শুভ জন্মদিন
বীর মুক্তিযোদ্ধা গীতিকার মুনশী ওয়াদুদ
নিজস্ব প্রতিনিধ;- মুনশী ওয়াদুদ এদেশের আধুনিক গান ও বাংলা চলচ্চিত্রের একজন প্রতিথযশা ও বরেণ্য গীতিকারের নাম।
রক্তাক্ত একাত্তরে দেশমাতৃকার স্বাধিকার স্বার্থে টগবগে তরুণ ওয়াদুদ ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন মুক্তি যুদ্ধে। ছিনিয়ে এনেছিলেন স্বাধীনতার লাল সূর্য।
জন্ম ৮ নভেম্বর
পড়াশোনা করেছেন তিনি তেজগাঁও পলিটেকনিক হাই স্কুলে এবং ঢাকা কলেজে। সবশেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করেছেন স্বনামধন্য এই গীতিকবি।
প্রায় অর্ধ শতাব্দী ধরে তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য গান লিখে চলেছেন। লিখেছেন দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে ভারতীয় শিল্পীদের জন্যও। গান লিখেই তিনি পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। ২০০৭ সালে ‘সাজঘর’ চলচ্চিত্রের জন্য তিনি এই পুরস্কার লাভ করেন।
ছোটবেলা থেকেই কবিতার পাশাপাশি গান শোনার প্রতি দুর্বলতা তৈরি হয় তাঁর। নানা ভাষার গান শুনে চেষ্টা করতেন সেগুলোর অর্থ বোঝার। একসময় এটাই পরিণত হয় তাঁর প্রতিদিনের রুটিনে।
অষ্টম শ্রেণীতে উঠেই কিশোর মুনশী ওয়াদুদ লিখতে শুরু করেন প্রকৃতি, প্রেম ও জীবনের অনুভূতি নিয়ে।
গান লেখার আগে ব্যাকরণ নিয়ে চর্চা করাটা জরুরি বলে তিনি মনে করেন। গানের ছন্দ, অন্ত্যমিল ও কাব্যের ব্যাপারে গীতিকার মুনশী ওয়াদুদ খুব যত্নশীল।
সত্তর দশকের গোড়ার দিকে যাঁদের লেখা গান প্রশংসিত হয়েছে মুনশী ওয়াদুদ নিঃসন্দেহে তাঁদের অন্যতম। চলচ্চিত্রের ব্যস্ত দিনগুলোতে গান লিখতে গিয়ে সময়জ্ঞান ভুলে যেতেন এই গীতিকার।
লিখেছেন পরিনীতা, হাঙ্গর নদী গ্রেনেড, মনের মতো ভাবী, সাজঘর, সুলতান, সবার উপরে তুমি, চাচ্চু এবং এ বাঁধন যাবে না ছিঁড়েসহ বহু চলচ্চিত্রের গান। কর্মের স্বীকৃতি হিসেবে অর্জন করেছেন তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ছাড়াও বাচসাস এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন পুরস্কারসহ নানা সম্মাননা।
বিটিভিসহ প্রায় সকল বেসরকারি টেলিভিশনে নিয়মিত অনুষ্ঠান করে চলেছেন বিশিষ্ট এই গবেষক।
তাঁর লেখা গানে কন্ঠ দিয়েছেন হৈমন্তী শুক্লা, সাধনা সরগম. কবিতা কৃষ্ণমূর্তি, অনুরাধা পাড়োয়াল, বাবুল সুপ্রিয়, অভিজিৎ ও শান প্রমুখ শিল্পী।
খ্যাতিমান এই গীতিকার এবং বীর মুক্তিযোদ্ধার জন্য রইল শুভ কামনা আজকের এই বিশেষ দিনটিতে।