৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২১শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

শৈলকুপা পৌরসভা প্রথম শ্রেণির কর দিয়েও মেলে না তৃতীয় শ্রেণির সেবা

Editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬
শৈলকুপা পৌরসভা প্রথম শ্রেণির কর দিয়েও মেলে না তৃতীয় শ্রেণির সেবা

Manual5 Ad Code

শৈলকুপা পৌরসভা প্রথম শ্রেণির কর দিয়েও মেলে না তৃতীয় শ্রেণির সেবা

শেখ স্বপ্না শিমুঃ ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌরসভায় মিলছে না কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সেবা। প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও সেবার মান যেন পরিষদের চেয়েও নিম্নমানের। শহরজুড়ে ভাঙাচোরা সড়ক। সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা, রাত নামলেই অন্ধকারে ডুবে যায় অধিকাংশ এলাকা। আর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্ভোগ নিত্যদিনের সঙ্গী।
ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌরসভায় সড়কের বেহাল দশার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয়রা।

জানা যায়, শৈলকুপা পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯২ সালে। প্রায় ২২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই পৌরসভার বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ৭০ হাজার। কিন্তু সেবার মান একেবারেই তলানিতে।
পৌর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অনেক সড়কের পিচ অনেক আগেই উঠে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে ছোট-বড় যানবাহন। কোথাও আবার এখনো নির্মিত হয়নি পাকা সড়ক। কোথাও একযুগ আগে ইটের সলিং করা হলেও সেই রাস্তায় চলাচল করতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে।

Manual1 Ad Code

শুকনো মৌসুমে ধুলার কারণে পথচারী ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। আবার বৃষ্টি হলেই সড়কের খানাখন্দে পানি জমে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা।পৌরবাসীর অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে বসবাস করলেও তারা ন্যূনতম নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত। ড্রেন তো দূরের কথা, অনেক এলাকায় নেই ভালো রাস্তা। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্ভোগ তাদের নিত্যদিনের বাস্তবতা। নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না ড্রেন।

Manual8 Ad Code

সড়কবাতির অভাবে রাত হলেই অন্ধকারে চলাচল করতে হয় বাসিন্দাদের। এ ছাড়া পর্যাপ্ত সুপেয় পানির ব্যবস্থাও নেই বলে অভিযোগ রয়েছে।
রফিকুল ইসলাম নামে এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমরা নিয়মিত পৌরসভার কর দিচ্ছি। কিন্তু সেই অনুপাতে কোনো সেবা পাচ্ছি না। রাস্তাঘাটের অবস্থা এত খারাপ যে সামান্য বৃষ্টি হলেই চলাচল করা যায় না। ড্রেন পরিষ্কার না করায় জলাবদ্ধতা স্থায়ী সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

স্থানীয় নাসিমা খাতুন বলেন, ‘রাতে সড়কবাতি না থাকায় খুবই ভয় নিয়ে চলাফেরা করতে হয়। বিশেষ করে নারী ও শিক্ষার্থীদের জন্য এটি বড় ঝুঁকি। বর্জ্য সময়মতো অপসারণ না করায় পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে। আব্দুল হালিম নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘শৈলকুপা পৌরসভা প্রথম শ্রেণির হলেও নাগরিক সুবিধা তৃতীয় শ্রেণির মতো। সুপেয় পানির সংকট রয়েছে। অনেক সময় নিজ খরচে পানি সংগ্রহ করতে হয়। আমরা দ্রুত সমস্যার সমাধান চাই।’

Manual5 Ad Code

এ ব্যাপারে শৈলকুপা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম শরিফুল ইসলাম বলেন, পৌরসভার সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নে ইতোমধ্যে একাধিক প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ভাঙাচোরা সড়ক সংস্কার, নতুন করে পাকা রাস্তা নির্মাণ এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে কাজ শুরু করার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

Manual3 Ad Code