৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২১শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

সামাজিক মাধ্যম আসক্তি সংক্রান্ত মামলায় মেটার নীতির পক্ষে সাফাই জাকারবার্গের।

Editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬
সামাজিক মাধ্যম আসক্তি সংক্রান্ত মামলায় মেটার নীতির পক্ষে সাফাই জাকারবার্গের।

Manual1 Ad Code

সামাজিক মাধ্যম আসক্তি সংক্রান্ত মামলায় মেটার নীতির পক্ষে সাফাই জাকারবার্গের।

স্বপ্না শিমুঃ ইনস্টাগ্রামের প্রভাবে কম বয়সি ব্যবহারকারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি সংক্রান্ত মামলায় প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা ও মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ। স্থানীয় সময় বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলসে জুরি ট্রায়ালে অংশ নেন তিনি। ইনস্টাগ্রামের প্রভাবে কম বয়সি ব্যবহারকারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি সংক্রান্ত মামলায় স্থানীয় সময় বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলসে জুরি ট্রায়ালে অংশ নেন মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ।

এ সময় জাকারবার্গ বারবার বলেছেন যে, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম শিশুদের জন্য নয় এবং ১৩ বছরের কম বয়সি কেউ এই প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহার করতে পারবে না। কিন্তু আদালতে তাদের উপস্থাপিত কিছু তথ্য দেখায় যে ১৩ বছরের কম বয়সি শিশুরাও মূল ব্যবহারকারীদের মধ্যে রয়েছে।

মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী মার্ক ল্যানিয়ার২০২৪ সালে মার্কিন কংগ্রেসে দেয়া জাকারবার্গের বক্তব্য উল্লেখ করেন, যেখানে তিনি বলেছিলেন ১৩ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীরা প্ল্যাটফর্মে যেতে পারবেন না। মেটার অভ্যন্তরীণ নথি দেকিয়ে জাকারবার্গের সেই বক্তব্য চ্যালেঞ্জ করেন ল্যানিয়ার।

Manual1 Ad Code

এ বিষয়ে এর আগে জাকারবার্গ মার্কিন কংগ্রেসে সাক্ষ্য দিলেও এই মামলার গুরুত্ব অনেক বেশি। মামলায় হেরে গেলে মেটাকে ক্ষতিপূরণও গুনতে হতে পারে। পাশাপাশি প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর আইনি সুরক্ষাও দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Manual4 Ad Code

শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে সম্প্রতি মামলাটি দায়ের করেন ক্যালিফোর্নিয়ার এক নারী, যিনি শিশু বয়সে মেটার ইনস্টাগ্রাম ও গুগলের ইউটিউব ব্যবহার শুরু করেন এবং মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।

তার অভিযোগ, শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ক্ষতিকর জেনেও কোম্পানিগুলো শিশুদের আসক্ত করে মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করেছে। তবে মেটা ও গুগল এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় বিভিন্ন নিরাপত্তা ফিচার যুক্ত করেছে তারা।

ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেসের এক গবেষণার কথা উল্লেখ করে মেটা দাবি করে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সরাসরি শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের পরিবর্তন ঘটায় এমন কোনো অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

Manual7 Ad Code

এর আগে গত ১১ ফেব্রুয়ারি একই মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দেন ইনস্টাগ্রামের প্রধান অ্যাডাম মোসেরি। তিনি জানান, অভিভাবকদের তদারকি ও কিশোর-কিশোরীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সচেতনতার মধ্যে কোনো যোগসূত্র নেই—এমন তথ্য সম্পর্কে তিনি জানতেন না।

শুনানিতে তুলে ধরা একটি গবেষণা নথিতে দেখা গেছে, প্রতিকূল জীবন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাওয়া কিশোর-কিশোরীরাই ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার বেশি করে। তবে মেটার আইনজীবীরা দাবি করেছেন যে, ওই তরুণীর মানসিক সমস্যার মূল কারণ তার শৈশবের পারিবারিক কলহ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বরং তার জন্য সৃজনশীলতা প্রকাশের একটি মাধ্যম ছিল বলে দাবি করে মেটা। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্যালিফোর্নিয়ার ওই নারীর দায়ের করা মামলাটি বৃহত্তর একাধিক মামলার জন্য পরীক্ষামূলক বা ‘টেস্ট কেস’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মেটার পাশাপাশি অ্যালফাবেটের গুগল, স্ন্যাপ ও টিকটকের বিরুদ্ধেও যুক্তরাষ্ট্রে হাজারো মামলা হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক পরিবার, স্কুল ও বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য এই কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য সংকটে ফেলার অভিযোগ এনে মামলা করেছে।

Manual2 Ad Code

বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া ও স্পেন ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায়ও ১৪ বছরের কম বয়সীদের জন্য এই প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আরও অনেক দেশ একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।