের নামে ১৮০০ টাকা ভাতা পান। সেটা দিয়ে তাদের সংসার চলে না। এ অবস্থায় সাইফুলের মা ভিক্ষা ও অন্য মানুষের কাছ থেকে কিছু পেয়ে সংসারের খরচ কোনোমতে চালাচ্ছেন। কিন্ত টাকার অভাবে চিকিৎসার পারছেন না। ভূমিহীন এ পরিবার বর্তমানে সরকারের দেওয়া বাড়িতে আছেন। সাইফুলের আরও দুই ভাই রয়েছেন। তবে তারা আলাদাভাবে সংসার করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, সাইফুলকে শিকলে বেঁধে খাবার দেওয়া ও বিছানায় শোয়ানোর ব্যবস্থা রয়েছে। শিকলে বাঁধা অবস্থায় গোসল করানো হয়। মানুষ দেখলেই বড় বড় চোখ করে চেয়ে থাকেন।

Manual3 Ad Code

স্থানীয় জামাল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ছোট বেলা থেকেই তার পায়ে শিকল বাঁধা অবস্থায় রয়েছে। লোকজন দেখলে তাদের মারতে যান সাইফুল। এলাকায় সে পাগল সাইফুল হিসেবে পরিচিত। সাইফুলের মা বৃদ্ধ হওয়ায় তেমন কোনো কাজ করতে পারেন না। আমরা সাইফুলের জন্য সরকারি সহযোগিতা কামনা করছি।

আশরাফুল ইসলাম নামে স্থানীয় একজন জাগো নিউজকে বলেন, ২৫ থেকে ৩০ বছর ধরে তাকে বেঁধে রাখা হয়েছে। অনেক সময় পাগলামি বেশি করে। সাইফুলের মা মারা গেলে তাকে দেখার মতো কেউ নেই। এলাকাবাসী আমরা সব সময়ই তাদের সহযোগিতা করে থাকি।

স্থানীয় মোহাম্মদ আব্দুর রশিদ জাগো নিউজকে বলেন, সাইফুল একজন নিরীহ ও অসুস্থ মানুষ। সে মানুষ দেখলেই বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে থাকে, খামচি ও কামড় দেয়। যে কারণে বাধ্য হয়ে ওর তাকে শিখলে বেঁধে রাখা হয়েছে। ছোটবেলা থেকে ওর মানসিক সমস্যা রয়েছে। এলাকাবাসীর সাহায্য ও সহযোগিতায় ওর মা ছেলে বেঁচে আছে। তার চিকিৎসার জন্য সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন।

সাইফুলের মা রহিমা বেগম জাগো নিউজকে বলেন, জন্মের পর থেকেই সাইফুলের এমন অবস্থা। স্বামী মারা যাওয়ার পর সাইফুলের সব দায়িত্ব আমার উপরে আসে। বয়সের ভারে আমি ছেলের ভরণপোষণ ঠিক করতে পারছি না। সরকারের পক্ষ থেকে যে ভাতা দেওয়া হয় তা খুবই কম। ছেলের চিকিৎসার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি

এ ব্যাপারে ঘাটাইল উপজেলার সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান সরকার জাগো নিউজকে বলেন, সাইফুল প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। তার মাও বিধবা ভাতা পাচ্ছেন। আমরা এবং উপজেলা প্রশাসন সব সময়ই তার পাশে রয়েছি। ঘাটাইলবাসী সাইফুলের পাশে থাকার জন্য অনুরোধ করছি।

Manual5 Ad Code