
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ গত ১৮/০৯/২০২০ইং তারিখে দৈনিক জালালাবাদ পত্রিকা এবং কয়েকটি অনলাইনে “ওসমানীনগরে জামাই শ্বশুরের পাল্টা পাল্টি মামলা” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ করছেন ওসমানীনগর উপজেলার পশ্চিম রোকনপুর গ্রামের মোঃ শফিক আলী ও তার মেয়ে মোছাঃ লিলি বেগম।
এক যৌথ বিবৃতিতে তারা দাবি করেন যে, গত ১৮/০৯/২০২০ইং তারিখে দৈনিক জালালাবাদ পত্রিকায় জামাই শ্বশুরের পাল্টপাল্টি মামলা নামে প্রকাশিত সংবাদটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, অযৌক্তিক, কাল্পনিক, ভিত্তিহীন ও মানহানীকর।
লিলি বেগমের পিতাঃ শফিক আলী বলেন যে, আমি এবং আমার পরিবারের মানসম্মান নষ্ট করার জন্য টিটু মিয়া এই মিথ্যা সংবাদ সরবরাহ করেছেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করছি।
এ ব্যাপারে লিলি বেগম বলেন যে, আসলে প্রকৃত সত্য ঘটনা হলো টিটু মিয়ার সাথে প্রায় ৩ বছর পূর্বে আমার বিবাহ হয় এবং বিয়ের পরে টিটু মিয়া আমাকে আমার বাপের বাড়ীতে রেখে দুবাই চলে যান ও দীর্ঘদিন পরে বর্তমান করোনা কালীন সময়ে তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং আমাকে তাহার বাড়ীতে নিয়ে যান।
দেশে আসার পর ভিবিন্ন সময়ে আমাকে অযথা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন। সর্বশেষ গত ২৬/০৮/২০২০ইং সকাল অনুমান ৯ঘটিকার সময় আমার স্বামী টিটু মিয়া এবং তাহার বোন সুরিয়া বেগম আমাকে যৌতুক হিসাবে ৩লক্ষ টাকা আনার জন্য বলেন এবং আমি তাহা প্রদানে অস্বীকৃতী জানালে টিটু মিয়া লোহার পাত দিয়ে আমার বাম চোখের উপরে বাড়ী মারিয়া মারাত্মক রক্তাত্ত যখম করে এক পর্যায়ে তাহার বোন সুরিয়া বেগম আমার চুলের মুষ্টি ধরিয়া উপর যুপরি আমার বুকে পেটে লাথি, মুরকর, গুশি মারিতে থাকে এবং আমার ব্যবহৃত দেড়ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। এক পর্যায়ে আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। পরবর্তীতে আমার পিতা উপস্থিত লোকজনের সহায়তায় আমাকে উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেলে ভর্তি করেন।
এতদসংক্রান্তে ওসমানী মেডিকেলে চিকিৎসা শেষে আমি লিলি বেগম বাদী হয়ে টিটু মিয়া ও তাহার বোন সুরিয়া বেগম-কে আসামী করে সিলেটের মাননীয় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নারী শিশু মামলা নং-৩৩৬/২০২০ ইংরেজী দায়ের করি। উক্ত মামলা থেকে বাচঁার জন্য এবং ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে টিটু মিয়া এবং তাহার বোন পত্রিকায় মিথ্যা সংবাদ সরবরাহ করেন।
টিটু মিয়ার বক্তব্যে উল্লেখীত তাহার বাগীনি নাহিদা আক্তারের আত্মহত্যার ঘটনায় নিহত নাহিদা আক্তারের আপন চাচা ইলাছ হোসেন বাদী হইয়া ও নিহত নাহিদা বেগমের মাতা-পিতা স্বাক্ষী হইয়া টিটু মিয়ার পিতা অইছ উল্লাহ সহ ৮ জনের বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় সিলেটের মাননীয় সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যাহার নং- ১০৪/২০১৮ইং।
বিবৃতির একপর্যায়ে লিলি বেগম জানান যে, টিটু মিয়া বিদেশে যাওয়ার সময় আমার পিতার নিকট থেকে নগদ ২লক্ষ টাকা ধার নেন এবং বিদেশে থাকা কালীন অবস্থায় বরন পোষন বাবত আমাকে কোন টাকা পয়সা দেন নি। দেশে আসার পর আমার স্বামী টিটু মিয়ার আচার আচরনে আমি বোঝতে পারি যে, তাহার অন্য আরেকজন মেয়ের সাথে সম্পর্ক আছে এবং প্রায়ই তিনি মোবাইল ফোন এবং ইমোতে ঐ মেয়ের সাথে গোপনে কথা বলেন। টিটু মিয়া তাহার বক্তব্যে উল্লে করেন যে, তিনি আমার পিতার নিকট ৪ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা পান, যাহা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। মুলত আমার পিতার নিকট থেকে নেয়া ২লক্ষ টাকা ও আমার বরন পোষনের খরচাদি না দেয়ার জন্যই এমন ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বক্তব্য প্রদান করেছেন।
তাছাড়াও তাহার অরাধজনক কর্মকান্ডের ব্যাপারে স্থানীয়ভাবে অনেক বিচার পায়েত হয়েছে কিন্ত কোনো দিন ও সে আমার পিতার নিকট টাকা পাবে মর্মে কোনো দাবী করে নাই। কিন্ত অত্যান্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, উক্ত টিটু মিয়া ও তাহার বোন সুরিয়া বেগম নিজেদের অপরাধের দায় হইতে কৌশলে মিথ্যা প্রক্রিয়ায় ও অপরাধজনক কায়দায় নিজেদেরকে বাচানোর হীন উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ অলিক ও ভিত্তিহীন বক্তব্যের মাধ্যমে সংবাদপত্র দ্বারা আমার ও আমার পরিবারের মানসম্মান নষ্ট করিতেছে।
উল্লেখ্য যে, উক্ত টিটু মিয়া এখন পরোক্ষ ভাবে হুমকি দিতেছে যে, যদি আমি মামলা তুলে না আনি তাহলে কোর্টে যাওয়ার পথে আমাকে তোলে নিয়ে গুম করে দিবে। এহেন অবস্থায় আমি এবং আমার পরিবার চমর নিরাপত্তাহীন অবস্থায় দিন যাপন করিতেছি এবং সঠিক তদন্তের মাধ্যমে উক্ত টিটু মিয়ার দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবী করছি এবং তাহার মিথ্যা ও বানোয়াট বক্তব্যের জোরালো প্রতিবাদ করছি।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক -শেখ তিতুমীর আকাশ।
বার্তা প্রধান : মোঃ সেলিম উদ্দিন
ইমেইল: dailyswadhinbhasha@gmail.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.abhijug.com কর্তৃক সংরক্ষিত।