মোঃ মিঠু মিয়া
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি
গাইবান্ধার বিভিন্ন উপজেলার শতাধিক মানুষের কাছ থেকে হাজার কোটি টাকার লোভ দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক চক্রের বিরুদ্ধে। আজ (তারিখ) ১৬/৭/২০২৫ ইং দুপুরে গাইবান্ধা জেলা মডেল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মধ্যমে কুমেলপুর গ্রামের কৃষক গফুর খান ওরফে ছকু (৬৫) লিখিত অভিযোগে জানান, চক্রটি কোষ্ঠি পাথরের মূর্তি ও ব্রিটিশ আমলের ধাতব মুদ্রা পাওয়ার গল্প ফাঁদে ফেলে সাধারণ মানুষকে প্রতারণা করে আসছে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে বলেন, ১নং আসামী মোছাঃ অজিফা বেগম (পশ্চিম রাজীবপুর, সুন্দরগঞ্জ), ২নং আসামী মোঃ নাজমুল হোসাইন (বজর হলদিয়া, সুন্দরগঞ্জ), ৩নং আসামী মোঃ শহিদুল ইসলাম খুজরু (বড় বাজনাপাড়া, গোবিন্দগঞ্জ), ৪নং আসামী মোঃ মোজালেব মিয়া (পশ্চিম রাজীবপুর, সুন্দরগঞ্জ) ও ৫নং আসামী মোঃ জনাব আলী (মধ্যম কুমেলপুর, গাইবান্ধা) সহ আরও অনেকে আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের সদস্য। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ১নং আসামী কৌশলে গুজব ছড়ায় যে, তারা মাটি খুঁড়ে বহু মূল্যবান কয়েক হাজার কোটি টাকা মূল্যের কোষ্ঠি পাথরের মূর্তি ও ধাতব মুদ্রা পেয়েছে। এগুলো বিক্রি করতে হলে ঢাকায় ল্যাব টেস্ট ও আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়ায় এক কোটি টাকার প্রয়োজন হবে বলে জানানো হয়। এরপর ২-৫ নং আসামীদের মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ২০/২২ জন লোকের কাছ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা করে মোট প্রায় ২৮ লাখ টাকা এবং ৪৬ জন লোকের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে প্রায় ১৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়। এছাড়াও স্ট্যাম্পে চুক্তি, মোবাইল সিম, কমপ্লিট ড্রেস, সেনাবাহিনী ক্যাম্প, প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে উদ্বোধন, দুই কোটি টাকা করে বিতরণ, বিদেশে হজ্ব ও গ্রীন কার্ড প্রদানের আশ্বাস দিয়ে প্রায় দুই কোটি টাকা পর্যন্ত সংগ্রহ করা হয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা। সংবাদ সম্মেলনে গফুর খান ওরফে ছকু, আরও জানান, এ চক্রটি বিভিন্ন সময়ে সেনা ক্যাম্প স্থাপন ও আমেরিকান বায়ারের মিটিং-এর গল্প বলে মানুষকে বিশ্বাস করায়। অবিলম্বে প্রশাসনের কাছে এ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়।