স্টাফ রিপোর্টার: জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, দুদকের সাবেক কমিশনার এবং সাবেক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন চুপপু।
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলীয় প্রার্থী হিসেবে তাকে মনোনয়ন দিয়েছেন।
রবিবার বেলা ১১টায় নির্বাচন ভবনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
রাষ্ট্রপতি প্রার্থী সম্পর্কে জানাতে গিয়ে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, সাবেক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এবং দুদকের সাবেক কমিশনার সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে মনোনয়ন প্রদান করেছে।
তিনি বলেন, ‘মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন পেশায় একজন আইনজীবী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। তিনি ১৯৪৯ সালে পাবনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইতিপূর্বে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ, দুর্নীতি দমন কমিশনের একজন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ১৯৭১ সালে পাবনা জেলা স্বাধীন বাংলা পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর দীর্ঘ তিন বছর কারাগারে বন্দি ছিলেন।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘১৯৮২ সালে তিনি (মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন) বিসিএস বিচার বিভাগে যোগদান করেন। ’৯৫ সালে জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আইন মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিযুক্ত কোঅরডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ২০০১ সালে সাধারণ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিএনপি-জামায়াত জোটের নেতাকর্মীদের দ্বারা সংঘটিত হত্যা ও লুণ্ঠন এবং মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অনুসন্ধানে গঠিত বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তিনি ছাত্রজীবনে পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। ১৯৭৪ সালে পাবনা জেলা যুবলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালে সংঘটিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারকে নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর তিনি কারাবরণ করেন। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সর্বশেষ পৌর কাউন্সিলে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক পুত্র সন্তানের পিতা। তার স্ত্রী প্রফেসর ডক্টর রেবেকা সুলতানা সরকারের সাবেক যুগ্ম সচিব ছিলেন।