স্টাফ রিপোর্টার,শেখ আসাদুজ্জামান আহমেদ টিটু
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার ১নং কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের
চেয়ারম্যান মোঃ আবু বক্কর ছিদ্দিক এর দুর্নীতি, অনিয়ম ও সোচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে অভিযোগ দায়ের করেছেন পরিষদের ১২ জন ইউপি সদস্য ও সদস্যা।
৯ জুন রোববার ১২ জন ইউপি সদস্য স্বাক্ষরিত এ অভিযোগ প্রদান করেন৷
এছাড়াও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবরে অভিযোগের অনুলিপি প্রদান করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ইউপি সদস্য ও সদস্যারা।
এ অভিযোগে উল্লেখ করা হয় আমরা পলাশবাড়ী থানাধীন ১নং কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের নির্বাচিত সদস্য/সদস্যাবৃন্দ।
আমরা এই মর্মে আবেদন করিতেছি যে, অত্র ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু বক্কর ছিদ্দিক নির্বাচিত হইয়া তাহার মেয়াদ কালের মধ্যে ইউনিয়নের সকল কাজে দূর্নীতি, অনিয়ম ও সেচ্ছাচারিতা করিয়া আসিতেছেন। আমরা নিষেধ করিলে বা তাহার বিরুদ্ধে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বরাবরে অভিযোগ দিতে চাহিলে তিনি ভবিষ্যতে দূর্নীতি, অনিয়ম ও সোচ্ছাচারিতা করিবে না মর্মে বলিয়া মৌখিক ভাবে অঙ্গিকার করিয়াছিলেন। কিন্তু তিনি অঙ্গিকার ভঙ্গ করিয়া পূর্বের ন্যায় দূর্নীতি, অনিয়ম ও সোচ্ছাচারিতা করিয়া আসিতেছেন। সেকারণে আমরা নিম্ন লিখিত বিষয় গুলি উল্লেখ করে তাহার বিরুদ্ধে অভিযোগ করিতেছি। চেয়ারম্যান জনাব মোঃ আবুবক্কর ছিদ্দিক এর দূর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা গুলি নিম্নে তুলে ধরা হলো।
১। ইউ,পি সদস্য/কর্মচারী ও সাধারণ লোকের সাথে অকারণে খারাপ আচরন করেন। ২। গ্রাম আদালতে মামলা করিতে বাদীর নিকট হইতে ৫০০/- টাকা হিসাবে লন ও মামলার হাজিরায় বাদী বিবাসীর নিকট হইতে ১০০/- টাকা হিসাবে নেয়।
৩। গ্রাম আদালত চালাইতে কোন সদস্য বা প্রতিনিধি মনোনয়ন না করে তার নিজের মনগড়া মতো চালায়। ৪। ইউ,পির যেকোন উন্নয়ন মূলক কাজ করিতে মোট বরাদ্দের ২৫% টাকা নিজে লইয়া শুধু ৬নং ওয়ার্ডের আসমতপুর, ফলিয়া, লোকমানপুর গ্রামে কাজ করেন।
৫। ১% এর টাকা কখন উঠান এবং কি কাজ করেন তাহা ইউ পি সদস্য/সদস্যাগণকে না জনাইয়া কোন
কাজ না করে সম্পূর্ণ টাকা আত্মসাৎ করিয়াছেন।
৬। ইউ পির রাস্তার গাছ সরকারী নিয়ম না মানিয়া নিজ খেয়াল খুসিমতো টেন্ডার করেন। গাছের টেন্ডারের টাকার কাজ না করে সম্পূর্ণ টাকা আত্মসাৎ করেন। ৭। ইউ,পি সদস্যগণকে ইউ পি অংশের ভাতা দেন না। ভাতা চাহিলেও আবল তাবল কথাবার্তা বলে, ৮। ইউ, পির হোল্ডিং ট্রাক্স আদায় করে না। ইট ভাটার টাকা আদায় করিয়া কোন কাজ না করিয়া টাকা আত্মসাৎ করে, ৯। টাওয়ারের টাকাও মনগড়ামত আদায় করিয়া ইউ,পির কোন কাজ না করে টাকা আত্মসাৎ করে, ১০। যেকোন ত্রাণ সামগ্রীর তৗলিক প্রস্তুত করতে দূর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা করেন, ১১। ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের সময় তাহার নিজস্ব লোক দ্বারা প্রভাব খাটিয়ে এবং ইউ পি সদস্য/সদস্যাগণকে অপমান করান, ১২। ভিজিডি, ভিজিএফ, বয়স্ক, বিধব্য, প্রতিবন্ধী ভাতা ফেয়ার কার্ডের তালিকা সদস্যগণকে যাহা দেন তাহা অফিসে গিয়া মনগড়ামত কেটে তাহার নিজস্ব ওয়ার্ডে আসমতপুর, ফলিয়া ও লোকমানপুরের জনগনের মাধ্যে দেন, ১৩। গর্ভবর্তী, মাতৃত্বকালিন ভাতার তালিকা তৈরীর ব্যাপারেও দুর্নীতি, অনিয়ম ও সোচ্ছাচারিতা করেন, ১৪। ইউ,পির রেজুলেশন খাতায় সু-কৌশলে স্বাক্ষর লইয়া তাৎক্ষনিক রেজুলেশন না লেখিয়া পরে মনগড়ামত রেজুলেশন তাহার একক সিদ্ধান্তে লেখেন,১৫। ইউ,পির মাসিক সভা যথা সময়ে আহবান করেন না। সু-কৌশলে সদস্য/সদস্যাগনের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর লইয়া আবল, তাবল কথাবার্তা বলে সভার স্থান ত্যাগ করেন, ১৬। জন্মনিবন্ধনের যে টাকা আদায় করেন তাহা ব্যাংকে জমা না রাখিয়া মনগড়ামত খরচ ও আত্মসাৎ করেন,১৭। একজন গ্রাম পুলিশ মারা গেছে। নতুন করিয়া গ্রাম পুলিশ নিয়োগের ব্যবস্থা করিতেছেন না,১৮। অভিযোগের অন্যান্য বিষয় তদন্ত কালিন সময়ে বাচনিক নিদেন করা হইবে। অতএব, হুজুর সমীপে আকুল আবেদন এই যে, জনস্বার্থে বিষয় গুলো সরো জমিনে তদন্ত করিয়া চেয়ারম্যান সাহেবের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুল হাসান বলেন অভিযোগ দাখিলেের বিষয়ে চেয়ারম্যান সাহেব আমাকে অবগত করেছেন।অভিযোগ করেছে কিনা আগামীকাল অফিস সময়ে আমি সরকারী ভাবে নিশ্চিত করতে পারবো।