রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের ২৮ দফার শান্তি পরিকল্পনায় যা থাকছে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত থামাতে ‘নীরবে’ একটি শান্তি পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জানা গেছে, ২৮ পয়েন্টের এই শান্তি পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে লড়াই থামাতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসনের একজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ এবং ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের সাথে পরামর্শ করে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নীরবে এই পরিকল্পনাটি তৈরি করেছেন ট্রাম্প। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে এই পরিকল্পনাটির কথা প্রথম রিপোর্ট করেছিল ‘অ্যাক্সিওস’। সেই রিপোর্টে করা হয়েছিল, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা গাজা শান্তি পরিকল্পনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছে এই শান্তি পরিকল্পনাটি।
তবে এই শান্তি পরিকল্পনার সুনির্দিষ্ট কোনও পয়েন্টের বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি মার্কিন প্রশাসনের সেই কর্তৃপক্ষ। এদিকে তিন মার্কিন কর্মকর্তা সংবাদ পোর্টালকে বলেছিলেন যে শান্তি চুক্তির কাঠামোটি এখনও ইউক্রেনীয় নেতাদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। আমেরিকান সেনাবাহিনীর একটি প্রতিনিধি দল বুধবার ইউক্রেন সফরে গিয়েছে। জানা যাচ্ছে, সামরিক কৌশল এবং প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করার পাশাপাশি স্থায়ী শান্তি প্রক্রিয়াকে পুনরুজ্জীবিত করতে সহায়তা করার লক্ষ্যে তাদের এই সফর।
পরিকল্পনা অনুসারে, ইউক্রেনকে পূর্বাঞ্চলীয় ডনবাস অঞ্চলের একটি অংশ রাশিয়ার কাছে ইজারা দিতে হতে পারে। প্রস্তাব অনুযায়ী, অঞ্চলটির আইনগত মালিকানা ইউক্রেনের কাছে থাকলেও বাস্তব নিয়ন্ত্রণ রাশিয়ার হাতে থাকবে এবং এর বিনিময়ে ইউক্রেন একটি নির্দিষ্ট অর্থ পাবেন।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইউক্রেনকে শুধু ভূমি ইজারাই নয়, আরও বেশ কিছু কঠোর শর্ত মানতে হবে। এর মধ্যে অন্যতম হলো:
১.ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর আকার অর্ধেকে নামিয়ে আনা, ২.দীর্ঘ-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা, ৩ দেশের ভেতরে বিদেশি সেনা মোতায়েনের ওপর নিষেধাজ্ঞা, ৪.মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধ করা, ৫.বিদেশি কূটনৈতিক বিমানের ইউক্রেনে অবতরণে নিষেধাজ্ঞা।
এছাড়া, রুশ ভাষাকে ইউক্রেনের একটি আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। দখলকৃত অঞ্চলে রাশিয়ান অর্থোডক্স চার্চকেও সরকারি মর্যাদা দেওয়ার শর্ত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তবে পরিকল্পনায় ইউক্রেনকে একটি সুযোগ রাখা হয়েছে— যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা বিষয়ক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি থাকবে, যাতে একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা যায়।