২১শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২রা শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

রংপুর সদর-৩: সংখ্যার নিচে রাজনীতি, দুর্গের ভেতরে ফাটল নাকি নতুন আস্থা?

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ২৭, ২০২৬
রংপুর সদর-৩: সংখ্যার নিচে রাজনীতি, দুর্গের ভেতরে ফাটল নাকি নতুন আস্থা?

Manual4 Ad Code

লোকমান ফারুক, রংপুর

Manual5 Ad Code

রংপুর শহরের ভোরগুলো এখন আগের মতো নয়। কুয়াশার ভেতর দিয়ে শুধু সূর্য ওঠে না-উঠে আসে হিসাব। কে কোথায় দাঁড়িয়ে, কার কতটা ভিত্তি, আর কার কথায় কতটা ওজন-সবকিছুরই এখন মাপকাঠি আছে। সেই মাপকাঠির নাম সংখ্যা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রংপুর সদর-৩ আসনে যে উত্তাপ তৈরি হয়েছে, তা শুধু স্লোগানের নয়-এটি অঙ্কের উত্তাপ।

Manual5 Ad Code

আসনের অঙ্ক: শক্ত দুর্গ, বড় ভোটব্যাংক

Manual7 Ad Code

রংপুর সদর-৩ আসনে মোট ভোটার প্রায় ৩ লাখ ৯৪ হাজার। এর মধ্যে-শহুরে ভোটার: আনুমানিক ৬০% গ্রামীণ ভোটার: প্রায় ৪০% যুব ভোটার (১৮-৩৫): প্রায় ৩২–৩৫% এই পরিসংখ্যানই বলে দেয়-এটি কেবল ঐতিহ্যের আসন নয়, পরিবর্তনের সম্ভাবনার আসনও।
জাতীয় পার্টি: দুর্গ আছে, কিন্তু ব্যবধান কমছে। গত তিনটি নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়- জাতীয় পার্টি জয়ী হলেও, ভোট ব্যবধান ধীরে ধীরে কমেছে। বিরোধী ভোট ছিল বিভক্ত।

রাজনৈতিক ভাষায় একে বলা হয়-(প্রাধান্যের ক্ষয়)-জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা যখন বলেন, “লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হলেই জানা যাবে কার অবস্থান কোথায়-” এই বক্তব্য আসলে একটি আত্মবিশ্বাস ও আশঙ্কার যুগল প্রকাশ।

ডেটা বলছে: জাতীয় পার্টির মূল শক্তি এখনও আছে, কিন্তু একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ আর আগের মতো নিরঙ্কুশ নয়।

বিএনপি: ক্ষোভ আছে, কিন্তু অঙ্ক জটিল

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সামসুজ্জামান সামুর বক্তব্যে “পরিবর্তন” শব্দটি বারবার আসে। কিন্তু সংখ্যার দিকে তাকালে দেখা যায়-বিএনপির ঐতিহ্যগত ভোটব্যাংক আছে, তবে শহুরে ভোটে বিভাজন বেশি। ধর্মভিত্তিক ও সংস্কারপন্থী ভোটের একটি অংশ বিএনপির বাইরে সরে গেছে। অর্থাৎ- বিএনপি শক্তিশালী, কিন্তু এককভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে নয়।

জামায়াত: সংখ্যায় নয়, আস্থায় উত্থান

ডেটা বিশ্লেষণে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামীকে ঘিরে। জুলাই বিপ্লবের পর-জামায়াত সরাসরি পরিবর্তন ও সংস্কারের বয়ান সামনে এনেছে। কেবল বিরোধিতা নয়, শাসন সংস্কার, দুর্নীতি বিরোধী অবস্থান জোরালো করেছে। যুব ও শিক্ষিত ভোটারের মধ্যে তাদের গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে।

Manual4 Ad Code

এটি সরাসরি বড় ভোটব্যাংকে রূপ না নিলেও, তৈরি করেছে একটি “আস্থার দোলাচল-” যেখানে ভোটার বলছে,”সবাই সমান নয়।” জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মাহবুবার রহমান বেলাল যখন বলেন, “মানুষ বুঝতে শুরু করেছে তারা বিগত দিনে কী ভুল করেছে”-এই বক্তব্য শুধু রাজনৈতিক দাবি নয়, এটি একটি মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত।

ডেটা এখানে বলে-জামায়াতের ভোট স্থিতিশীলভাবে বাড়ছে, বিশেষ করে যুব ও মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে তারা এখন আর শুধু “প্রতিবাদী শক্তি” নয়, সংস্কারপন্থী বিকল্প।

ইসলামী আন্দোলন: ভোট কাটার ফ্যাক্টর

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ভোট সম্ভাবনা সীমিত হলেও-তারা নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় ধর্মীয় ও আন্দোলনমুখী ভোট ভাগ করতে সক্ষম। ডেটা অনুযায়ী-তারা জিতবে কি না, প্রশ্ন সেটা নয়! তারা কার ভোট কমাবে, সেটাই বড় প্রশ্ন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সামাজিক বার্তা

তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থী আনোয়ারা ইসলাম রানীর উপস্থিতি ভোটের অঙ্কে বড় প্রভাব না ফেললেও-এটি একটি সামাজিক বিবেকের সূচক। কিছু তরুণ ও মানবাধিকার সচেতন ভোটারকে প্রভাবিত করতে পারে।

শেষ হিসাব: দুর্গ ভাঙে কখন?

ইতিহাস বলে-দুর্গ ভাঙে বাইরের আঘাতে নয়, ভাঙে ভেতরের আস্থা হারালে। রংপুর সদর-৩-এ এখন সেই আস্থার হিসাব চলছে। সংখ্যা বলছে-খেলা এখনও খোলা। আর ভোটের দিনই ঠিক করবে, এটি কি দুর্গের আরেকটি রক্ষণ, নাকি রাজনীতির নতুন মানচিত্র।