
বিশেষ প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধা জেলায় পলাশবাড়ী থানায় ঢুকে আওয়ামী দোসর ও ফ্যাসিস্টের দোসর ট্যাগ দিয়ে ওসি, এসআই এএসআইসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে লাঞ্চিত ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে যুব জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এঘটনায় ওসি,এসআই, এএসআই,নারী পুলিশ সদস্যসহ ৮ জন আহত হয়েছেন।
২৫ মার্চ বুধবার রাতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে অভিযান পরিচালনা করে। অপরদিকে যুব জামায়াতের নেতাকর্মীদের হামলায় ঘটনায় থানার অফিসার ইনচার্জ সরোয়ার আলম, এস আই শাহ নেওয়াজ, এস আই রাসেল, এ এস আই আশরাফুল, এ এস আই ওহিদুল, এ এস আই রুহুল আমিন, নারি কনেষ্টেবল মোস্তারিনা ও কনেষ্টবল আব্দুল মজিদসহ ৮ পুলিশ সদস্য আহত হয় বলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জরুরী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেন।
অন্যদিকে জামায়াতের নেতারা বলছেন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দলীয় কেউ জড়িত থাকলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরদিক অভিযুক্তরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে নিজেদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা দাবী করে পুলিশ কর্তৃক হামলার স্বীকার হয়েছেন বলে দাবী করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাত সাড়ে নয়টার দিকে পলাশবাড়ী যুব জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক মাহমুদুল হাসান পলাশের নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক থানায় প্রবেশ করেন। তারা পৌরসভার কালিবাড়ী হাটের একটি বিবদমান দোকান তালাবদ্ধ করার জন্য ওসি সারোয়ার আলম খানকে অনাধিকার চাপ প্রয়োগ করেন। তবে বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ার বাইরে হওয়ায় ওসি এতে সাড়া দেননি। এতে যুব জামাতের নেতাকর্মীরা ওসি সরোয়ার আলম খানসহ থানায় কর্মরত পুলিশদের আওয়ামী দোসর ট্যাগ দিয়ে বিভিন্ন গালিগালাজ, থানায় চাকুরি করতে দিবেনা মর্মে হুমকি ধামকি ও মারধর করেছে বলে জানা যায়। পরে যুব জামায়াতের নেতাকর্মীরা নিজেদের অপরাধ ঢাকতে থানা ভিতরে মব তৈরীর জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের সমবেত করে এমতবস্থায় বিএনপির নেতাকর্মীরা ও পলাশবাড়ী সচেতন নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ পুলিশের পাশে দাঁড়ালে যুব জামায়াতের নেতাকর্মীদের পক্ষের লোকজন পিছু হঠতে বাধ্য হয়। পরে যুব জামায়াতে নেতাকর্মী থানা চত্বর ছেড়ে চলে যান।
গাইবান্ধা জেলা পুলিশের সি সার্কেল রশিদুল বারী জানান, অন্যায় ভাবে দোকানের তালা না দেওয়ার দাবীকে প্রত্যাখান করায় এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশের ওপর চড়াও হয়, ফ্যাসিস্ট ও আওয়ামী দোসর ট্যাগ দিয়ে গালিগালাজ করে। তিনি আরো বলেন, ওসি সাহেবকে মারধর করা হয় পরে থানার ভেতরে দায়িত্বরত অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের ওপরও হামলা চালানো হয়।
এসময় হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করার চেষ্টা করলে তাদের আটকাতে গেলে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রুহুল আমিনও হামলার শিকার হন। এতে থানার ভেতরে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই থানায় যান স্থানীয় সংসদ সদস্য মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু ও জামায়াতের শীর্ষ নেতাকর্মীরা। এ সময় উভয়ের সম্মতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এদিকে থানার সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে যদি দলের কোনো সদস্যের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর আবু বক্কর সিদ্দিক।
এদিকে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত যুব জামায়াত নেতা তৌহিদুল ইসলাম কানন নামে (নবীন এক গণমাধ্যমকর্মী) কে আটক করে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়,শেষে থানা পুলিশের দায়েরকৃত মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। পলাশবাড়ী থানায় হামলার ঘটনায় এজাহার নামীয় ৯ অজ্ঞাত ১২/১৩ জনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
এ ঘটনার সময় ধারণ করা সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চাইলে পুলিশ জানায়, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে তা দেখানো হবে।
পলাশবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ সরোয়ার আলম খান বলেন, জামায়াত যুব বিভাগের কতিপয় নেতাকর্মীরা একটি লিখিত অভিযোগ নিয়ে থানায় আসলে আমি আন্তরিকতার সাথে তা গ্রহণ করে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস প্রদান করি।তারা অভিযোগটির তাৎক্ষণিক সমাধান চেয়ে উত্তেজিত হয়ে আমাকে ফ্যাসিষ্ট বলে
শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করে।এসময় পুলিশ সদস্যরা এগিয়ে আসলে তারা নিরস্ত্র পুলিশের উপর অতর্কিত হামলা চালায় এতে আমিসহ ৮ পুলিশ সদস্য আহত হয়।
এ ঘটনায় পলাশবাড়ী থানার এস আই রেজাউল করিম বাদী হয়ে এজাহার নামী ৯;ও অজ্ঞাত ১০/১২ জনকে আসামী করে পলাশবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। (যাহার মামলা নং জি আর ২৪ তাং ২৬/৩/২০২৬ ইং)
এদিকে পলাশবাড়ী থানায় ভিতরে ঢুকে হামলার এই ঘটনা নিয়ে স্থানীয় মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, থানায় ঢুকে পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন পলাশবাড়ী উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ,পলাশবাড়ী সাংবাদিক সমাজ,পলাশবাড়ী সচেতন নাগরিক সমাজসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক রাজনৈতিক ও পেশাজীবি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক -শেখ তিতুমীর আকাশ।
বার্তা প্রধান : মোঃ সেলিম উদ্দিন
ইমেইল: dailyswadhinbhasha@gmail.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.abhijug.com কর্তৃক সংরক্ষিত।