১০ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২২শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

কর্ণেল তাহের উজ্জ্বল এক ধ্রুবতারার নাম।

admin
প্রকাশিত নভেম্বর ১৪, ২০২৫

Manual5 Ad Code

কর্ণেল তাহের

উজ্জ্বল এক ধ্রুবতারার নাম।

বিশেষ প্রতিনিধি।

Manual6 Ad Code

কর্ণেল আবু তাহের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বামপন্থী বিপ্লবী নেতা।

তাঁকে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী ভুমিকার জন্য এদেশের রাজনীতির আকাশের উজ্জ্বল ধ্রুবতারা বললে মোটেও অতিশয়োক্তি হবেনা।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি ছিলেন ১১ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার।

জন্ম ১৯৩৮ সালের ১৪ নভেম্বর আসামের বাদারপুরে। পরে সেখান থেকে তাঁর পরিবার ময়মনসিংহের নেত্রকোণার পূর্বধলায় চলে আসেন।

তাঁর বাবার নাম মহিউদ্দিন আহমেদ এবং মায়ের নাম আশরাফুন্নেসা। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পড়াশোনা শেষ করেন চট্টগ্রামের প্রবর্তক বিদ্যালয় ও কুমিল্লার ইউসুফ বিদ্যালয় থেকে।

Manual2 Ad Code

পরবর্তীতে ১৯৫৯ সালে সিলেটের এমসি কলেজ থেকে স্নাতক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যান ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে পড়াশোনা করেন।

কর্ণেল তাহের ১৯৬১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে অফিসার হিসেবে যোগদান করেন এবং ১৯৬২ সালে কমিশনপ্রাপ্ত হন।

১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে কাশ্মীর আর শিয়ালকোট সেক্টরে যুদ্ধ করেন। সে যুদ্ধে তিনি আহতও হন৷ একমাত্র বাঙালি অফিসার হিসেবে সে সময় তাঁকে ‘মেরুন প্যারাস্যুট উইং’ নামক সম্মাননা প্রদান করা হয়৷

মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা:

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অফিসার হিসেবে তাহের কমান্ডো প্রশিক্ষণ লাভ করেন ও পরে সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেন।

 

মুক্তিযুদ্ধের সময় তাহের সম্মুখ সমরে আহত হন এবং এক পা হারান। কর্নেল তাহেরের সব ভাইবোন মুক্তিযুদ্ধে তাঁর নেতৃত্বে ১১ নং সেক্টরে যৌথভাবে যুদ্ধ করেছেন।

 

মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী ভূমিকা:

Manual7 Ad Code

মুক্তিযুদ্ধের পরে তাহের প্রথমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্নেল পদে দায়িত্ব পালন করেন, কিন্তু মতবিরোধের জন্য পদত্যাগ করেন। তিনি বামপন্থি রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর তাঁর নেতৃত্বে সিপাহী বিপ্লব সংঘটিত হয় যা খালেদ মোশাররফ সরকারের পতন ঘটায় এবং জেনারেল জিয়াউর রহমানকে কারামুক্ত করে।

Manual1 Ad Code

পরবর্তীতে দায়েরকৃত এক হত্যা মামলায় তাহেরকে সামরিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় এবং ১৯৭৬ সালের ২১ জুলাই তাঁকে ফাঁসি দেয়া হয়।

২০১১ সালের ২২ মার্চ বাংলাদেশের মহামান্য হাইকোর্ট সামরিক আদালতে কর্নেল তাহেরের ফাঁসির রায়কে অবৈধ ঘোষণা করে। শ্রদ্ধাঞ্জলি।