
লোকমান ফারুক, রংপুরঃ দীর্ঘদিন ধরে কংক্রিটের খাঁচা হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল ভবন দুটো। অসমাপ্ত সিঁড়ি, খোলা রড, বৃষ্টির দাগ। বিকেলে ক্যাম্পাসের ভেতর দিয়ে হাঁটলে দূর থেকে মনে হতো সময় এখানে থেমে আছে। বৃহস্পতিবার সেই নীরবতা ভাঙল। আবার শোনা গেল হাতুড়ির শব্দ।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়–এর ছাত্রী হল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউট ভবনের নির্মাণকাজ ছয় বছর পর পুনরায় শুরু হয়েছে। দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজের উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী। উপস্থিত ছিলেন প্রক্টর ও রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, "সাবেক প্রশাসনের দুর্নীতির কারণে কাজ বন্ধ ছিল। দায়িত্ব নেওয়ার পর আমরা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করি। পুনরায় অনুমোদন পাওয়ার পর কাজ শুরু করছি।"
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, আগের বরাদ্দের অর্থের সঙ্গে নতুন করে ৭৭ কোটি টাকা যুক্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত নির্মাণকাজে প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। ঠিকাদারদের কাছে থাকা অতিরিক্ত ১৫ কোটি টাকাসহ মোট বরাদ্দ সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে দ্রুত কাজ শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সংশোধিত প্রকল্পের আওতায় ফার্নিচার ও আনুষঙ্গিক খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দও পাওয়া গেছে। লক্ষ্য ২০২৭ সালের মধ্যে অন্তত পাঁচ তলা ব্যবহার উপযোগী করা।
পেছনের গল্পটি সরল নয়। ২০১৭ সালের ৪ জানুয়ারি শুরু হওয়া তিনটি প্রকল্পের কাজ সাবেক উপাচার্য ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ–এর সময়ে নকশা পরিবর্তন ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বদলের মাধ্যমে ব্যয় তিনগুণ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব পায়। অভিযোগ ওঠে অনিয়মের। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কাজ বন্ধ করে তদন্তের নির্দেশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন–কে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর প্রকল্প স্থগিত থাকে।
এই ছয় বছরে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। আবাসন সংকট তীব্র হয়েছে। অনেক ছাত্রীকে বাইরে ভাড়া বাসায় থাকতে হয়েছে। গবেষণার জন্য নির্ধারিত ভবন না থাকায় বিভিন্ন বিভাগ অস্থায়ী কক্ষে কাজ চালিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, "ভবন মানে শুধু ইট-সিমেন্ট নয়, এটি একটি পরিবেশ। সেটি না থাকলে একাডেমিক চর্চা খণ্ডিত হয়।"
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, "পূর্বের আর্থিক জটিলতা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণে কাজ থেমে ছিল। এখন নতুন প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।"
ক্যাম্পাসে তাই এক ধরনের সতর্ক আশাবাদ। কাজ শুরু হয়েছে এটাই খবর। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এই প্রকল্প ইতিমধ্যে একটি দাগ কেটে গেছে।
ইট-সিমেন্টের ভবন দাঁড় করানো কঠিন নয়, কঠিন হলো আস্থা পুনর্গঠন। ছয় বছরের বিলম্বের দায় কার, তার জবাব কি কখনও স্পষ্ট হবে? আর ভবিষ্যতে যেন উন্নয়ন থমকে না যায় তার নিশ্চয়তা কে দেবে?
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক -শেখ তিতুমীর আকাশ।
বার্তা প্রধান : মোঃ সেলিম উদ্দিন
ইমেইল: dailyswadhinbhasha@gmail.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.abhijug.com কর্তৃক সংরক্ষিত।