মোঃ জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়, সৌদি আরব:- বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রম বাজার সৌদি আরব । বর্তমানে ৩৩ লাখ বাংলাদেশি বসবাস করছে মরুর এই দেশটিতে, বাংলাদেশি শ্রমিকদের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে । যেমনভাবে বৃদ্ধি হচ্ছে দেশের অর্থনীতির চাকা ঠিক তেমনি কিছু প্রবাসী জড়িয়ে পড়ছে নানা অপরাধের সাথে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য অপহরণ , মাদক, ছিনতাই , দেহ ব্যবসা সহ বিভিন্ন অপকর্মের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে । এইভাবে অপরাধীদের সংখ্যা বাড়তে থাকলে যেকনো সময় বন্ধ হতে পারে সৌদি আরবে বাংলাদেশীদের শ্রম বাজার।
সম্প্রতি রিয়াদে বাংলাদেশি কয়েকটি চক্র বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের টার্গেটকরে ও সাধারণ প্রবাসীদের অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায় করছে। তেমনি একজন ভুক্তভোগী প্রবাসী মোঃ রাসেল মিয়া। তিনি দীর্ঘ ২০ বছর থেকে রিয়াদে বসবাস করছেন। গত ১১ জানুয়ারি একটি মোবাইল নাম্বার থেকে ব্যবসার কথা বলে অপহরণ চক্রটি গুগল লোকেশন পাঠায়। নির্দিষ্ট ঠিকানায় যাওয়ার সাথে সাথে ৮ থেকে ১০ জন বাংলাদেশি তার চোখ বেঁধে মারধর করে একটি ইস্তেরাহায় নিয়ে যায়। টানা ৪ দিন আটকে রেখে তার উপরে অমানুষিক নির্যাতন করে , শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে জোরপূর্বক দেশে থাকা পরিবারের কাছ থেকে বাংলাদেশি টাকায় ৩৫ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা ব্যাংক এবং বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায় করে অপহরণ চক্রটি।
টাকা পাওয়ার পর তাকে রাস্তায় ফেলে চলে যায়।
শারিরীক ও মানসিক নির্যাতনের এক পর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন ভুক্তভোগী রেমিট্যান্স যোদ্ধা রাসেল মিয়া। অপহরণকারীদের হাত থেকে মুক্তি পেয়ে রিয়াদের সানসিটি পলিক্লিনিকে চিকিৎসা শেষ করে তিনি স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এদিকে ভুক্তভোগী রাসেল মিয়ার পরিবার ঢাকা খিলগাঁও তালতলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পাশাপাশি রিয়াদ বাংলাদেশ দূতাবাসে এই বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের জানান। অভিযোগের ভিত্তিতে দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছে বলে আশ্বস্ত করেন।
এমতাবস্থায় ব্যবসায়ী ভুক্তভোগী রাসেল মিয়া ও রিয়াদ সচেতন নাগরিক সমাজ সংবাদ সম্মেলন করেন। রিয়াদের বাথা ডি প্যালেস হোটেলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক সহ বিশিষ্টজনরা। এসময় রাসেল মিয়া বলেন, আমার মত এমন পরিস্থিতির স্বীকার যেন কোন প্রবাসীর না হয়। তিনি রিয়াদ বাংলাদেশ দূতাবাস ও বর্তমান সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন ।
উল্লেখ্য সৌদি আরবে ক্রমান্বয়ে বিভিন্ন অপকর্মের সাথে বাংলাদেশিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে বিদেশে বাংলাদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে । যেকনো সময় বাংলাদেশিদের শ্রম বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে সৌদি আরব সরকার, এমনটাই মনে করছেন প্রবাসী সচেতন নাগরিক সমাজ।