বিশেষ প্রতিনিধি
নির্বাচনের আগে রাজধানীর নির্বাচন কমিশন ভবনে যে দৃশ্যটি ছিল চিরচেনা, ফাইল হাতে সাংবাদিক, পর্যবেক্ষকদের দীর্ঘ সারি, কার্ড আর স্টিকারের জন্য অপেক্ষা। সেই দৃশ্য এবার আর থাকছে না।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সেই পুরোনো পদ্ধতিতে ইতি টানছে নির্বাচন কমিশন। এবার সাংবাদিক ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের কার্ড এবং গাড়ির স্টিকার পেতে হলে আবেদন করতে হবে অনলাইনে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক। তার ভাষায়: সময় ও ব্যয়, দুটোই কমানোর লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত।
এতদিন প্রতিটি নির্বাচনে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের নির্বাচন কমিশন বা সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে সরাসরি উপস্থিত হয়ে আবেদন করতে হতো। অনুমোদনের পর সেখান থেকেই সংগ্রহ করতে হতো কার্ড ও গাড়ির স্টিকার। এই প্রক্রিয়ায় যেমন সময় নষ্ট হতো, তেমনি কমিশনেরও বাড়তি প্রশাসনিক ব্যয় গুনতে হতো।
এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এবার আগের পদ্ধতি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে,” বললেন মো. রুহুল আমিন মল্লিক। নতুন ব্যবস্থায় পুরো আবেদন প্রক্রিয়াই হবে অনলাইনে। নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ শাখার ওয়েবসাইট pr.ecs.gov.bd–এর মাধ্যমে নির্ধারিত তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করে আবেদন করতে হবে।
আবেদন অনুমোদিত হলে দেশীয় গণমাধ্যমকর্মীরা নিজেদের সাংবাদিক কার্ড এবং দেশীয় পর্যবেক্ষকরা তাদের কার্ড ও গাড়ির স্টিকার ঘরে বসেই ডাউনলোড করতে পারবেন—এমনটাই জানিয়েছে কমিশন। আবেদনের সময় অফিসের প্যাডে করা আবেদনপত্রের কপি, আইডি কার্ড ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক। ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে পিআইডি কার্ড সংযুক্ত না করলে আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না—এ বিষয়েও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে ইসি। নির্বাচনের মাঠে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ-এ কথা বারবার বলা হয়।
সেই ভূমিকার আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের পথটি এবার কাগজের ফোল্ডার ছেড়ে ঢুকছে ডিজিটাল দরজায়। কার্ডের লাইনে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট করার অধ্যায় শেষ হচ্ছে। প্রশ্ন থেকে যায়-এই ডিজিটাল ব্যবস্থা কতটা নির্বিঘ্ন হবে মাঠের বাস্তবতায়।
তবে নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির দিকে এক ধাপ এগোনোর এই সিদ্ধান্ত, আসন্ন নির্বাচনের আগে কমিশনের প্রস্তুতির নতুন বার্তা দিচ্ছে। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বদলাচ্ছে ব্যবস্থাপনার ভাষা। কাগজের বদলে স্ক্রিনে, নির্বাচনের আগের সেই পরিবর্তনের শুরুটা হল এখানেই।