আব্দুল করিম,চট্রগ্রাম বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান :
বেইলি সেতুর লোহার পাটাতন ক্ষয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় ফাঁকা স্থান। দেখলে মনে হবে গ্রাম-বাংলার পুকুর, দিঘী বা ঝিলে মাছ ধরার বড় বড় ছিদ্র ওয়ালা জালের মত। এটি আসলে দুই ইউনিয়নের জনবহুল এলাকায় চলাচলের একমাত্র বেইলি সেতু। সেতুটির বর্তমান অবস্থা দৃষ্টে মনে হয় সেতুর উপর দিয়ে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, হাঁটতেও ভয় লাগবে। কখন পা পাটাতনের ফাঁকে ঢুকে আটকে কেটে যায়! এরকমই বেহাল অবস্থা শেখেরখীল এবং উপকূলীয় ইউনিয়ন ছনুয়ার সংযোগকারী গোরা নামক স্থানে ৪০ মিটার দীর্ঘ বেইলি সেতুটির। সেতুটির পুরো অংশ জুড়েই লাগানো লোহার পাটাতনগুলো ক্ষয়ে গিয়ে বড় বড় ফাঁকা অংশ তৈরি হয়েছে। ফাঁকা অংশে চাকা আটকে যাবে ভয় সেতুটিতে চলাচল করছেনা কোন অটোরিকশা, মোটর সাইকেল সহ সকল ধরণের ছোট যানবাহন। লোকজন হেঁটে সেতুটি ব্যবহারেও ভয় পাচ্ছেন, কখন ফাঁকা অংশে পা ঢুকে গিয়ে কেটে যায়। ইতিমধ্যে অসংখ্য মানুষ হেঁটে যাওয়ার সময় পা কেটে আহত হয়েছেন। বাদ যাননি নারী-শিশুও। তারপরও এত বিশাল মানুষের দুর্ভোগের চিত্রটির দিকে নজর পড়েনি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং উপজেলা প্রশাসনের।স্থানীয় লবণ চাষী আবুল কালাম বলেন, সেতুটির কাছেই আমার বাড়ি। নিজের প্রয়োজনে উপজেলা সদরে যেতে সেতুটি ব্যবহার করতে হয়। আগে সেতুটির উপর দিয়ে অটোরিকশা চলাচল করত। এখন সেতুর অপরপারেই অটোরিকশাগুলো দাঁড়িয়ে থাকে। যানবাহনগুলো সেতুর এ পারে না আসায় সেতুটি পার হয়ে যানবাহনে উঠতে হয়। আহত হবার ভয়ে রাতের বেলা কেউ সেতুটি ব্যবহার করেনা।
স্থানীয় সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক, বেলাল উদ্দিন বলেন, সেতু চলাচলের স্থানে বিশাল বিশাল ফাঁকা স্থান তৈরি হয়েছে। সেজন্য সেতুটি ব্যবহার করার মতো অবস্থায় নেই। ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি পার হতে গেলে অটোরিকশার চাকা ঢুকে আটকে থাকে। তখন লোকজন নিয়ে অটোরিকশা ঠেলে তুলতে হয়।ছনুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুনুর রশীদ বলেন, গত বছর এক লাখ টাকা খরচ করে সেতুটিতে লোহার পাটাতন লাগানো হয়েছিল। কিন্তু এক বর্ষা না যেতেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেছে সেতুটি। লবণাক্ত পানি হওয়ায় লোহা দ্রুত ক্ষয়ে যাচ্ছে। ছনুয়ার ২০ হাজার মানুষ সেতুটি ব্যবহার করে। রাতের বেলা সেতুটি পার হয়ে অসুস্থ রোগি হাসপাতালে নিয়ে যেতে বেশি সমস্যা হয়। সেতুটি স্থায়ী পাকা করা প্রয়োজন।
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ৪০ মিটার দৈর্ঘ্যের বেইলি সেতুটি ১৯৯৫ সালে তৈরি করা হয়েছিল। তিনমাসের বেশি সময় ধরে সেতুটি যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে আছে। সেতুটি স্থায়ী সংস্কারের জন ২৫ লাখ টাকার একটি বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। এছাড়া ছনুয়া ইউনিয়ন পরিষদের তহবিল থেকে অর্থ নিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই সেতুটি সংস্কার করা হবে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক -শেখ তিতুমীর আকাশ।
বার্তা প্রধান : মোঃ সেলিম উদ্দিন
ইমেইল: dailyswadhinbhasha@gmail.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.abhijug.com কর্তৃক সংরক্ষিত।