বিশেষ প্রতিনিধি
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার ১ নং কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের জাফর মংলিপুর, গোপালপুর ও নয়ানপুরের প্রায় চার হাজার মানুষের জীবনযাত্রা কেমন হতে পারে, তা ভাবতেও কষ্ট হয়।
স্বাধীনতারও বহু বছর আগে থেকে, দীর্ঘ ৮৫ বছর ধরে, এখানকার বাসিন্দারা একটি সাধারণ সুবিধার জন্য অপেক্ষা করে আছেন – একটি পাকা সেতু বা স্থায়ী রাস্তার সংযোগ।
তাদের বর্তমান ও একমাত্র ভরসা হলো বর্ষায় নৌকা, আর শুকনো মৌসুমে নড়বড়ে একটি বাঁশের সাঁকো। ছবিতে দেখা দুজন মানুষ সেই দুর্ভোগের প্রতীক।
তাদের চোখ-মুখে হতাশার ছাপ স্পষ্ট। শুধুই আশ্বাস, নেই সমাধান এলাকার বয়স্ক লোক জানান, তাদের বয়স যখন কম ছিল, তখনও তারা একই আশ্বাস শুনেছেন। আজ তাদের জীবনের গোধূলিবেলায় এসেও অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। স্থানীয় চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে উপজেলা ও রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা একাধিকবার পরিদর্শনে এসেছেন, সমস্যার কথা শুনেছেন এবং দ্রুত সমাধানের জোরালো আশ্বাস দিয়েছেন।
কিন্তু প্রতিবারই সেই আশ্বাস কেবল কথার কথা হয়েই রয়ে গেছে। ৮৫ বছর ধরে তারা আমাদের আশ্বাস দিয়ে আসছেন। কিন্তু কেউ কথা রাখেনি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার বর্ষায় নদীর পানি বেড়ে গেলে একমাত্র নৌকা দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয়। বিশেষ করে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, রোগী এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনের জন্য এই পারাপার এক বিশাল চ্যালেঞ্জ।
এখন শুকনো মৌসুম চলছে, তাই নদীর উপর নির্মিত হয়েছে স্থানীয়দের তৈরি একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো। এই সাঁকো দিয়ে হেঁটে পারাপার হওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। একটু অসাবধান হলেই ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। স্থায়ী যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় এই চার হাজার মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে: বর্ষায় স্কুল-কলেজে যেতে শিক্ষার্থীদের চরম কষ্ট করতে হয়।
অনেক অভিভাবকই ঝুঁকি এড়াতে বর্ষার সময় ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ রাখেন। গুরুতর অসুস্থ রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে প্রায়শই বিপদে পড়তে হয়। নৌকা বা বাঁশের সাঁকো পার হয়ে মূল সড়কে পৌঁছানো পর্যন্ত অনেক মূল্যবান সময় নষ্ট হয়ে যায়, যা অনেক সময় জীবন-মৃত্যুর পার্থক্য গড়ে দেয়।
স্বাধীনতার এত বছর পরেও একটি জনপদের হাজার হাজার মানুষ যদি কেবল বাঁশের সাঁকো আর নৌকার ওপর নির্ভর করে জীবনযাপন করেন, তবে এটি রাষ্ট্রের প্রতি তাদের আস্থার সংকট সৃষ্টি করে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সরকারের উচ্চ মহলের কাছে মানুষের জোরালো দাবি—আর কোনো আশ্বাস নয়, এবার স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা করা হোক।
একটি সেতু এই চার হাজার মানুষের জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন করে দিতে পারে এবং তাদের মূল জনপদের সঙ্গে যুক্ত করতে পারে।