বিশেষ প্রতিনিধি।
ভারতে পালানোর চেষ্টাকালে বেনাপোল ইমিগ্রেশনে ধরা পড়েছেন একাধিক মামলার পলাতক আসামি, বাগেরহাট জেলা জাতীয় শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন খান। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ভারতের উদ্দেশ্যে বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনে প্রবেশ করার সময় তাকে গ্রেফতার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। মনির হোসেন খান বাগেরহাট সদর উপজেলার নাগেরবাজার এলাকার মুসলিম খানের ছেলে। বাগেরহাট সদর থানায় তার বিরুদ্ধে হত্যা ও সন্ত্রাস সংশ্লিষ্ট একাধিক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। বেনাপোল ইমিগ্রেশন চৌকির অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইলিয়াজ হোসেন মুন্সী জানান, “ইমিগ্রেশনে প্রবেশের সময় মনিরের আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়। রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করেন। পরে পাসপোর্ট যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, তিনি একটি কালো তালিকাভুক্ত (Blacklist) আসামি। সঙ্গে সঙ্গে তাকে গ্রেফতার করে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।” পুলিশ সূত্র জানায়, পরবর্তী প্রক্রিয়ায় মনির হোসেন খানকে বাগেরহাট থানায় হস্তান্তর করা হবে, যেখানে তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম শুরু হবে। এর আগে একই ধরনের অভিযোগে বেনাপোল ইমিগ্রেশন থেকে ০৫ আগস্ট ২০২৪-এর পরপরই বিভিন্ন সময়ে আরও ১৭ জন আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেফতার হন, যারা বিভিন্ন হত্যা, দাঙ্গা ও দুর্নীতি মামলার আসামি ছিলেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক সংকট ও সরকারের পরিবর্তনের পর দেশজুড়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় পালাতে চাওয়া বহু সাবেক ক্ষমতাসীন দলের নেতারা এখন আইনজালের মুখোমুখি হচ্ছেন। বেনাপোল হয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টা বাড়ছে, ফলে ইমিগ্রেশনে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হলো—দলীয় পরিচয়ে অপরাধ আড়াল করা আর সম্ভব নয়। আইনের চোখে সবাই সমান, আর বিচারের মুখোমুখি হতেই হবে—পালিয়ে বাঁচা যাবে না।